অটিজম শিশুরা করুণা চায় না চায় শুধুই নাগরিক অধিকার

0
60

তসলিমউদ্দিন চৌধুরী : মানুষ সামাজিক জীব। জীবন ধারণের প্রয়োজনে, সুষ্ঠ সুন্দর পরিবেশে বসবাস করার অধিকার। এই লক্ষ্যে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার, বিভিন্ন ধর্মলম্বী মানুষ একত্রে বসবাস করার তাগিদে সমাজ গড়ে তোলে। সেই সমাজের বা গোটা দেশের যথাতথার অটিজমে আক্রান্ত শিশু ও পরিবার গুলোর নিরাপদে বসবাস করার অধিকার রয়েছে। বিশ্বায়নের যুগে অটিজম শব্দটির যেভাবে বিস্তার ঘঠেছে বা পরিচিতি ঘটেছে, সেভাবে শিশুঘুলো বা পিরিবার গুলোর সমাজে গ্রহণ যোগ্যতার বা পরিবার গুলোর প্রতি সমাজের মানুষের দ্বায়িত্ব বোধের হিসাব এই যুগে কষতে গেলেও তার ফলাফল শূন্য। একই সমাজ থেকে অটিজম পরিবারগুলো কতটা অসহায় বোধ করে, কতটা নিগৃহিত হয় তা ভুক্তভোগী পরিবার গুলোই সবচেয়ে বেশী উপলদ্ধি করতে পারে।
সমাজের বসবাস করার ক্ষেত্রে অধিকারের প্রশ্নে পরিবার তথা শিশুটির সাথে অন্য পরিবার বা অন্য শিশুকে কিভাবে বৈষম্যের শিকার হতে হয়, তার কিছু উদারহারণ দিয়ে বোঝানোর সামান্য চেষ্টা করছি। যেমন:
আমাদের চারপাশে প্রায় প্রতিদিন বিয়ে হয়, বিভিন্ন আরও সামাজিক অনুষ্ঠান, পারিবারিক অনুষ্ঠান ইত্যাদি হয়। এই কারণে কেউ কেউ সমাজের মানুষের সমস্যার তোয়াক্কা না করে রাত দিন আনন্দ উৎসব করে। এতে কারও বাচ্চার এস.এস.সি. বা পি.এস.সি. পরীক্ষা গোল্লায় যাক, কোন হার্টের পেশেন্ট বা সদ্য জন্মানো শিশুর ঘুম হারাম হোক, এই কাজগুলো অমুক সাহেব বা তমুক সাহেব করতেই পারেন। কারণ, এটা তাদের নাগরিক অধিকার। কেউ মাসব্যাপী বাড়ির কাজ করতে পারেন, ডিপ টিউব ওয়েল বসাতে পারেন, রাত করে হর্ণ বাজিয়ে ঘরে আসতে পারেন।
আরও অনেক অনেক মানুষের ব্যাঘাত ঘটানো কাজ সমাজে করা যায়। আমরা সামাজিক মানুষরা কেউ কিছু বলব না। কারণ, সমাজ এগুলো সহ্য করে। এবঙ সহ্য করেহ সমাজ থাকতে হয়। এটাই সত্য, চির সত্য। কিন্তু অটিজম শিশুগুলো আচরণগত কিছু সমস্যা থাকার ফলে বা তারা রাগ, অভিমান, দুঃখ, ব্যথা আনন্দ ইত্যাদির বহিঃপ্রকাশ গুছিয়ে করতে পারেনা বলে, তাদের দ্বারা মাঝে মাঝে সৃষ্ট কর্মকাণ্ড সমাজের মানুষের অসুবিধা হতে পারে। এইক্ষেত্রে অটিজম শিশুটি বা পরিবারটির বিন্দুমাত্র ইচ্ছাকৃত অসুবিধা সৃষ্টির প্রয়াস থাকে না। বিবেকবান মানুষরা ১০০% সুস্থ হওয়া সত্তেও নাগরিক অধিকার খাটিয়ে সমাজে তাদের প্রয়োজন মিটিয়ে নিচ্ছে। কন্তিু অটিজমদের এই নাগরিক অধিকারের ক্ষেত্রে সমাজের মানুষ কেন অভ্য¯ত্ত হবেনা? আল্লাহর পদত্ত এই বিশেষ শিশুগুলোকে নিয়ে পরিবারগুলো মানসিকভাবে অনেক বেশী দুর্বল থাকে, উপর্যুপ সমাজের প্রশ্নবিদ্ধ চাহনী তাদের অন্য সবার সব কিছু করার অধিকার থাকলে শিশুগুলোর সাময়িক অনুবিধা কেন এত বেশী করে কোনো কোনো মানুষকে পীড়া দেয়?
অটিজম দিবসে সমাজের মানুষের প্রতি আহবান থাকবে, দয়া করে এই শিশুগুলোকে পরিবারগুলোকে সমাজর অংশ হিসাবে নিয়ে পরিবারগুলোর মনোবল বৃদ্ধিতে সহায়তা করুন। দুচারটি করুণার বাণি নয় বরং যে যার সমর্থ্য অনুযায়ী জ্ঞান দিয়ে, ভালবাসা দিয়ে, সহানুভূতি দিয়ে, অর্থ দিয়ে পরিবারগুলোর চলার পথকে সুগম করুন।
অটিজম শিশু সমাজে বেঁচে থাকবে নাগরিক অধিকার নিয়ে। অটিজমের বিপক্ষে যুদ্ধ করার সাথে আর একটি পরিবারকেও যেন সমাজের মানুষের বিষাক্ত চাহনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে না হয়। এই দিনের প্রতিক্ষায় রাইলাম। যেদিন পুরো দেশ পুরো জাতি বলবে, আমাদের ছাড়া নয়, হে “অটিজম শিশু” তোমাদের ছাড়া আমরা অসম্পূর্ণ।