কেন আমি নির্বাচনে আর কেনই বা আমাকে নির্বাচিত করবেন ?



  • Add Comments
  • Print
  • Add to Favorites

কেন আমি নির্বাচনে যেতে চাই, বললে অনেক কিছু এসে যায়!!! সবচেয়ে বড় কারণ বৈষম্য, আমি আমাদের বৈষম্য দূর করতে চাই,,,, এই প্রফশেনে পরিবর্তন চাই, আমি পরিবর্তনে বিশ্বাসী। আমি বুক ফুলিয়ে কথা বলতে চাই, আমি ফিজিওথেরাপিস্ট, আমি চিকিৎসক, আমি আমার প্রফেশনালদের বিকাশ চাই । আমরা নিজ হাতে আমাদের ভাগ্য পরিবর্তন করব।

তবে আমার এমন কিছু বাজে অভিজ্ঞতা না হলে আমি হয়তো নির্বাচনের কথা ভাবতেই পারতাম না….

১. ছাত্রজীবনের বাজে অভিজ্ঞতা : আমি ২০০৫ সালের ডিসেম্বরে অনেক আশা স্বপ্ন নিয়ে সরকারি প্রতিষ্ঠান শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং ছেড়ে চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে সি আর পিতে ভর্তি হই বাবার মার জমানো সব টাকা ব্যয় করে। ভর্তি হয়েছিলাম ব্যাচেলর অব ফিজিওথেরাপিতে, ভর্তির এক বছর পর শুনি বিএসসি ইন ফিজিওথেরাপি ৩ বছরের কোর্স এবং ৬ মাসের ফিল্ড ওয়ার্ক।

তারপর আন্দোলন, কেইস মামলা। কোর্স কারিকুলাম ঠিক থাকলেও ব্যাচেলর অব ফিজিওথেরাপি নামটা হারালাম। সাথে ৭ বছর ৮ মাসের বাজে অভিজ্ঞতা হল। ২০১৩ সালের আগস্ট, ইন্টার্ন শেষ করলাম। সিনিয়র ফিজিওথেরাপিস্টরা আমাদের এই অধঃ:পতন শুধু চেয়ে চেয়ে দেখলেন। হয়তো তাদের কিছুই কারার ছিল না, কারণ প্রশাসনের কাছে তারা অসহায়। সোজা কথা তারা তো ভাল আছে। ছাত্র ছাত্রীদের সমস্যা হলে প্রফেশনালদের কি?

এখনও একই সমস্যা হচ্ছে, ছাত্র-ছাত্রীদেও ভালভাবে ক্লাস করানো হয় না, আর ভাল ইন্টার্ন তো দূরের কথা। তারা প্র্যাকটিক্যালের ধারে কাছেও যেতে পারছে না।তাহলে ছাত্র ছাত্রীরা কিভাবে ভাল ফিজিওথেরাপিস্ট হবে?

কেউ কি বলতে পারেন! আমার মাথায় আসে না।সরকারি প্রতিষ্ঠান নিটোরের ছাত্র ছাত্রীদের সাথে যা করা হচ্ছে, এই রকম বৈষম্য আর কোথাও হয়েছে কি না আমি জানি না!

২. পাশ করার পর যে অভিজ্ঞতা হল : পাশ করার পর দেখি আজব দেশ, আজিব প্রফেশন! বাংলাদেশের কোথাও কোন জব সার্বুলার নেই। সিআরপি তে ১মাস পর সার্কুলার দিবে। আমরা বসে আছি, সেই সার্কুলারের জন্য। কি হস্যকর অবস্থা এবং মর্মান্তিক অবস্থা, একবার ভেবে দেখেন।

আমি আমার যোগ্যতা অনুযায়ী ৫ বছর ধরে চাকুরির জন্য ইন্টারভিউ দিব, জব না হোক না হোক, একটা শান্ত্বনা আছে। কিন্তু কোন সার্কুলার-ই যখন থাকে না তখন কি পরিণতি হয় আমাদের অনেকেরই অভিজ্ঞতা হয়েছে। আমি একটা সেন্টারের কো-অর্ডিনেটর হওয়ার কারণে মাঝে মাঝেই জুনিয়ররা কল দেয়, দেখা করে। তাদের কষ্ট এখন আরও ভয়ানক। আমরা তাদেও জন্য কি করতে পারছি? একবার ভাবছেন?

দেশে অনেক কোটিপতি ফিজিও আছে, তাদেও চেম্বারে টেকনিশিয়ানের খেলা। অথচ তারা যদি ১০টা গ্র্যাজুয়েট ছেলেকে জব দিত, ফিজিওথেরাপি প্রফেশনের চেহারা বদলে যেত।

তাদের অনেকেই বিপিএ এর নেতা, আমরা কি এখনও তাদের সিনিয়র ভেবে, তাদের ত্রানকর্তা ভেবে যাব!!

৩. চেম্বারে যত অভিজ্ঞতা:
২০১৩ সালের ডিসেম্বরে উত্তরায় ভিশন ফিজিওথেরাপি এন্ড নিউরো রিহ্যাব সেন্টার শুরু করি। ৬ মাস যাবত চাকুরীর পিছনে বৃথা সময় নষ্ট করি। যদিও ফিজিওথেরাপির চাকরি মানেই বৈষম্য।

প্রথম দিকে সেন্টারে কোন রোগিই ছিল না। তার পর আস্তে আস্তে উন্নতি হতে থাকে। বর্তমানে ভিশন বাংলাদেশের অন্যতম ফিজিওথেরাপি সেন্টার। আমি এই সেন্টার ১৫/১৬ ঘন্টা দৈনিক কাজ করছি। আজ পর্যন্ত ভিশনে কোন রোগীকে কোন ধরণের ঔষধ, ধনী লোকের কাছ থেকে বাড়তি টাকা পয়সা নেওয়া, কোন স্টাফের টাকা পয়সা কম দেওয়া, এইসব হয় নাই, ইনশাল্লাহ কোনদিন হবেও না।

বর্তমানে ভিশনে ১৫ জন স্টাফ কাজ করে। একজন টেকনিশিয়ানও রাখি নাই। ৬ জন গ্র্যাজুয়েট ফিজিওথেরাপিস্ট ২ জন স্পীচ থেরাপিষ্ট, ১ জন অকুপেশনাল থেরাপিস্ট, ৬ জন ফিজিওথেরপি এসিসট্যান্ট (ডিপ্লোমা) কাজ কওে ভিশনে। যদিও আমার অনেক কষ্ট হয় আর্থিক ভাবে অনেক সময়!! কারন সব সময় সেন্টারে একই ভাবে রোগী থাকে না! আমার এক সেন্টারে কয় জনকে জব দিতে পররব?

একের পর সেন্টার হচ্ছে। চাকুরী নাই, সেন্টার ছাড়া ছেলে বেলেরা করবে কি? তাই একটা বন্ধ হয়ে আরেকটা তৈরি হবে।

আমাদের দরকার সরকারি জব। সারাদেশে ১৫/২০ হাজার ফিজিও দরকার। সরকারী পোস্ট না থাকলে নতুন নতুন ফিজিওরা করবে কি? আমার মাথায় আসে না? এই ভাবে কি আমাদের বসে থাকা উচিত? যেখানে আমাদের নিজেদের-ই ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। সারাদেশে অসংখ্য মানুষ ব্যথা যন্ত্রণায় কষ্ট পাচ্ছে, প্যারালাইসিসে সীমাহীন কষ্ঠ পাচ্ছে। যাদের জন্য ফিজিওথেরাপি একমাত্র চিকিৎসা।

তাহলে কেন আমরা বেকার থাকব, হতাশায় ভুগব।।

ফিজিওথেরাপি বর্তমান বিশ্বে অন্যতম প্রথম শ্রেণীর পেশা। আগামী ১০/১৫ বছরের মধ্যে সারাবিশ্বের হেলথ সেক্টরে আমরাই নেতৃত্ব দেব। আর পিছিয়ে থাকা নয়। নিজেদেও মধ্যে আর ক্ষমতা ভাগাভাগি নয়, গণতন্ত্রই হোক আমাদের ঠিকানা, আমাকে ব্যর্থ ভাবলে আমাকে ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকুন, যোগ্যকে তুলে আনুন, সিনিয়র জুনিয়র ব্যাপার না।

আমাদের ন্যায্য দাবী কলেজ, কাউন্সিল, সরকারী চাকুরী ।এখানে পিছপা হওয়ার মত কাপুরুষতা আর নেই।

আসুন সবাই এক হয়ে ঝাপিয়ে পড়ি নিজেদেও ন্যায্য অধিকার আদায়ে।

ফিজিশিয়ানরা আমাদের বন্ধু। তাদের সাথে সম্পর্ক আরও ভাল করতে হবে। কারন যার যার কাজ সম্পূর্ণ আলাদা। সুতারাং দ্বন্ধ থাকার কোন মানেই হয় না।

আমাদের ভঙ্গুর এডুকেশন সিস্টেম কে আরও ভেঙ্গে সম্পূর্ণ নতুনভাবে সাজাতে হবে। যার যেখানে মেধা তাকে সেখানে রাখতে হববে।

আমাদের অনেক উচ্চ ডিগ্রিধারী ফিজিও আছে, যাদেরকে এডুকেশন সিস্টেমে রেখে তাদের যথোপযুক্ত সম্মান দিয়ে কাজ করতে দিতে পারি।

যাদের মাথা ঠান্ডা, গ্রহণযোগ্য, প্রতিবাদ করার সাহস আছে, তাদেরকে নেতৃত্বে নিয়ে আসতে হবে।

সবশেষে বলি, কেন আমাকে নির্বাচিত করবেন!!!

আসলে আমারও মাথা ঠান্ডা, মাঝে মাঝে একটু গরম হলে ফ্রিজের পানি নিয়ে মাথা ঠান্ডা রাখি, কারও সাথে ভুলেও রাগি না!! তবে প্রতিবাদ করার সুদূঢ় সৎ সাহস আছে, সুতারাং জয়েন্ট সেক্রেটারি পদে ভোট দিয়ে আমাকে জয়যুক্ত করবেন, আমাকেই জয়যুক্ত করবেন।

জানি অনেকেই চ্যাচড়া ভাববেন ভোট চাইছি বলে, কিন্তু কিচ্ছু করার নেই ভোট না চাইলে যে মাইন্ড করবেন । আর মাইন্ড করলে আমি নিশ্চিত ফেল।

ধন্যবাদ
যারা মন দিয়ে পড়লেন।

ডা: সাইফুল ইসলাম, পিটি
ফিজিওথেরাপি চিকিৎসক
সাংগঠনিক সম্পাদক, স্বাফিপ

[ ফেসবুক কর্নার বিভাগের সকল লেখা লেখকের ফেসবুক থেকে সংগ্রহীত এবং যা সম্পূর্ণভাবেই লেখকের নিজেস্য মন্তব্য । ]

Tags:

No Comments to “কেন আমি নির্বাচনে আর কেনই বা আমাকে নির্বাচিত করবেন ?”

Comments are closed.