কোমরের ব্যাথার অন্যতম কারণ ”লাম্বার ডিক্স প্রলেপস”

0
55

 

 আব্দুর রশিদ সাহেব, বয়স ৫২বছর, একজন ব্যাংকার দীর্ঘক্ষণ বসে অফিসে কাজ করতে হয়, বেশ কিছুদিন যাবত কোমরে একটু একটু ব্যাথা অনুভব  করিলেও খুব বেশি গুরুত্ব দেননি । কিন্তু হঠাত একদিন অফিসে তীব্র কোমর ব্যাথা শুরু হয় এমনকি ঠিকমত দাড়াতেই পারছে না, দাড়াতে গেলেই ব্যাথাটি বাম পায়ের গুড়ালী  পর্যন্ত চলে যায় এবং বাম পা একটু একটু অবশ অবশ মনে হচ্ছে, রশিদ সাহেব ভীষন চিন্তায় পড়ে গেলেন, অফিসের পিয়নের কাধে ভর করে অনেক কষ্টে গাড়িতে উঠে বাসায় গেলেন, ভাবলেন কয়েকদিন কাজের প্রেসারটা বেশী থাকায় বোধ হয় ব্যাথাটা হয়েছে, কয়েকটি ব্যাথানাশক ঔষধ খেলে ও কয়েকদিন বিশ্রাম নিলে চলে যাবে। গেলেন বাসার কাছের ফার্মেসিতে নিজেই কিছু ব্যাথার ঔষধ নিয়ে খেলেন, কিন্তু ব্যাথা কমে না । তারপর গেলেন  নিকটস্থ একজন ডাক্তারের কাছে গেলেন, ডাক্তার সাহেব উনাকে দেখে কোমরের এক্সরে করতে বললেন এবং কিছু ঔষধ দিলেন ও ব্যাথার স্থানে গরম সেক দিবেন।

কিন্তু কয়েকদিন চলে গেল কোন কিছুতেই ব্যাথার উপসম হয় না, ব্যাথার ঔষধ খেলে ব্যাথা কমে যায় বন্ধ করলে আবার ব্যাথা । পাশের ফ্লাটের রইচউদ্দীন সাহেব বললেন আমার ও কোমর ব্যাথা ছিল ফিজিওথেরাপি চিকিতসা নিয়ে এখন ভাল আছি, আপনি একজন বিশেষঙ্গ ফিজিওথেরাপি চিকিতসকের কাছে যান। তখন রশিদ সাহেব
একজন বিশেষঙ্গ ফিজিওথেরাপি চিকিতসকের কাছে গেলেন, ডাক্তার সাহেব উনাকে ক্লিনিক্যালি দেখে বললেন আপনার মেরুদন্ডের দুইটি কশেরুকার মধ্যেবর্তী যে ডিক্স থাকে সেটি সরে গেছে বলে মনে হচ্ছে, এটাকে আমরা ডিক্স প্রলেপস বা ডিক্স হারনিয়েশন বলে থাকি। ডিক্স হারনিয়েশনকে সাধারণত আমরা তিন ভাগে ভাগ করা হয় সরষফ, সড়ফবৎধঃব ্ ংবাবৎব. রশিদ সাহেবের ডিক্স হারনিয়েশন কতটুকু তা দেখার জন্য একটা এম আর আই (ম্যাগনেটিক রিজোনেন্স ইমেজিং) পরীক্ষা করার জন্য বললেন। এম আর আই পরীক্ষায় দেখা গেল লাম্বার স্পাইনের খ৪-৫ ্ খ৫- ঝ১ দুইটি লেভেলে ডিক্স হারনিয়েশন হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট স্পাইনাল নার্ভ এর উপর চাপ লেগে আছে। এক্ষেত্রে শুধু ঔষধ খেলে ব্যাথা ভাল হবে না। ঔষধের পাশাপাশি সম্পুর্ণ বিশ্রামে থেকে ফিজিওথেরাপি চিকিতসা নিতে হবে। তখন রশিদ সাহেব, ডাক্তার সাহেবের পরামর্শ অনুযায়ী ৩ সপ্তাহ হাসপাতালে ভর্তি থেকে ফিজিওথেরাপি চিকিতসা যেমন –১.ইলেকট্রোথেরাপি – – আল্ট্রাসাউন্ড থেরাপি, ইন্টারফ্যারেনশিয়্যাল থেরাপি, ইন্টারমিটেন্ট পেলভিক ট্রাকশন উইথ ম্যানুপুলেশন থেরাপি ২. ম্যানুয়্যাল থেরাপি ৩. থেরাপিউটিক এক্সারসাইজ ইত্যাদি চিকিতসা নিয়ে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে বাসায় গেলেন এবং ডাক্তার সাহেবের দেওয়া কিছু পরামর্শ অনুযায়ী চলতে থাকলেন।
যেমন –
১.সামনের দিকে ঝুকে ভারী কাজ করবেন না। ২. শক্ত বিছানায় ঘুমাবেন। ৩. নামাজ চেয়ার টেবিলে বসে পড়বেন। ৪. সিড়ি উঠানামা কম করবেন। ৫. টয়লেটে হাই-কোমড ব্যাবহার করবেন। ৬. ভ্রমনের সময় লাম্বার করসেট ব্যাবহার করবেন। ৭. শেখানো ব্যায়ামগুলি নিয়মিত করবেন।

ডা: মো: ইয়াছিন আলী
চেয়ারম্যান ও চীফ কনসালটেন্ট
ঢাকা সিটি ফিজিওথেরাপি হাসপাতাল
ধানমন্ডি, ঢাকা।
মোবা : ০১৭১৭-০৮৪২০২