চলছে ফিজিওথেরাপি অ্যাডমিশন: ভর্তিচ্ছুদের জন্য কিছু তথ্য

0
79

ইদানীং একটা প্রশ্ন বা কনফিউশন নিউ কামার‘স দের মধ্যে ব্যাপক ভাবে লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ফেসবুকে গেলেও ইন বক্স-এ দেখি একই প্রশ্ন। প্রশ্নগুলো অনেকটা এরকম –
১. ফিজিওথেরাপি কি? ২. এটার ভবিষ্যৎ কি রকম? ৩. জব সেক্টর কিরকম……………এই রকম আরও নানা প্রশ্ন। এই বিষয় টার উপর ভিত্তি করেই লিখাটির উদ্যোগ, এতে নতুন দের জন্য সামান্যতম হলেও কনফিউশন দূর হবে বলে আশা করি।

প্রথমেই বলে রাখি ফিজিওথেরাপি বাংলাদেশে নতুন হলেও আসলে এটা অতি প্রাচীন একটা চিকিৎসা পদ্ধতি। সেই দিক দিয়ে এই চিকিৎসাসেবা নিয়ে যেমন অনেকগবেষনা হয়েছে ঠিক তেমনি হয়েছে অনেক রিসার্চও। রিসার্চ আর গবেষণা করে করে এই চিকিৎসাপদ্ধতিটি কখনও ব্যাকডেটেড হয়নি বরং হয়েছে আরও আধুনিক। তাই দেশকে আধুনিক আর ডিজিটালাইজড করার স্বার্থে সরকারও এই সেবা কে এড়িয়ে যেতে পারেনি আর এ জন্যই দেশে এর নতুন আগমন।

বাংলাদেশে সরকারী আর বেসরকারিভাবে মোট ৬ টি প্রতিষ্টানে বিএসসি ফিজিওথেরাপি পড়ার সুযোগ রয়েছে। যার মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত ৫টি আর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত ১টি (সরকারী) প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এখানে পড়তে চাইলে যোগ্যতা হিসেবে লাগবে – ১. জেনারেল (যারা এইচএসসি পাশ) তাদের ক্ষেত্রে এমবিবিএসেরসমান যোগ্যতা, অথবা ২. ফিজিওথেরাপিতে ৪ বছরের ডিপ্লোমা পাশ। ছাত্র ছাত্রী ভর্তির ক্ষেত্রে তাদের অ্যডমিশন টেস্ট দিতে হবে (বিশেষ করে সরকারি প্রতিষ্ঠানের জন্য) । অ্যাডমিশনেরপ্রশ্নপত্র জেনারেল আর ডিপ্লোমাদের জন্য আলাদা আলাদা ভাবে সরবরাহ করা হয়। ভর্তি ফরম বিগত বছর গুলোতে ১০০০ – ১৫০০ টাকা এর মধ্যে রাখা হয়েছিল। এ বছর কিছুটা কম বা বেশিও হতেপারে।

এবার আসা যাক চান্স পাওয়ার পরের কথায়। এখানে চান্স হলেতাকে প্রায় ৪০,০০০ থেকে ৮০,০০০ হাজার টাকা (টাকার পরিমান কলেজ গুলোর উপর নিভর করে ) দিয়ে ভর্তি হতে হয় । এছাড়া মাসিক বেতন ৩,০০০ থেকে ৬,০০০হাজার টাকা যেটাও কলেজ গুলোর উপর নিভর করে । তবে সরারি কলেজ গুলোতো ভর্তির পর তেমন কোন টাকা প্রতিষ্ঠানকে দিতে হয় না। এখানে ভর্কিকৃত ছাত্র ছাত্রীদের থাকা-খাওয়া, বই কিনা ইত্যাদি কাজের জন্য প্রতিষ্ঠান কোন খরচ বহন করবে না। খুব ভাল ফলাফল করলেও এখন পর্যন্ত এই কোর্সে কোন বৃত্তির ব্যবস্থা নাই তবে প্রাইভেট কলেজগুলে মাঝে মাঝে দিয়ে থাকে । প্রতি ইয়ারেই রয়েছে প্রায় ১০ থেকে ১৩ টা মত সাবজেক্ট। অর্থাৎ এখানকার কোন শিক্ষার্থীকে এমবিবিএসদের চাইতে কোন অংশে কম পড়তে হয় না । ১০-১৩ টা বিষয়ের মধ্যে প্রত্যেক ইয়ারেই রয়েছে ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিস(সরকারী হাসপাতালে)। শেষের বছরগুলোতে আছে রিসার্চ আর থিসিসের মত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও।আর চার বছর একাডেমিক ইয়ার শেষ করার পর, আরও ১ বছর রয়েছে ইন্টার্নিশিপ ট্রেনিং। এই মোট৫ বছরের অধ্যয়ন। পাশ ফেল আর নাম্বার বণ্টনের ক্ষেত্রে রাজশাহী আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে।

এইবার পাশ করার পরের কথা। আপনি ফিজিওথেরাপিতে বিএসসিকোর্সের পড়ালেখা শেষ করলে আপনি হবেন একজন ফিজিও বা ফিজিওথেরাপিস্ট। অবশ্যই আপনাকে মনেরাখাতে হবে পাশ করার সাথে সাথে আপনি হবেন ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ারদের মতই একজন প্রফেশনাল গ্রাজুয়েট। এই কোর্সে পাশ করার পরই কেবল একজন প্রফেশনাল গ্রাজুয়েট ধারী নিজেকে ফিজিও বা ফিজিওথেরাপিস্ট হিসেবে উপস্থাপন করতে পারেন। এটা কোন টেকনোলজি কোর্স নয়, তাই অন্যান্য টেকনোলজী কোর্সর সাথে এটাকে গুলিয়ে ফেলার কোন মানে হয় না। আরেকটি বিষয় অনেকের কাছে অস্পষ্ট থাকতে পারে সেটা হল যারা ডিপ্লোমা পাশ করেছেন ফিজিওথেরাপির উপর তারা তাহলে কি? শুধুমাত্র ফিজিওথেরাপির উপর ডিপ্লোমা কেউ করলে তাদের কে বলা হয় – ফিজিওথেরাপি অ্
যাসিস্ট্যান্ট।বর্তমানে বাংলাদেশে ফিজিওথেরাপি অ্যাসিস্ট্যান্টদের জন্য পোষ্ট থাকলেও ফিজিওথেরাপিষ্টদেরজন্য এখনও কোন পোষ্ট তৈরি হয় নাই। তবে হতাশার কোন কারণ নাই পোষ্ট অতি শীঘ্রই তৈরি হবার পথে। একজন ফিজিও নিজেকে ডাক্তার হিসেবেও উপস্থাপন করে প্রাইভেট প্রাকটিস করতে পারেন।এছাড়াও দেশে আর দেশের বাইরে রয়েছে প্রচুর কাজের সুযোগ। দেশে বিভিন্ন এনজিও, প্রাইভেট প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল বা ক্লিনিকে আপনি ১ম শ্রেণীর সমমানের বেতন ভুক্ত জব করতে পারেন।বর্তমানে এখানে পড়ছেন এমনও অনেক জন আছেন যারা বিভিন্ন নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের নামকরা সাবজেক্ট বাদ দিয়ে এখানে এসে পড়ছেন। আপনি কোন বেকার ফিজিও দেখাতে পারবেন না। কিন্তু এমন অনেক ডাক্তার দেখবেন যারা এখনও বেকার। বাইরেও এর শুধু চাহিদাই নয় বরং বারছে ডিমান্ডও।


ধন্যবাদ।
Md Gausul Azam