মস্তিষ্কের প্রয়োজনীয় অংশটাই নেই, তবু সুস্থ মহিলা, বিস্মিত চিকিত্সক মহল

0
51
সারা দিন ধরে গা-বমি ভাব, আর মাঝে মধ্যেই বমি হচেছ৷ এই উপসর্গ নিয়েই হাসপাতালে গিয়েছিলেন ফেং ইউ৷ তাঁর সিটি  স্ক্যান ও এমআরআই রিপোর্ট দেখে চোখ ছানাবড়া হয়ে যায় চিকিত্সকদের৷ এ কি? মহিলার মাথায় যে মস্তিষ্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ‘সেরিবেলাম’-ই নেই৷ যা কিনা, মানুষের চলাফেরা, কথ বলা-সহ বিভিন্ন্ পেশি ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গকে নিয়ন্ত্রণ করে৷ সে না- হয় জন্মগত ত্রূটির কারণে নাই থাকল, কিন্ত্ত মহিলা দিব্যি চলে, হেঁটে সুস্হ মানুষের মতো জীবনযাপন করছেন কী করে? শুধু তাই নয় তাঁর একটি ফুটফুটে সন্তানও হয়েছে৷
চিকিত্সকেরা তাঁদের ইতিহাস ঘেঁটে এমন ঘটনার নজির বের করতে পারেননি৷ তাঁদের মাথাতেই ঢুকছে না, ‘সেরিবেলাম’ ছাড়া একজন মহিলা কীভাবে আর পাঁচটা সাধারণ মানুষের মতো জীবন কাটাচেছন?
চিকিত্সা বিজ্ঞানের এই ‘মির্যাকেল’ ঘটনা প্রকাশিত হয়েছে একটি সায়েন্স জার্নালে৷ চিনের সাংদাং প্রদেশে একটি মিলিটারি হাসপাতালে সহকর্মীকে নিয়ে চিকিত্সার জন্য গিয়েছিলেন ফেং ইউ৷ ফেং ইউ-এর সহকর্মী জানিয়েছেন, হাঁটতে সামান্য অসুবিধা আর revive new addবলার সময় একটু কথা জড়িয়ে যাওয়া ছাড়া অন্য কোনও সমস্যা নেই ফেং-এর৷
যা দেখে অবাক চিকিত্সকরা৷ তাঁরা জানাচেছন, অনেকেরই জন্মের সময় মস্তিষ্কে বিকাশ অসম্পূর্ণ থাকে৷ সেরিবেলাম গঠিতই হয় না৷ কিন্ত্ত শৈশব থেকেই তাঁদের মধ্যে বিস্তর সমস্যা থাকে৷ বলা চলে, তারা মানসিক প্রতিবন্ধী বলে গন্য হয়৷ স্ক্যান রিপোর্টে দেখা গিয়েছে, সেরিবেলামের স্হানে ফেং-এর মস্তিষ্কে রয়েছে একটি ছোট গর্ত৷ সেখানে রয়েছে  সেলেব্রো-স্পাইনাল ফ্লুইড৷
এই সেরিবেলাম উত্তেজনা গ্রহন, তাতে সাড়া দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করে৷ হাঁটাচলা, কথা বলা সবই সেরিবেলাম দ্বারা নিয়ন্ত্রিত৷ যেমন কোনও মানুষ খাচেছ৷ খাবার হাতে তোলা, মুখে ঢোকানো, চিবানো থেকে গেলা, সমস্ত কাজেই পেশিগুলিকে সাহায্য করে সেরিবেলাম৷ কিন্ত্ত মহিলার ক্ষেত্রে কীভাবে উত্তেজনা গ্রহণ ও তাতে সাড়া দেওয়ার কাজটা হচেছ সেটাই বুঝে উঠতে পারছে না চিকিত্সকরা৷ সে কারণেই, এটা হয়ে উঠেছে তাঁদের গবেষণার অন্যতম বিষয়৷
ফেং ইউ-এর অতীত সমন্ধে জানিয়েছেন তাঁর মা৷ এখন ফেং-এর বয়স ২৪৷ ফেং চার বছরে হাঁটতে শেখে৷ ছয় বছরে কথা বলে৷ তবে তিনি কখনও স্কুলে যাননি৷
নর্থ শোর ইউনিভার্সিটি হাসপাতালের চেয়ারম্যান চিকিত্সক রাজ নারায়ণ গোটা বিষয়টি শুনে বলেন, শিশ যখন কোনও অস্বাভাকিত্ব নিয়ে জন্মায় বা শৈশবে তার  কোনও একটি প্রয়োজনীয় শারীরিক অংশ নষ্ট হয়ে যায়, তখন বাদ বাকি শারীরিক অংশ, প্রত্যঙ্গ ও অঙ্গ চেষ্টা করে সেই কাজটা পূরণ করার৷ এই মহিলার ক্ষেত্রে কী হয়েছে, তা অবশ্য তাঁর পক্ষে না পরীক্ষা করে স্পষ্ট করে বলা সম্ভব নয়৷