একের রক্ত অন্যের জীবন, রক্তই হোক আত্মার বাঁধন



  • Add Comments
  • Print
  • Add to Favorites

মানুষ মানুষের জন্য , জীবন জীবনের জন্য ,

 একটু সহানুভূতি কি মানুষ পেতে পারে না।

আমাদের এক ব্যাগ রক্ত যদি কোন মানুষের জীবন বাঁচিয়ে দিতে পারে তবে রক্তদানের মত মহৎ কাজ আর কী হতে পারে, এক ব্যাগ রক্তের অভাবে শত শত মানুষ মারা যাচ্ছে । আমরা চাইলেই স্বেচ্ছায় রক্তদানের মাধ্যমে এই মৃত্যু রোধ করতে পারি ।এর জন্য প্রয়োজন সচেতনতা  আর একটু সদিচ্ছার ।আমরা যদি একজন আরেকজনের জন্য এগিয়ে না আসি তবে এই অকাল মৃত্যু গুলো রোধ করা সম্ভব হবে না । তাই স্বেচ্ছায় রক্তদান- ই আমাদের সবার প্রিয় মানুষ ও নিজেদের রক্তের অভাবে ঘটতে পারা মৃত্যু রোধ করতে পারে ।তাই রক্তদান সম্পকে আমাদের কিছু তথ্য জেনে রাখা প্রয়োজন ।
রক্তদান ব্যাপারটি একটি সামাজিক দায়বদ্ধতা। কিন্তু আমাদের দেশে বেশির ভাগ মানুষই এই বিষয়ে পুরোপুরি অবগত নন। বিদেশে বেশির ভাগ মানুষ সামাজিক দায়বদ্ধতা ভেবেইসেচ্ছায়  রক্তদান করেন। আর সেচ্ছায় দানকৃত এই রক্তই প্রবাহ করা হয় । এছাড়া ও অংশীকরণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমেও ওষুধে পরিণত করা হয় ।

রক্তদাতা মূলত তিন শ্রেণিতে বিভক্ত :
১। সেচ্ছায় রক্তদাতা
২। পারিবারিকভাবে রক্তদাতা
৩। অর্থের বিনিময়ে রক্তদাতা

আমাদের শরীরে প্রতি চার মাস পর পর নতুন রক্ত তৈরি হয় । তাই একজন সুস্থ স্বাভাবিক মানুষ প্রতি চার মাস পর পর রক্ত দান করতে পারে । সাধারণত ৪৫০ মি লি রক্ত নেয়া হয় । রক্ত দেয়া হোক আর না হোক ১২০ দিন পর পর প্রতিটি লোহিত রক্তকণিকা মারা যায় ।

তবে রক্ত সংগ্রহের ক্ষেএে কিছু বিষয় লক্ষ্য রাখতে হয় । যেমন :

# রক্তদাতার হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ জানতে হবে । রক্তে  হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ ৭৫% এর উপরে হতে হবে ।

# ৬-৭ মাসের মধ্যে কোন দূর্ঘটনা ঘটেনি এমন রক্তদাতা  হতে হবে ।

# ওজন : পুরুষ – ৪৮ কেজির বেশি।

মহিলা – ৪৫ কেজির বেশি।

বয়স – ১৫- ৫৭ বছর।

# রক্তদাতা মহিলা হলে মাসিক চলছে না এবং গর্ভবতী নন এমন হতে হবে ।

# রক্তদাতা গনোরিয়া সিফিলিস, হেপাটাইটিস বি,সি, চর্মরোগ, ম্যালেরিয়া, এইডস, ডায়াবেটিস, টাইফয়েড ইত্যাদি রোগাক্রান্ত হওয়া যাবে না।

# গত চার মাসে রক্ত দেয়নি এমন হতে হবে।

রক্ত দান করে যে আমরা শুধুমাত্র একজন মানুষের জীবন বাচাতে পারে তাই নয়। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়ে। নতুন লোহিত রক্তকণিকা তৈরির পরিমাণও বাড়ে। এছাড়াও বিভিন্ন হৃদরোগ হওয়ার সম্ভবনাও কমে যায়।

রক্ত দেয়ার আগে রক্তদাতাকে কিছু প্রশ্ন করে জেনে নিতে হবে যে, তিনি কোন জ্বর একজিমা বা গত কয়েক মাসে অন্য কন রগে ভুগেছেন কিনা। যদি গত কয়েক মাসে কন রগে ভুগে থাকেন তবে একটা সময়ের আগে রক্ত নেয়া যাবে না।

রক্ত সংগ্রহ করতে  ১০-১৫ মিনিট সময় লাগে। তবে রক্ত সংগ্রহের পূর্বে পরিক্ষা সমূহ করতে ৪০-৫০ মিনিত সময় লাগে । রক্ত দেয়ার পর ১০ মিনিট বিশ্রাম নিতে হয়। তাছাড়া রক্ত সংগ্রহ করার সময় কক্ষে পর্যাপ্ত আলো বাতাসের ব্যবস্থা রাখা ভাল। রক্ত দেয়ের পর রক্তদাতাকে হালকা কিছু খাবার, পানীয় খেতে দিতে হবে। কন ভারি খাবারের দরকার নাই।

রক্তদান করার পর তেমন কোন সমস্যা সাধারনত হয় না। তবে রক্তদাতা দুর্বলতা অনুভব করতে পারেন। এছাড়াও পেটে ব্যাথা বা সূচ প্রবেশের স্থানে লালচে দাগ হতে পারে এবং ব্যথাও হতে পারে। তবে এসব সমস্যা ১-২  দিনের মধ্যে ভাল হওয়া যায়। ঔষধ সেবনের কোন প্রয়োজন হয় না।

– জয় সাহা

গণ বিশ্ববিদ্যালয়




No Comments to “একের রক্ত অন্যের জীবন, রক্তই হোক আত্মার বাঁধন”

Comments are closed.