মাথা ঘোরা রোগে ফিজিওথেরাপি

0
7
Print

মাতা ঘোরা বা ভার্টিগো আমাদের দেশে বর্তমান সময়ে বেশ আলোচিত একটি সমস্যা। মাথা ঘোরা যদি কারো অনুভূতিতে মনে হয় নিজেই ঘুরছেন, আবার কারো মনে হয় চারপাশের সবকিছু নিয়ে ঘুরছে। এখন দেখব আসলে ভার্টিগো বা মাথা ঘোরা কী?

আমাদের অন্তঃকর্ণের ভেস্টিবুলার অংশ শরীরের সঙ্গে পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখে। এ কাজের যাবতীয় তথ্য স্নায়ুর মাধ্যমে মস্তিষ্কে পৌঁছায়। প্রতি মুহূর্তে প্রতি ভঙ্গিমায় শরীর এ ভারসাম্য রক্ষা করে চলে। এ ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ায় সামান্য সমস্যা হলেই ভারসাম্য নষ্ট হয়। তখনই মাথা ঘোরে।

কারণ

ঘাড়ের সমস্যা, ঘাড়ের আঘাত, স্পন্ডাইলোসিস, রক্ত চলাচলে বাধা, মস্তিষ্কের সমস্যা, যেমন-মাথায় আঘাত বা পেট্রাস হাড়ের ক্ষতি, জোরে ঝাঁকুনি, স্ট্রোক, টিউমার, মাইগ্রেন ইত্যাদি।

মাথা ঘুরলে

কান পরীক্ষা করতে হবে।

চোখ পরীক্ষা করতে হবে।

ঘাড়ের এক্সরে অথবা এমআরআই করতে হবে।

মিনিয়াস রোগে কানের ভেতরে শোঁ শোঁ বা দপদপ শব্দ হয়। বিনাইন পজিশনাল ভার্টিগো হলে মাথা বা ঘাড়ের অবস্থান পাল্টালে বা পজিশন পরিবর্তন করলে মাথা ঘোরে।

রক্তচাপের পরিবর্তনের জন্য বসা থেকে উঠে দাঁড়ালে মাথা ঘোরে।

চিকিৎসা

প্রাথমিকভাবে একজন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে।

ভার্টিগো ক্ষেত্রে ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ঘাড়ের সমস্যার ক্ষেত্রে ভার্টিগো একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এ ক্ষেত্রে একজন বিশেষজ্ঞ ফিজিওথেরাপি চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করা উচিত। তিনি ঘাড়ের সমস্যা নির্ণয় করে ব্যায়াম ও ইলেকট্রো থেরাপি প্রয়োগের মাধ্যমে সেবা দেবেন।

কী করবেন?

ঘাড়ের জন্য নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যায়াম ও ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা নেওয়া।

রক্তচাপ মাপুন ও উচ্চরক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করুন।

হাঁটার সময় মাথা ঘুরলে, বসে বিশ্রাম নিন।

ঘাড়ের রক্তনালিতে চর্বি জমে রক্ত চলাচল ব্যাহত হয়। তাই তেল-চর্বি কম খাবেন।

লেখক : কনসালট্যান্ট, ফিজিওথেরাপিস্ট, ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল, মতিঝিল, ঢাকা। মোবাইল : ০১৯১২৩১০৯৩০