সুস্থ নববর্ষ, শুভ নববর্ষ

93

আসছে পহেলা বৈশাখ। আসছে বাঙালীর প্রানের উৎসব। কি করবেন, কেমন সাজবেন, কোথায় ঘুরবেন সব ঠিক করে ফেলেছেন নিশ্চয়ই। সকালে পান্তা ইলিশ, রমনা, চারুকলা, তারপর বিকেলে বন্ধুদের সাথে বেরোবেন ভাবছেন, পেটটা গুড়গুড় করে উঠলো…ব্যাস, প্ল্যানটাই মাটি। তাই সারাদিনের আনন্দ যাতে একটুও ম্লান না হয় তার জন্য সুস্থ থাকা খুব জরুরী।

পহেলা বৈশাখের খাবার থেকে শুরু করে সারাদিনের ঘোরাঘুরি সবই আমাদের রোজকার রুটিনের থেকে আলাদা। এতে শরীরের উপর যে ধকল পড়ে তাতে পেটের সমস্যা হওয়া বিচিত্র কিছু নয়। হতে পারে পেট ব্যথা, বুক জ্বালা করা, পেট ফাঁপা, বমি বমি বা অস্বস্তিভাব, অরুচি, মুখে টক ভাব, এমনকি ডায়রিয়া। তাই বলে শুকনো মুখে বাসায় বসে থাকতে হবে তা নয়। বৈশাখের গরম, ভীড়, হাঁটাহাঁটি আর খাওয়া দাওয়া সবকিছুর মধ্যে ব্যালেন্স করে নিজেকে ভালো রাখতে প্রয়োজন শুধু একটু সাবধানতা –

  • নববর্ষে পান্তা ইলিশ না হলে চলে না। কিন্তু যদি আপনার এসিডিটির প্রবণতা থাকে, তবে ঝাল ভর্তাগুলো না হয় নাই খেলেন বা কম খেলেন।
  • তাড়াহুড়ো করে খাবেন না। ধীরে সুস্থে ভালো করে চিবিয়ে খান। আর খাওয়ার শেষে পানি কম খাবেন।
  • খেয়েদেয়ে সাথে সাথেই হাঁটতে বেরোবেন না। অন্তত আধঘন্টা বসুন। সবাই একসাথে জমিয়ে আড্ডা দিন, তারপর বেরোন।
  • তৃষ্ণা মেটাতে সাথে রাখুন বিশুদ্ধ পানির বোতল, কিংবা ঘরে বানানো শরবত। বাইরে বিক্রি হওয়া আখের রস বা লেবুর শরবত এগুলো বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই অস্বাস্থ্যকর।
  • সারাদিনের ক্লান্তি ভুলতে চা কফি কম খাওয়াই ভালো হবে এদিন। ক্যাফেইন পেটের অস্বস্তিভাব আরো বাড়িয়ে দিতে পারে।
  • হাতব্যাগে ছাতা, পানির বোতলের সাথে খাবার স্যালাইন আর এন্টাসিড রাখুন। বেশি ঘাম হলে স্যালাইন পানি খাবেন এবং বুক জ্বালাপোড়া করলে এন্টাসিড ট্যাবলেট খাবেন।
  • ধূমপান এড়িয়ে চলুন। আপনার পেট ভালো থাকবে, আর অন্যের বিরক্তির কারণও হতে হবে না।
  • তীব্র পেট ব্যথা, বমি, শ্বাসকষ্ট বা মাথা ঘোরা এসব দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন।

নববর্ষ বাঙালি জাতির কাছে এক বিশেষ আবেগের দিন। পুরনো বছরকে ভুলে নতুনের আহ্বানে,নতুনের রঙে নিজেদের রঙিন করার দিন। তাই এই দিনটিতে নিজেকে ভালো রাখুন, সবাইকে নিয়ে ভালো থাকুন আর উৎসবে মেতে উঠুন।