কারপাল টানেল সিনড্রোম

0
1
Print

হাতের কব্জি থেকে তালু ও আঙুলগুলো অবশ হয়ে আসা, ঝিন ঝিন করা, আবার কখনো ব্যথা হওয়া বা ফুলে যাওয়া এ সমস্যাগুলো সাধারণত যে রোগের কারণে দেখা যায়, তার মধ্যে অন্যতম হলো কারপাল টানেল সিনড্রোম। নারীদের মধ্যে এ রোগ হওয়ার প্রবণতা বেশি। বিশেষ করে গর্ভকালীন ও মেনোপজ পরবর্তীকালে এ সমস্যা বেশি দেখা দেয়।যে কারণে হয় : যে হাড়গুলো একত্রিত হয়ে আমাদের কব্জি গঠন করে, সে হাড়গুলো মেডিক্যাল পরিভাষায় বলে কারপাল বোনস। কব্জিতে সেই হাড়গুলোর মধ্যে একটি ছোট্ট টানেল বা গহ্বর আছে। এর নাম কারপাল টানেল। এটির মধ্য দিয়ে বিভিন্ন শিরা ও স্নায়ু হাতে প্রবেশ করে। এর অন্যতম কারণ মিডিয়ান নার্ভ। কোনো কারণে এ টানেলের মধ্যেকার নার্ভটি চাপ খেলে এ ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। তা ছাড়া ফুলে যাওয়া, পানি জমা ইত্যাদি কারণেও এমন হতে পারে। স্থূলতা, থাইরয়েড সমস্যা, ডায়াবেটিস, রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস ও এসএলই (সিস্টেমিক লুপাস ইরাইথেমাস) ইত্যাদি রোগ এর ঝুঁকি বাড়ায়। কখনো একই ধরনের হাতের কাজ বারবার করার কারণে টানেলের ওপর চাপ পড়ে। যেমন লেখালেখি ও সেলাই করা, টেনিস খেলা, বেহালা বাজানো ইত্যাদি।

লক্ষণ : আঙুল ঝিন ঝিন বা অবশভাব, জ্বলে যাওয়া, খাবার খেতে, হাত মুষ্টিবদ্ধ করতে বা কোনো জিনিস ধরতে সমস্যা। লক্ষণগুলো রাতে বেশি দেখা যায় এবং সবচেয়ে বেশি হয় হাতের বুড়ো আঙুল, তর্জনী এবং মধ্যমায়। ঝিন ঝিন অনুভূতি ও ব্যথার কারণে রাতে ঘুম ভেঙে যায়, যা হাতে ঝাঁকুনি দিলে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে। এসব লক্ষণ ওপরের দিকে ছড়িয়ে বাহুতে চলে যেতে পারে। চিকিৎসা না করালে আঙুলের মাংসপেশি শুকিয়ে যেতে পারে।চিকিৎসা : কারপাল টানেল সিনড্রোমের চিকিৎসার ক্ষেত্রে স্নায়ুর ব্যথা কমানোর ওষুধ ও পাশাপাশি ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা এবং হাতের বিশ্রামের জন্য স্পিøন্ট ব্যবহার করতে হয়। এ রোগে ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা খুবই উপকারী। ওষুধ ও ফিজিওথেরাপি চিকিৎসায় সম্পূর্ণ নিরাময় না হলে কখনো কখনো সার্জারিও প্রয়োজন হতে পারে।উপদেশ : যারা লেখেন কিংবা কম্পিউটারে টাইপ করেন, তারা প্রতি ৩০ মিনিট পর পর সামান্য বিরতি নিতে পারেন। হাতের বাহু যেন কাজের সময় বিশ্রামে থাকে। টেবিল ও হাতের ব্যবধান ঠিক করে নিন, যাতে হাত টেবিলের সমান্তরালে থাকে।

লেখক : বাতব্যথা, প্যারালাইসিস রোগে ফিজিওথেরাপি বিশেষজ্ঞচেয়ারম্যান ও চিফ কনসালট্যান্ট, ঢাকা সিটি ফিজিওথেরাপি হাসপাতাল, ধানম-ি, ঢাকা