মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের আমরন অনশনের ৮ম দিনেও সারা মেলেনি সরকারের

47

প্রদীপ চন্দ্র দাসঃ
দাবি আদায়ে শবেবরাতের ছুটির দিনেও জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অনশন অব্যাহত রেখেছেন মেডিকেল টেকনোলজির শিক্ষার্থীরা। তাদের মধ্যে অনেককে স্যালাইন দিয়ে রাখা হয়েছে। এ ছাড়া অসুস্থ হয়ে পড়ায় চিকিৎসার জন্য আজকে ২৯ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গত সাতদিনে আরো ৭২জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এদিকে শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে আগামী ২৮মে থেকে দেশের সব সরকারি হাসপাতালে লাগাতার কর্মবিরতি পালনের ঘোষণা দিয়েছেন হেলথ টেকনোলজিস্টরা । সোমবার অষ্টম দিনের মতো বাংলাদেশ মেডিকেল টেকনোলজি অ্যান্ড ফার্মেসি স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন- বিএমটিপিএসএ ব্যানারে অনশন করছেন শিক্ষার্থীরা। বিএমটিপিএসএ সদস্য সচিব মো. হেদায়েতুল ইসলাম ফিজিওনিউজকে দুঃখ প্রকাশ করে বলেন,১০ দফা দাবি আদায়ে গত ১৬ মে থেকে আমরা জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আমরণ অনশন কর্মসূচি পালন করছি। কিন্তু ৮ম দিনেও সরকারের কাছ থেকে কোনো প্রকার সারা পাইনি। আমাদের দাবি মেনে না নেয়া পর্যন্ত আমরা রাজপথ ছাড়বো না। তিনি জানান, এ পর্যন্ত শতাধিক অনশনরত শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। শুধু আজকেই ২৯ জন ও শুক্রবারেই ২২ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বৃষ্টিতে ভিজে ৮-১০ জন শ্বাসকষ্টজনিত রোগে ভুগছেন। তাদের আজ হাসপাতালে পাঠানো
হয়েছে। এদিকে মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের জাতীয় দাবি বাস্তবায়ন পরিষদের পক্ষ থেকে ২৭ মে পর্যন্ত আল্টিমেটাম দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১০ দফা দাবি মেনে না নিলে ২৮মে থেকে সব সরকারি হাসপাতালে কর্মবিরতি পালন করবেন। শনিবার প্রচণ্ড বৃষ্টিতে পুলিশ আমাদের পলিথিন ছিড়ে ফেলে। তারপরও আমরা কর্মসূচি থেকে সরে যাইনি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে। অনশনরত এক শিক্ষার্থী মাহমুদ নোমান ফিজিওনিউজকে বলেন আমরা মেডিকেল টেকনোলজিস্টরা চিকিৎসা বিজ্ঞানের গুরুত্ত্বপুর্ন দায়িত্ত্ব ও কাজ করে থাকি । আমাদের সে ভাবে মুল্যায়ন করা হয় না , দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ঘরে ফিরবো না। মেডিকেল টেকনোলজি ও ফার্মাসী বিভাগটি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে হলেও শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রেক্ষিতে এখনো পর্যন্ত মন্ত্রণালয়ের টনক নড়েনি। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের কাছে জানা যায়, আট দিনেও তাঁদের কাছে আসেনি কেউ। শিক্ষার্থীদের ১০ দফা দাবীর মধ্যে রয়েছে, অবৈধ ডিপ্লোমা মেডিকেল টেকনোলজি ও ফার্মেসী কোর্স পরিচালনা বন্ধ করা। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ ‘শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষাবোর্ড স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কে পাশকাটিয়ে বেসরকারি পর্যায়ে ২০০৬ সাল থেকে শুধুমাত্র বাণিজ্যিক দৃষ্টিকোণে হাজার হাজার ভুয়া মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্ট তৈরি করছে। যেখানে মানবিক বিভাগ থেকে এসেও শিক্ষার্থীরা ভর্তি হয়। যার ফলে রোগীদের সঠিক রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা সেবায় জটিলতা বৃদ্ধিপাচ্ছে’। তাঁদের দাবীর মধ্যে আরো রয়েছে, সরকারী চাকুরীতে পদমর্যাদা ১০ম গ্রেডে উন্নীত করা, একই সাথে WHO (ওয়ার্ল্ড হেলথ অরগানাইজেসন) কর্তৃক প্রদত্ত নীতিমালা অনূযায়ী নতুন পদ সৃষ্টি করা। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টদের সার্বিক কার্যক্রম ও যোগাযোগের সুবিধার্থে স্বতন্ত্র উইং চালুসহ মোট ১০ দফা দাবি আদায়ে আজ রাস্তা নেমেছে তাঁরা। উল্লেখ্য, বাংলাদেশ মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্ট তৈরির জন্য সরকারি পর্যায়ে ৮টি প্রতিষ্ঠান (ঢাকা, রাজশাহী, বগুড়া, বরিশাল, রংপুর, সিলেট, চট্রগ্রাম, ঝিনাইদহ) এবং বেসরকারি পর্যায়ে ১০৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। যেখানে ৪ বছর মেয়াদী ডিপ্লোমা-ইন মেডিকেল টেকনোলজি ও ফার্মেসী কোর্স পরিচালনা করা হয়।