আমি আত্মরক্ষা করেছি বিপিএ ইজিএমে – কাজী এমরান



  • Add Comments
  • Print
  • Add to Favorites

বিপিএ ইজিএম এর অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি নিয়ে ফিজিওনিউজ২৪.কম এর সাথে একান্ত সাক্ষাতকারে কাজী এমরান ।

প্রশ্নঃ বিপিএ ইজিএম এ অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতির জন্য একটি মহল থেকে আপনাকে দায়ী করা হচ্ছে, আপনার বক্তব্য কি?
কাজী এমরানঃ দেখুন, ব্যাপারটি কি এমন যে কারো হাত বাঁধা ছিল, কারো হাতে হাতিয়ার ছিল? নাকি কেউ সুপারম্যান ছিল, কেউ আম জনতা ছিল? আমরা সবাই ছিলাম সাধারন ফিজিওথেরাপিস্ট, সবার হাত খোলা ছিল, কথা বলার স্বাধীনতা ছিল। সেখানে ৫ ফুট সাড়ে পাচ ইঞ্চি একজনকে দায়ী করা হল ৬ ফুটের কাছাকাছি একজনকে প্রহার করার দায়ে, ব্যাপারটি কি বিশ্বাসযোগ্য?

প্রশ্নঃ তার মানে কি এটাই যে আপনি ওখানে যুক্ত ছিলেন না?
কাজী এমরানঃ ছিলাম, যুক্ত ছিলাম কিন্তু আমি আত্মরক্ষা করেছি। আমার কাছে মনে হয় বেপারটা পরিস্কার হওয়া উচিত। ঘটনার সুত্রপাত হয়- কমিটি ঘোষণা নিয়ে। আমি ফ্লোর নিয়ে পরিস্কার ভাষায় বলেছি- “শ্রদ্ধেয় স্যার গন, আপনারা দয়া করে নির্বাচন দিবেন এমন কোন মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দিবেন না- কেউ বিশ্বাস করবে না। এরচেয়ে ভাল আপনারা যে কমিটির নাম নিয়ে এসেছেন, টা ঘোষণা করেন, উপস্থিত সবার মতামত নিয়ে সব শেষ করে এই কক্ষ থেকে বের হন। আজকের পর আমরা বলব যে, আমরা এক এবং নতুন করে পথচলা হোক আমাদের”। সবাই তালি দিয়ে সেটিকে অভিবাদন জানিয়েছিলেন। কিন্তু সকাল ১১ টায় শুরু হওয়া ইজিএম এ গড়িমাসি করে দুপুর ১ টা নাগাদ কমিটি ঘোষণার চেষ্টা করা হল। কি অদ্ভুত পরিস্থিতি, কমিটি ঘোষণা করছেন বলে মাইকে বলেন আর একদল সোজা ডায়াস এ গিয়ে গুজুরগুজুর করেন। অবশেষে আমরা বিরক্ত হয়ে বলি- স্যার আপনি আগামি ২ মিনিটের মধ্যে কমিটি ঘোষণা করবেন। ততক্ষনে উপস্থিত গণ্যমান্য সভ্যগণ বুঝে গেছেন যে, আসলে কিছুই হচ্ছে না। তারা ধীরে ধীরে স্থান ত্যাগ করতে লাগলেন। আমরা দরজায় দাঁড়ালাম, হাত জোড় করে বললাম যে, আপনারা যাবেন না, দয়া করে আমাদের দিকে চেয়ে আপনারা থাকেন। এমন কোন ইন্সটিটিউট নেই যার স্যার দের আমরা বাঁধা দেই নি, বিনয়ের সাথে তাঁদের বলেছি- আমরা নামাজের বেবস্থা করছি এই অডিটোরিয়াম এই। কিন্তু আপনারা যাবেন না প্লিজ। কেউ যায় নি। আমরা আলতাফ স্যার কেও পায়ে ধরে বসিয়ে রেখেছি। বলেছি- স্যার যাই হোক, আপনারা একটা কমিটি করে আমাদের এক করে দিয়ে যান। তারপর কমিটি ঘোষণা করতেই আলতাফ স্যার বললেন আমি থাকব না। আমরা হাত তুলে স্যার কে বোঝালাম, স্যার কে সবাই মিলে অনুরুধ করলাম। স্যার চুপ করে গেলেন। ফরিদ স্যার কে জেনারেল সেক্রেটারি পদে ঘোষণা করতেই তিনি বললেন যে, তিনি থাকতে চান না। আব্দুল্লাহ আল মামুন স্যার বললেন, তাহলে আমাদের সভা স্থগিত করতে হয়। আমরা ক্ষোভ এ ফেটে পড়লাম। প্রতিবার আমাদের প্রতিটি সভা শুধু পদ নিয়েই শেষ হয়ে যায়, আমাদের পেশার কিছু হয় না।

প্রশ্নঃ তাহলে বিবাদের শুরুটা কোথায়?
কাজী এমরানঃ এখানেই শুরু। আমরা বললাম, কমিটি যাই হোক, ঘোষণা শেষ করেন আর এক না হয়ে কেউ জেতে পারবেন না। এমতাবস্থায়, জাকারিয়া ফারুক স্যার আমাদের সালাউদ্দিন কে শার্ট এর কলার ধরে টেনে নিয়ে যায়। সালাহুদ্দিন ঝটকা মেরে নিজেকে মুক্ত করে আর উপল স্যার তাকে ধাক্কা দেন। আমি হটাথ করে দরজার কাছ থেকে দেখি জাহিদ স্যার কে গলা ধরে ধাক্কাধাক্কি করছে। আমি জাহিদ স্যার কে মুক্ত করতে যাই। আমি স্টেজ এর কাছে জেতেই তিন জনের মত মানুষ আমাকে ঘিরে এলোপাথাড়ি ঘুষি দিতে থাকে, একটা ঘুষি আমার চশমা তে লাগে আর আমি চোখ বাচাতে যাই। আমি কিছুই দেখছিলাম না, হাতের কাছে যেই ছিলেন আমি দুই মুঠি ধরে চুল ধরি আর ক্রোধে চিৎকার করতে থাকি। আমি চিৎকার করেছি কিন্তু কাউকে ঘাড়ে ঘুষি মারার মত শক্তিমান কিংবা লম্বা ত নই ই। এখানে অনেক ভিড় ছিল, কে কি করেছে জানি না- কিন্তু অনেকেই ইনভল্ভ ছিলেন। নির্দিষ্ট ভাবে আমাকে মার্ক করা দুঃখজনক, তারপর ও স্যার দের বিচার মেনে আমি মাফ চেয়েছি।

প্রস্নঃ তারমানে আপনি বলছেন, আপনিও আক্রান্ত হয়েছেন
কাজী এমরানঃ অবশ্যই। আমার চশমা আমি জমা দিয়েছি, ছেড়া পেন্ট আমি দেখিয়েছি। আমি ত ভাই উদ্দেশ্য করে মারামারি কিংবা নাটক করি নি যে, কেঁদে কেঁদে নির্দিষ্ট কারো নাম করে জুনিওর আমাকে মেরেছে বলে সস্তা সিম্পেথি পাওয়ার চেষ্টা করেছি। মারামারির ঘটনা অবশ্যই দুঃখজনক। এখন আমি শার্ট খুলে ঘুষির দাগ প্রেস কে বা সবার সামনে দেখিয়ে ভাল হবার চেষ্টা করার মত কূটবুদ্ধি সম্পন্ন লোক নই।

প্রস্নঃ কিন্তু এটা ত সত্যি যে, ঘটনা আপনাদের প্রতিষ্ঠানের অডিটোরিয়াম এ হয়েছে, কেউ বলছে যে- আপনারা প্লান করে করেছেন
কাজী এমরানঃ ভাই, অই অডিটোরিয়াম টা মামুন স্যার ই পছন্দ করেছেন, এমন নয় যে আমরা দাবি জানিয়েছি। আর যদি প্লান করেই হত তাহলে কেউ কি নিজেদের জায়গায় অন্য কাউকে মেরে নিজেদের সম্মান নষ্ট করে। বরঞ্চ, আমার মনে হচ্ছে, ইচ্ছে করেই এই নাটক তারাই সাজিয়েছিলেন, আমাদের অডিটোরিয়াম ভাড়া করে, এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছিলেন যাতে করে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয় আর আমাদের দোষী করা যায়।

প্রস্নঃ ইউনিফিকেসন এর বেপার এ আপনার বেক্তিগত মতামত কি-
কাজী এমরানঃ আমি আশাবাদী, আশায় বুক বেঁধে আছি। আমাদের ইউনাইটেড হওয়া অবশ্যই সমর্থন করি।

No Comments to “আমি আত্মরক্ষা করেছি বিপিএ ইজিএমে – কাজী এমরান”

Comments are closed.