আমার পথচলার সঙ্গী ফিজিওনিউজ২৪.কম



  • Add Comments
  • Print
  • Add to Favorites

ইমন চৌধুরী :

২০১৪ সালের অক্টোবর। আমাদের ইনস্টিটিউটে তৈরি হলো নতুন স্টুডেন্ট সংগঠন। তবে তা মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের নিয়ে। নাম “বাংলাদেশ মেডিকেল টেকনোলজী এন্ড ফার্মেসী স্টুডেন্টস এসোসিয়েশন (বিএমটিপিএসএ)।
সংগঠনের সকল কাজে আমার অবস্থান ছিলো উল্লেখযোগ্য। সংগঠনের একটি ফেইসবুক পেইজ চালাতাম যার সদস্য ৫ হাজারের বেশি ছিলো।
আস্তে জ্বলতে শুরু হলো শিক্ষার্থীদের ১০দফা আন্দোলনের অগ্নিশিখা। সংগঠনের অনলাইন ভিত্তিক প্রচারের কাজ আরো এক্টিভ ভাবে করতে লাগলাম। প্রতিদিন বিভিন্ন খবরাখবর সংগ্রহ করতাম আর ছবিসহ ফেইসবুকে পোস্ট করতাম। এটাই বোধহয় আমার সাংবাদিকতা জীবনের শুরু।
একদিন দেখলাম আমার সাব্জেক্ট ফিজিওথেরাপি নিয়ে অনলাইনে একটি নিউজ পত্রিকা আছে। নাম তার Physionews24.com।
দেখতাম সেখানে ফিজিও সহ চিকিৎসা বিষয়ক নানান খবর প্রচার করা হয়।

২০১৪ এর ডিসেম্বরের শুরুর দিক।
সে সসময় দেখলাম, আমার প্রচারিত মেডিকেল টেকনোলজীর সংবাদ ফিজিওনিউজে প্রকাশিত হচ্ছে নিয়মিত।
মারুফ ভাইয়ের সাথে ফেইসবুকে এড ছিলাম আগে থেকেই। তখন তাকে নক করে বলললাম ভাইয়া আমি ফিজিওনিউজ এর একজন সাংবাদিক হতে চাই। আমি তাহলে সরাসরি সকল নিউজ দিতে পারবো। আমি বললাম, আমি তো মাত্র ডিপ্লোমা ফাইনাল ইয়ারে পড়ি এটাতো মনে হয় বিএসসি রা পরিচালনা করেন। আমাকে কি নেবেন?
মারুফ ভাই বললেন, নিবো না কেন? আমরা তো ফিজিও ফ্যামিলি। আমরা ডিপ্লোমা বা বিএসসি আলাদা করে দেখি না। আমরা সবাই এক হয়ে কাজ করবো।
আমার সিভি ও কিছু তথ্য আমাকে ইমেইলে দিতে বললেন। আমি পাঠিয়ে দেয়ার পরদিনই আমাকে Physionews24.com এর প্রধান সাইটেই এডমিন আইডি খুলে দিলেন।
প্রথম দিকে কাজগুলো বুঝতে অসুবিধা হলেও আমি কয়েকদিনের মধ্যে সব বুঝে নিলাম। আস্তে আস্তে বিভিন্ন স্বাস্থ্য বিষয়ক লেখা আর আমার আই এইচ টি সম্পর্কে লেখা শুরু করলাম। আস্তে আস্তে মারুফ ভাই আমাকে অনেক কাছের ভাই মনে করতে শুরু করলেন।

ডিসেম্বরের শেষের দিকে শুরু হলো ফিজিওনিউজ এর ২য় বর্ষপূর্তি উদযাপন এর প্রস্তুতি। এবার মারুফ ভাই এর সাথে দেখা করার পালা।
উনি আমাকে পুরানা পল্টনের জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে দেখা করার কথা বলেন।
দেখা হলো। আমি ভেবেছিলাম না জানি কেমন মানুষ। এত বড় একটি কাজ করেন, উনার সাথে দেখা করা তো সৌভাগ্যের ব্যাপার। দেখা হবার পর দেখলাম অত্যন্ত অমায়িক একজন মানুষ। সবার সাথে বন্ধুর মতো মেশেন। প্রথম দিন বিভিন্ন কাজে তার সাথে ঢাকা বিশ্যবিদ্যালয়ে যাওয়া, নিলক্ষেতে পোস্টার বানানোর কাজে যাওয়া, আই এইচ টি এর স্টুডেন্টদের বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানে রেজিস্ট্রেশন করা ইত্যাদি কাজ বুঝে নিলাম।
ববর্ষপূর্তির প্রোগ্রামে আমার কলেজের অনেকজনকে রেজিস্ট্রেশন করালাম।
এছাড়া প্রস্তুতিমূলক মিটিং এ উপস্থিত থেকে সব কাজ বুঝে নিলাম।
অনুষ্ঠানের দিন রিসিপশনের দায়িত্ব নিলাম।
ঐ দিন একটা জিনিস খুব মজা লাগছিলো। কারণ আমার স্বাক্ষর ছাড়া কেউ টিকিট নিয়ে ভেতরে যেতে পারতো না এবং টি শার্ট আর পত্রিকা পেত না। সেদিনকার কার্যক্রমে আমার ভূমিকা ছিলো উল্লেখযোগ্য।
প্রায় ৫০০ এর অথিক ফিজিওথেরাপি শিক্ষার্থীর উপস্থিতি ছিলো সেখানে। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ফিজিওনিউজের সকল কর্মকাণ্ডে আমি ছিলাম নিয়োজিত।

২০১৪এর মে মাস। ঢাকার বঙ্গবন্ধু সম্মেলণ কেন্দ্রে শুরু হলো আন্তর্জাতিক মেডিকেল পণ্যের মেলা। তিন দিনব্যাপী মেলার সময় মারুফ ভাই তাদের পরীক্ষা নিয়ে ব্যাস্ত। আমাকে ফোন করে এ মেলায় দায়িত্ব নিয়ে কাজ করতে বলেন। আমি আমার জুনিয়র কয়েকজনকে নিয়ে কাজ শুরু করলাম। তাদের মধ্যে রাহাত, হাসিব আর নিধির কথা না বললেই নয়। তারা আমাকে সকল কাজে আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করেছিলো। মেলায় আগত মানুষদের ফিজিওনিউজের মাসিক বুলেটিন দেয়া, বিভিন্ন দেশ থেকে আগত মানুষদের ইন্টারভিউ নেয়া। সর্বোপরি ফিজিওনিউজের সকল প্রকার প্রচারণার কাজ করলাম ইভেন্টে।
সেই কাজের সফলতা অনলাইনে অনেকেই হয়তো দেখেছেন।

এবার আসি আমার প্রফেশনাল লাইফে।
২০১৪ সালের পহেলা বৈশাখে “ভিশন ভিজিওথেরাপি সেন্টার” উত্তরায় বৈশাখী মেলায় ফ্রি ফিজিওথেরাপি সচেতনতামূলক ক্যাম্প এর আয়োজন করে। আমি সেখানে ফিজিওনিউজের প্রচারণার কাজে গেলাম।
সেখানে আমার সাথে দেখা হলো ভিশনের কো-অর্ডিনেটর ডা. সাইফুল ইসলাম (পিটি) এর সাথে। মজার বিষয় উনি আমার নাম শুনে চিনেছেন আমাকে। বললেন অনলাইনে তোমাকে অনেক একটিভ কাজ করতে দেখি।
উনি আমাকে অনেক সমাদর করলেন।
জিজ্ঞাসা করলেন, চাকরি বাকরি কিছু করি কিনা। আমি বললাম সুযোগ পেলে আপনার প্রতিষ্ঠানে করবো। উনি ইমেইলে সিভি পাঠাতে বললেন। পরে আমি আর সিভি পাঠাই নি।
ফাইনাল পরীক্ষার পর আমি দিশেহারা হয়ে গেলাম, কি করবো এবার? তখন আমাদের ফিজিওনিউজের আমাদের ইনস্টিটিউটের আরেক সিনিয়র ভাই আতাউল ইসলাম ভাই এর কাছে আমার একটা সিভি দিয়ে বললাম, যদি সুযোগ হয় আমাকে ডাকবেন। উনিও ভিশনে জব করতেন। ভেবেছিলাম হবে না। কিন্তু একদিন আমাকে উনারা ডাকলেন। প্রথম দিন ইন্টারভিউতে জাস্ট চুক্তিভিত্তিক কথাই বললেন। কোন মেধা যাচাই করার প্রয়োজন মনে করেন নি। আমি ভাবলাম আমাকে মনে হয় আমার অন্যান্য এক্টিভিটি দেখেই জয়েন করালেন।
আস্তে আস্তে সেখানে ফিজিওথেরাপির সঠিক প্র‍্যাক্টিস শিখতে লাগলাম। ধীরে ধীরে আরো পারদর্শী হতে লাগলাম। অনেক কঠিন রোগি আমার ফিজিওথেরাপিতে ভালো হয়ে বাড়ি ফিরলো। আমি আরো কনফিডেন্ট হতে লাগলাম। আমার কর্মজীবনে ফিজিওনউজের অবদানকে আমি অস্বীকার করতে পারবো না। ফিজিওনিউজের মাধ্যমেই আমার কর্মজীবন শুরু হয়েছিলো।

আমি শুধুমাত্র ফিজিওথেরাপি নিয়ে থাকি না।
আমি অনেক সামাজিক কাজের সাথে যুক্ত আছি। আমার প্রতিষ্ঠিত রক্তদাতা সংগঠন “অর্পন ব্লাড ফাউন্ডেশন” এর কার্যক্রম অনেক এক্টিভ ভাবে চলছে। প্রতিদিন বেশ কয়েকজন মুমূর্ষ রোগির জরুরী রক্তের ব্যাবস্থা করে দিচ্ছি আমরা একটি স্বেচ্ছাসেবী দল। এবং তার বিনিময়ে কোন আর্থিক লেনদেন আমরা করি না। আমাদের স্লোগান- “রক্তে অর্জিত বাংলার মাটি, মানবসেবায় করবো খাঁটি”
আস্তে আস্তে আমরা আরো এগিয়ে যাচ্ছি।
আমাদের সংগঠনে বহু সংখ্যক ফিজিওথেরাপিস্ট ও ফিজিওথেরাপি শিক্ষার্থী কাজ করছেন। ইতোমধ্যে আমাদের অনলাইন সদস্য ১০ হাজার পূর্ণ হয়েছে।
আমাদের সাথে আপনারে যে কেউ যুক্ত হতে পারেন অনলাইনের মাধ্যমে। আমাদের ফেইসবুক লিংক- www.facebook.com/arpanfoundation.bd
আমাদের সকল কাজে ফিজিওনিউজ সার্বিকভাবে সহযোগিতা করে আসছে।

সর্বোপরি ছাত্র ও কর্মজীবনের প্রতিটি অধ্যায়ে ফিজিওনিউজ২৪.কম ওতপ্রোতভাবে জড়িত আছে। আমি ফিজিওজাতি কে ভালবাসি। ফিজিওথেরাপি প্রফেশনকে ভালবাসি। আর ভালবাসি এ দেশ আর দেশের সকল মানুষদের।

I am so much Proud to be a part of Physionews24.com

 

সাখাওয়াত হোসেন চৌধুরী (ইমন)

ফিজিওথেরাপিস্ট

ভিশন ভিজিওথেরাপি এন্ড রিহ্যাব সেন্টার, উত্তরা, ঢাকা।




No Comments to “আমার পথচলার সঙ্গী ফিজিওনিউজ২৪.কম”

Comments are closed.