কারণ কী হতে পারে নিজের অজান্তের বদঅভ্যাসগুলোর



  • Add Comments
  • Print
  • Add to Favorites

মানুষের বদঅভ্যাসের শেষ নেই। এগুলো বারবার নিজের অজান্তেই মানুষ করে থাকে। এর মধ্যে কিছু আছে যা অপরকে বিরক্ত এমনকী ক্ষতি করতে পারে। কিন্তু কেনে এই বদঅভ্যাসগুলো মানবমনে আক্রমণ করে? প্রত্যেক ম্যানিয়ার পিছনে রয়েছে কিছু বিজ্ঞানসম্মত যুক্তি। আপনার যদি সেরকম কোন অভ্যাস থাকে তবে জেনে নিন সেই অভ্যাসের কারণ:
০১ কথায় কথায় ‘ইউ নো’ ‘লাইক’: অনেকে ইংরেজিতে এক টানা কথা বলার সময় ‘ইউ নো’, ‘লাইক’ জাতীয় শব্দ ব্যবহার করে থাকেন। জার্নাল অব ল্যাঙ্গুয়েজ এ্যান্ড সোশ্যাল সাইকোলজিতে প্রকাশিত এক সমীক্ষায় বলা হয়েছে, ২৬০টি সাধারণ আলাপচারিতা পরীক্ষা করে দেখা গেছে, যে সব ব্যক্তি ইউ নো, লাইকের মতো ‘ফিল্টার শব্দ’ ব্যবহার করেন তারা মতামতকে সত্য প্রমাণ করতে চান।
০২. নখ কাটা: খেলার মাঠে কলকাতার মহারাজ সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়কে মাঝেমধ্যে দেখা যেত, দাঁত দিয়ে নখ কাটছেন। সৌরভের মতো এই রকম অনেকেই রয়েছেন স্থিরভাবে বসে না থেকে ঘন ঘন দাঁত দিয়ে নখ কাটছেন। জার্নাল অব বিহেভিয়ার থেরাপি এ্যান্ড এক্সপেরিমেন্টাল সাইকিয়াট্রিতে প্রকাশিত এক সমীক্ষায় বলা হয়েছে, মানুষ বেশি উদ্বেগের মধ্যে দিয়ে কাটালে বা একঘেঁয়েমি লাগলে এই ভাবে নখ কাটতে থাকেন।
০৩. গলা খাঁকারি: অনেকে আছেন কথার বলা আগে একটু গলা খাঁকারি দিয়ে আলাপ শুরু করেন। বা মাঝে মাঝেই কারণে, অকারণে গলা খাঁকরান। আপনার মনে হতে পারে বদভ্যাস। কিন্তু এটি একটি ক্রনিক রাইনিটিস। সাইনাস সমস্যায় ভুগলে গলা ও নাকে মিউকাস জমা থাকে সব সময়। তার কারণেই কথা শুরুর আগে বারাবর গলা খাঁকারির অভ্যাস হয়ে যায়।
০৪. অকারণে অসুস্থতা: অনেকেই ভাববেন অজুহাত। অনেকেই ভাববেন সিরিয়াস কিছু হয়েছে। যদি প্রায়শই কোনও ব্যক্তি অসুস্থতার দোহাই দিয়ে কাজে না আসেন, তবে ডাক্তারি ভাষায় একে বলা হয় ইলনেস অ্যাংজাইটি ডিসঅর্ডার (আইএডি)। শরীরে কোনও রোগের বাসা নেই। কিন্তু নিজেকে অসুস্থতার চিন্তায় ডুবিয়ে রাখেন সারাক্ষণ। ২৫ বছর থেকে ৩০ বছর বয়সী মানুষদের মধ্যে এই ডিসঅর্ডার বেশি লক্ষ্য করা যায়।

০৫. জোরে হাঁচি: হাঁচার পর যে স্বস্তি অনুভব হয়, তার তুলনা হয় না। কিন্তু এটাই কারও আবার অভ্যাস। কেউ মাঝেমধ্যে হাঁচেন। কেউ আবার জোর করে নাকের মধ্যে সুড়সুড়ি দিয়ে হাঁচার অনুভূতি তাড়িয়ে তাড়িয়ে উপভোগ করেন। কিন্তু যাঁরা কোনও কারণ ছাড়াই হাঁচেন, তাঁদের ক্ষেত্রে এলার্জি বড় ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়ায়। ধুলো:বালি কিংবা জোড়ালো গন্ধে বারবার হাঁচি হয়।

০৬. গাড়ি : যাদের গাড়ি চালানো নেশা, তাদের সাধারণত প্রবণতা থাকে জোরে গাড়ি চালানো। যদি আবার শুনশান হাই রোড হয়তো কোনও কথা নেই। জোরে গাড়ি চালানো ছাড়াও তাঁদের মধ্যে গাড়ি নিয়ে অসম্ভব মোহ থাকে। গাড়ির কাঁচ, পছন্দমতো নম্বর প্লেট বা স্টিকার এই সব নিয়ে বুঁদ হয়ে থাকেন সারাক্ষণ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কোলোরাডো স্টেট ইউনিভার্সিটির একদল বিশেষজ্ঞ গবেষণা করে দেখেছেন এই সব ব্যক্তিদের মধ্যে আমিত্ব বেশি কাজ করে। গাড়ি চালানোর সময় মনে করতে শুরু করেন, এই রাস্তা তার নিজের। গবেষকদের ভাষায়, এই সব ব্যক্তিদের মধ্যে লক্ষ্য করা যায় “সাইন অব টেরিটোরিয়ালইজম”।

No Comments to “কারণ কী হতে পারে নিজের অজান্তের বদঅভ্যাসগুলোর”

Comments are closed.