ভার্চুয়াল রোগীর ওপর চিকিৎসা!

38

 

চিকিৎসার আগেও চিকিৎসা করা যেতে পারে। কিন্তু আগের এ চিকিৎসা বাস্তবের কোনো রোগীর নয়। কম্পিউটারে করা হবে এ চিকিৎসা। যেটাকে ‘ভার্চুয়াল ট্রিটমেন্ট’ পদ্ধতি বলা হয়।

 

মূল চিকিৎসায় কাজ না হলে বা মারাত্মক পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে রোগীর জীবনও বিপন্ন হতে পারে বিধায় চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা আগাম প্রতিরক্ষামূলক এ পদ্ধতি নিয়ে গবেষণা চালাচ্ছেন। গবেষকরা মনে করছেন, রোগীর ওপর সরাসরি চিকিৎসায় না গিয়ে তার ‘ভার্চুয়াল’ মডেলের (শরীর) ওপর আগেভাগে পরীক্ষা চালাতে পারলে সেই বিপদের মাত্রা অনেকখানি কমে যেতে পারে। ডয়চে ভেলে।

 

অপারেশন আসল রোগীর শরীরেই করা হয়। তবে বর্তমান দুনিয়ায় বিজ্ঞানের কল্যাণে অপারেশন থিয়েটারে বাকি সবই ক্রমশঃ ডিজিটাল প্রযুক্তির আওতায় চলে আসছে৷ রোগীর ছবি, তার বিষয়ে নানা তথ্য পাঠানো হয় ওটি-র কম্পিউটারের মধ্যে৷ বাকি কাজেও প্রযুক্তির প্রয়োগ বাড়ছে৷

 

আজকের চিকিৎসাশাস্ত্রে ডিজিটাল তথ্য ছাড়া চলেই না৷ রোগ শনাক্ত করার ক্ষেত্রে এমন হাইটেক যন্ত্রের প্রচলন বেড়ে চলেছে, যা মানুষকে তথ্য ও ছবিতে রূপান্তরিত করে৷ রোগীর ছবি ও ডিজিটাল পদ্ধতির ফলে আরও তথ্যবহুল হয়ে উঠছে৷

 

গবেষক আইকে ভেনৎসেল বলেন, ‘‘অর্থাৎ শেষ পর্যন্ত আমরা রোগীদের ক্ষেত্রে ডিজিটাল পদ্ধতিকে এমন এক পর্যায়ে নিয়ে আসছি, যাতে তার সম্পর্কে অসংখ্য তথ্য সংগ্রহ করা যায়৷”

 

বিজ্ঞানীরা টিউমার থেকে তথ্য সংগ্রহ করছেন, যেমন ডিএনএ৷ রোগীর জিন ও মেটাবলিজম সংক্রান্ত তথ্যও ডিজিটাল তথ্যভাণ্ডারে পাঠানো হয়৷ তা দিয়ে রোগীর শরীরের এক ভার্চুয়াল মডেল তৈরি হয়৷ বার্লিনের মাক্স প্লাংক ইন্সটিটিউটের হান্স লেয়ারলাখ বলেন, ‘‘আরও দ্রুত, আরও নিরাপদ, আরও সহজে সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে আমাদের হাতে সত্যি এক মূল্যবান অস্ত্র এসেছে৷”

 

গবেষকরা রোগীর এই ভার্চুয়াল মডেলের উপর নানা রকম ওষুধ পরীক্ষা করে দেখছেন৷ রং যত নীল হয়, ওষুধের কার্যকারিতা তত বেশি৷ এই প্রযুক্তি সাধারণ রোগীর উপযোগী হয়ে উঠতে আরও সময় লাগবে৷ তখন প্রত্যেক মানুষের এমন ভার্চুয়াল ছবি তোলা যাবে৷ এমনকি ভবিষ্যতে রোগীর রোবোট প্রতিমূর্তি তৈরি করার স্বপ্নও দেখছেন গবেষকরা৷

 

মানুষের মস্তিষ্কও কম্পিউটারে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চলছে। এভাবেই গবেষকরা মগজকে বুঝতে চান। যাতে একটি সুপার কম্পিউটার মানুষের মগজের প্রতিটি স্তর পড়ে ফেলবে৷ মানুষের মগজের নিখুঁত, ত্রিমাত্রিক ছবি তোলা হবে৷ আজকের কম্পিউটারের ক্ষমতা এখনো সে পর্যায়ে পৌঁছায় নি৷ ভবিষ্যতে এই প্রকল্প শেষ হলে চিকিৎসাবিদ্যার ক্ষেত্রে বিশাল অগ্রগতির আশা করছেন গবেষকরা।

 

মস্তিষ্ক গবেষক কাটরিন আমুন্টস বলেন, ‘‘আমি শুধু কাঠামো কী, তা বুঝতে চাই না৷ সেগুলির কাজ আমি জানতে চাই৷ তবে আমরা এটুকু জানি যে মস্তিষ্কের কোনো অংশের শিরা-উপশিরা দেখলে তার কাজও বোঝা যায়৷”