অনুমোদনহীন ক্লিনিক ভুয়া ডাক্তার নার্স টেকনিশিয়ান

176
অনুমোদন না নিয়ে অবৈধভাবে ক্লিনিক চালিয়ে ভুয়া চিকিৎসা দেয়ায় রাজধানীর আগারগাঁও এলাকার শাহজালাল জেনারেল হাসপাতালকে সিলগালা করেছে র‌্যাব-২। এ সময় তিন ভুয়া ডাক্তার এবং ভুয়া নার্সকে দুই বছর করে কারাদ- ও দুই টেকনিশিয়ানদের ছয় মাসের কারাদ- ও প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করেছে র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। কারাদ-প্রাপ্ত আসামি হলেন, হাসপাতালের মালিক ও ভুয়া চিকিৎসক সুজন দাস, সুমন পাল, মাসুম মৃধা, ভুয়া নার্স মিতু জয়ধর এবং ভুয়া টেকনিশিয়ান সুব্রত বালা, পঙ্কজ চন্দ্র দাস। গতকাল সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ২৭/১ পশ্চিম আগারগাঁও বিএনপি বাজারের ওই ক্লিনিকে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এএইচএম আনোয়ার পাশা এই জেল-জরিমানা করেন। এ সময় র‌্যাব-২-এর মেজর নাসির উদ্দিন আহমেদ এবং স্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রতিনিধি ডা. স্বপন কুমার তপাদার উপস্থিতি ছিলেন। ম্যাজিস্ট্রেট এএইচএম আনোয়ার পাশা জানান, জেনারেল হাসপাতালটির চিকিৎসক, নার্স ও টেকনিশিয়ান সবই ভুয়া। হাসপাতালের দায়িত্ব পালনকারী মূল ডাক্তার মাসুম এইচএসসি পাস করে অপারেশনসহ সব ধরনের রোগী দেখা ও প্রেসক্রিপশন লেখার কাজ করতো। অভিযানের সময় অপারেশনের ৮ জন রোগী ছিল। অভিযুক্ত ৬ জন মিলে তাদের চিকিৎসা প্রদান করছিলেন। তিনি জানান, সকালে অপারেশন থিয়েটারে ফজলুল হক নামে এক রোগীর পায়ের অপারেশন চলছিল। এ সময় হাসপাতালে কোন ডাক্তার ছিল না। হাসাপাতালের মালিক সুজন এবং তার চাচাত ভাই সুমন মিলে ফজলুল হকের পায়ের বেন্ডেজ কেটে প্লাস্টার করছিল। ফজলুল হকের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, পা ভাঙ্গার পর পঙ্গু হাসপাতালে গেলে দালালগণ এখানে নিয়ে আসে এবং অদক্ষ ব্যক্তিগণ তার পায়ের প্লাস্টার করেন এবং মাসুম প্রেসক্রিপশন প্রদান করেন। মিলন মোল্লা নামে এক রোগীকে ভুল চিকিৎসার কারণে হাঁটুতে ব্যথা ও ইনফেকশন হয়ে গেছে। ৬০ হাজার টাকা চুক্তিতে চিকিৎসা শুরু হয়েছে বলে জানান তিনি। ২ বছর বয়সী দিঘি খেলতে গিয়ে পায়ে ব্যথা পেয়েছেন। তার দরিদ্র বাবা বিক্রমপুর থেকে তাকে পঙ্গু হাসপাতালে নিয়ে আসেন। সেখান থেকে দালালরা তাকে এখানে এনে ভর্তি করে। দিঘির পায়ে প্লাস্টার করেন ভুয়া চিকিৎসকরা। একইভাবে শিশু দিঘি, নূরুল ইসলামসহ অন্যদের ভুল চিকিৎসা দিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে তারা।

ম্যাজিস্ট্রেট আনোয়ার পাশা জানান, ২০১৩ সালের জুন মাসে হাসপাতালটির অনুমোদন শেষ হয়ে যায়। পরে স্বাস্থ্য অধিদফতর অনুমোদন না দিলেও অবৈধভাবে হাসপাতাল চালিয়ে আসছিল। হাসপাতালের এক্সরে মেশিনটি অত্যধিক পুরোনো এবং পরমাণু শক্তি কমিশনের ছাড়পত্র নেই যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। টেকনিশিয়ান সুব্রত বালা, পঙ্কজ চন্দ্র ও মিতু জয় নার্স পরিচয়ে কাজ করলেও তার রেজিস্ট্রেশন নেই। মিতুর জয় মানবিক বিভাগে এসএসসি পাস করে নার্সিং ডিগ্রি ছাড়াই এখানে কাজ করছেন। প্রতি দশ বেডের হাসপাতালে তিনজন ডাক্তার, ছয়জন নার্স ও তিনজন সুইপার বাধ্যতামূলক থাকার কথা থাকলেও এখানে ৩ জন ডাক্তার, একজন নার্স ও ২ জন টেকনিশিয়ান পাওয়া যায়। তাও সবাই ভুয়া। তিনি আরও জানান, ডাক্তার পরিচয়ে সুজন মানবিকে এইচএসসি, সুমন মানবিক এসএসসি এবং মাসুম বিজ্ঞানে ২য় বিভাগে পাস করে প্রেসক্রিপশন লেখা ও অপারেশনের কাজ করছিলেন। অত্যন্ত নোংরা পরিবেশে অমানবিকভাবে প্রতারণপূর্ণ উপায়ে চিকিৎসা প্রদানের দায়ে এই তিনজনকে দুই বৎসর করে কারাদ- এবং অপর ভুয়া নার্স ও টেকনিশিয়ানদের ছয় মাসের কারাদ- ও প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। হাসপাতালটি গত তিন বছর যাবত এভাবে চলছিল বলেও জানান র‌্যাবের ম্যাজিস্ট্রট।