কোমর ব্যথা হলেই কি অপারেশন

0
3
Print

কোমর ব্যথার কারণগুলোর অন্যতম হল পিএলআইডি বা লাম্বার ইন্টারভার্টিব্রাল ডিস্ক প্রল্যাপস। পিএলআইডি তিন মাত্রার হতে পারে- স্বল্প মাঝারি ও তীব্র মাত্রা।

পিএলআইডি এর লক্ষণ : প্রধান লক্ষণ কোমর ব্যথা। ব্যথা কোমর থেকে পায়ের গোড়ালি পর্যন্ত চলে যেতে পারে। পায়ে ঝিঁ ঝিঁ ধরতে পারে বা শিরশিরে অনুভূতি হতে পারে। অনেকে বলে থাকেন পা চাবাচ্ছে। সামনে ঝুঁকলে ব্যথা বাড়ে, রোগী বেশিক্ষণ হাঁটতে বা দাঁড়িয়ে থাকতে পারেন না। অনেকে শোয়া থেকে উঠে বসতেই পারেন না।

রোগ নির্ণয় : মেরুদণ্ডের কোমরের অংশ পাঁচটি কশেরুকা বা ভার্টিব্রা দ্বারা গঠিত। এর নিচে থাকে স্যাক্রাম। এ পাঁচ কশেরুকা এবং স্যাক্রামের মাঝে তালের শাঁসের মতো স্থিতিস্থাপক চাকতি থাকে। এ চাকতিগুলো মেরুদণ্ডের শক এবজর্বারের ভূমিকা পালন করে। অর্থাৎ এদের ওপর ভর করেই মেরুদণ্ডের কোমরের অংশ তার কার্যক্রম চালায়। সামনে ঝোঁকা, ডানে বামে বাঁকা হওয়া হাঁটা শোয়া বসাসহ প্রায় সব মুভমেন্টেই এ চাকতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

পিএলআইডিতে এ চাকতি টি তার অবস্থান থেকে সরে যায় এবং সরে যাওয়া চাকতিটি স্নায়ুর গোড়ায় চাপ প্রয়োগ করে, ফলে কোমরে ব্যথা শুরু হয়। øায়ুগুলো যেহেতু কোমর থেকে বের হয়ে পায়ের দিকে চলে গেছে তাই পায়ের দিকেও ব্যথা অনুভূত হতে পারে। তবে এটি নির্ভর করে কোনো স্নায়ুর গোড়াটি চাপে পড়ল এবং চাপের ধরন ও মাত্রা কেমন। ডিস্কটি অক্ষত থেকে স্নায়ুকে চাপ দিতে পারে আবার এর পর্দা ছিঁড়ে এর ভেতরের নিউক্লিয়াস ও জেলি বেরিয়ে এসে তা স্নায়ুর গোড়ায় চাপ দিতে পারে। এ ধরনটি নির্ভুলভাবে নির্ণয় করতে এম আর আই করতে হবে। শারীরিক লক্ষণ ও এমআরআই’র রিপোর্ট চিকিৎসার ধরনের ক্ষেত্রে ভূমিকা পালন করে।

কি চিকিৎসা প্রয়োজন : পিএলআইডি মানেই অপারেশন নয়। বেশিরভাগ স্বল্প ও মাঝারি মাত্রার পিএলআইডি ফিজিওথেরাপির মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। পূর্ণ বিশ্রামে রেখে দিনে তিন চার বার ফিজিওথেরাপি প্রয়োগ করলে তিন চার সপ্তাহের মধ্যেই পিএলআইডিজনিত কোমর ব্যথা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। তীব্র মাত্রার পিএলআইডিতে কোনো কোনো ক্ষেত্রে অপারেশন প্রয়োজন হতে পারে, তবে লাল পতাকা উপসর্গ না থাকলে ফিজিওথেরাপি প্রয়োগে তীব্র মাত্রার পিএলআইডি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

ডা. মোহাম্মদ আলী

পেইন ও ফিজিওথেরাপি বিশেষজ্ঞ

হাসনা হেনা পেইন রিসার্চ সেন্টার, উত্তরা, ঢাকা।

মোবাইল ফোন : ০১৮৭২ ৫৫৫ ৪৪৪