কৃত্রিম পেশী তৈরিতে বুনন পদ্ধতি

0
4

শারমিন রহমান-নিয়ন :

বুননের কাজ এখন শুধুমাত্র দাদি- নানিদের জন্য সীমাবদ্ধ নয়। বৈজ্ঞানিকরা এখন বুনন পদ্ধতি ব্যাবহার করে কৃত্রিম পেশী বানাচ্ছে, যেটি আমাদের পেশীর মতই নড়াচড়া করতে পারে। সাইন্স এডভ্যান্সেস এ প্রকাশিত খবর অনুযায়ী গবেষকরা একটি নতুন ধরনের বোনা কাপড় উদ্ভাবন করেছন। এটি টেক্সটাইল একচুয়েটর, বা টেকচুয়েটর হিসাবে পরিচিত, এটি এক ধরনের স্মার্ট ফ্যাব্রিক বা বুদ্ধিমান বোনা কাপড় যেটি একজন ব্যক্তির নড়াচড়া নিয়ন্ত্রন করতে সক্ষম।

সেলুলোস এক ধরনের ওরগানিক কম্পাউন্ড বা জৈব যৌগ যেটিকে গাছের সেল ওয়ালে পাওয়া যায়। এটি দিয়ে অনেক ধরনের জিনিস তৈরি করা যায়, যেমন প্ল্যাস্টিক, সুতির ফাইবার ইত্যাদি। বৈজ্ঞানিকরা এই সেলুলোস সুতাকে একটি বিশেষ ধরনের পলিমার, পলিপাইরোল দিয়ে ঢেকে দেন। এটি বিদুৎ এর সংস্পর্শে আসলে স্থান পরিবর্তন করে এবং প্রসারিত হয়।

গবেষণা করে বৈজ্ঞানিক টিমটি দেখে, যে বোনা স্মার্ট সূতাটি প্রবল শক্তিকে প্রতিরোধ করতে পারে এবং বুনন কৃত প্যাটার্নটি প্রসারিত হয়। নতুন এই প্রযুক্তিটি পরিক্ষা করার জন্য বিজ্ঞানিরা বুনন কৃত কাপড় দিয়ে একটি স্লিভ তৈরি করেন এবং লেগো দিয়ে তৈরি একটি লিভার আর্ম কে তা পরিয়ে দেন । টেক্সচুয়েটার এর মাধ্যমে আর্মটি খুব সহজে এবং মসৃন ভাবে নড়ে এমনকি এটি দুই গ্রামের একটি ওজন উত্তোলনে সক্ষম।

গবেষকরা বলেন যে, এমন প্রযুক্তির ব্যবহার কেবল মাত্র প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। তাদের ধারনা অনান্য পদার্থ্য ব্যবহার করে ফ্যব্রিকটির ক্ষমতাকে আরো বৃদ্ধি করা যাবে, যেমন লৌহজ পদার্থ্য, কার্বন ফাইবার, সুতা ইত্যাদি ব্যবহার করলে এটাকে আরো প্র্যাকটিকাল এবং এফিসিয়েন্ট করা সম্ভব হবে। কল্পনা করা হচ্ছে যে আগামীতে এই ফ্যব্রিকটি দিয়ে একটি এস্কোস্কেলিটন বডি সূট বানান যাবে যাতে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নড়াচড়া করা আরো সহজতর হয়। এটি এক ধরনের পরিধান যোগ্য প্রস্থেতিক জিনিসের মত হবে, যেটা যাদের হাঁটার সমস্যা রয়েছে তাদেরকে সাহায্য করবে। এমনকি ইডিমা বা বিভিন্ন কারণে হাত পা ফুলে যাওয়া কে রোধ করার জন্য টাইট্স, মোজা ও জামার হাতে বা স্লিভে এর ব্যাবহার করা হবে।আশা করা যাচ্ছে যে অদূর ভবিষ্যতে এই কৃত্রিম পেশি মানুষের উপকারে আসবে।

শারমিন রহমান-নিয়ন
(ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত)

 

ভিডিওটি দেখুন :