গরমে বয়স্কদের স্বাস্থ্য সমস্যা

0
63

গ্রীষ্মের এই গরমে বয়স্ক ব্যাক্তিদের প্রয়োজন বাড়তি যতেœর । কারণ বয়স্ক ব্যাক্তিদের মধ্যে বেশীরভাগই বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত যেমন -– ডায়াবেটিস, উচ্চরক্তচাপ, এ্যজমা বা হাপানি রোগ, আথ্রাইটিস জনিত ব্যথা-বেদনা ইত্যাদি। তাছাড়াও প্রচন্ড গরমে বয়স্ক ব্যাক্তিদের বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে যেমন – শরীরের পানি শুন্যতা বা ডিহাইড্রেশন, হিটস্ট্রোক, হজমের সমস্যা ইত্ত্যাদি।
শরীরের পানি শুন্যতা বা ডিহাইড্রেশন :
অতিরিক্ত গরমের কারনে আমাদের শরীর থেকে প্রচুর পরিমানে ঘাম ঝরতে থাকে, এই ঘামের সঙ্গে বেরিয়ে যায় শরীরের প্রয়োজনীয় লবন ও পানি। এই লবন ও পানির পরিমান কমে গিয়ে শরীরে তৈরী হয় ডিহাইড্রেশন। এই ডিহাইড্রেশন থেকে বয়স্ক ব্যাক্তিদের হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার ঝুকি বেড়ে যায়। তাই প্রচুর পরিমান পানি ও তরল খাবার খেতে হবে। বেশী ঘাম ঝরলে ডাব বা স্যালাইনের পানি খেতে হবে।
হিটস্ট্রোক :
মানুষের শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে তৈরি এক ধরনের জটিলতার নাম হিটস্ট্রোক । মানবদেহের স্বাভাবিক তাপমাত্রা ৯৮ ডিগ্রি ফারেনহাইট। এটি ১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইটের চেয়ে বেশী হলে হিটস্ট্রোক হতে পারে। হিটস্ট্রোকের প্রধান কারন পানি শুন্যতা। হিট স্ট্রোকে আক্রান্ত রোগীর প্রাথমিক চিকিৎসা হিসেবে তাকে ছায়ায় নিতে হবে। শরীরের ভারী কাপড় খুলে নিয়ে ঠান্ডা পানি ঢালতে হবে। সম্ভব হলে রোগীকে ফ্যানের নিচে বা শীতাতপনিয়ন্ত্রিত (এসি) কক্ষে নিতে হবে। রোগীর বগল ও উরুর ভাঁজে বরফ দেওয়া যেতে পারে। থার্মোমিটার দিয়ে রোগীর শরীরের তাপমাত্রা মেপে দেখতে হবে। ১০১-১০২ ডিগ্রি ফারেনহাইটে নেমে না আসা পর্যন্ত তাকে ঠান্ডা দেওয়া অব্যাহত রাখতে হবে।
গরমে পেটের সমস্যাঃ
গরমে খাওয়া দাওয়ার ব্যাপারেও বয়স্ক ব্যক্তিদের সাবধানতা দরকার। কারণ গরমে খাবার থেকেই অনেকে পেটের সমস্যায় ভোগেন। গরমের সময় খাবার তাড়াতাড়ী পচে যায় বা খাবারে বিষক্রিয়া হয়। সেই খাবার খেলে ফুড পয়জনিং হতে পারে। যার থেকে বমি কিংবা ডায়রিয়া হতে পারে এই পরিস্তিতিতে ডিহাইড্রেশন কিংবা বøাড-প্রেসার কমে যেতে পারে তাই বাড়ীতে তৈরি টাকা খাবার খাওয়াটাই ভাল। বাহিরের বা রেস্তোরার তৈলাক্ত খাবার পরিহার করা উচিত।
এ্যাজমা বা হাপানীর সমস্যাঃ
গরমে অতিরিক্ত ঘাম থেকে ঠান্ডা, সর্দি-কাশি ইত্যাদি দেখা দেয় যা হাপানীতে আক্রান্ত বয়স্ক ব্যক্তিদের শ্বাষকষ্ঠ বাড়িয়ে দিতে পারে তাই প্রচন্ড রোদ গরম থেকে প্রবীন ব্যক্তিদের তুলনামুলক ঠান্ডা আবহাওয়ায় রাখার চেষ্টা করতে হবে। ঘেমে গেলে দ্রæত ঘাম মুছে দিতে হবে।
উচ্চ রক্তচাপ জনীত সমস্যা ঃ
প্রচন্ড তাপ দেহে উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত ব্যক্তিদের রক্তের চাপ বা বøাড প্রেসার আরও বেড়ে যাওয়ার সম্ভবনা থাকে। তাই এই সময়ে বয়স্ক ব্যক্তিদের প্রতি বিশেষ নজর রাখতে হবে। যেমন – প্রেসার এর ঔষধ নিয়মিত খাওয়াতে হবে। তৈলাক্ত খাবার পরিহার করতে হবে। আলাদা লবণ খাওয়ানো যাবে না। প্রচন্ড রোদে হাঁটা হাটি করা যাবে না। মানসিক চাপ মুক্ত রাখার চেষ্টা করতে হবে।
ডায়বেটিস জনীত সমস্যা ঃ
ডায়বেটিস আক্রান্ত রোগীদের নিয়মিত হাটা খুব জরুরী। কিন্তু খেয়াল রাখতে হবে তীব্র রোদের মধ্যে যেন হাটতে না যায় কারণ ঘেমে একদিকে যেমন পানি শুন্যতা অন্যদিকে তেমনী রক্তে গøুকোজের পরিমাণ কমে যেতে পারে যার ফলে বয়স্ক ব্যক্তিরা হঠাৎ করে অজ্ঞান হয়ে যেতে পারে যা অনেক সময় ট্রানজিয়েন্ট ইসক্রোমিক এট্যাক হতে পারে। তাই সকালে ও সন্ধ্যায় যখন রোদ না থাকে তখন হাঁটতে হবে এবং ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রন রাখতে হবে।
ব্যাথা বেদনা জনীত সমস্যা ঃ
বয়স্ক ব্যাক্তিদের ব্যাথা বেদনা খুবই পরিচিত উপসর্গ। এটি একটি ডিজেনারেটিভ ডিজিজ বা বয়সজনিত ক্ষয়রোগ। বয়স চল্লিশের উপর হলে যেমন চুল পেকে যায়। তেমনী হাড়ের ভিতরের উপাদানগুলি কমে যেতে থাকে। জয়েন্টের ভিতরের সাইরেভিয়াল ফ্লুইডগুলি কমে যেতে থাকে। যার ফলে বিভিন্ন জয়েন্টে ব্যাথা হয় বিশেষ করে ঘাড়, কোমর, হাঁটুতে ব্যাথা হয়। যার ফলে বয়স্ক ব্যক্তিদের স্বাভাবিক জীবন যাপনে অনেক অসুবিধা হয় যেমন- নীচে বসা, নামাজের মত বসা, টয়লেটে বসা, সিড়ি দিয়ে উঠা নামা করা, ইত্যাদি দৈনন্দিন কাজ কর্মে ব্যাঘাত ঘটে। তাই গরমে বয়স্ক ব্যক্তিদের স্বাভাবিক জীবন যাপনের জন্য প্রচুর পরিমানে ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, গøুকোসামিন হাইড্রোক্লোরাইড, কন্ড্রোটিন সালফেট, হ্যালুরোনিক এসিড ইত্যাদি সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে। পাশাপাশি এই সমস্যায় ফিজিওথেরাপি ও থেরাপিউক ব্যায়াম অনেক উপকারী।
লেখক :
ডাঃ এম. ইয়াছিন আলী
বাত, ব্যাথা, প্যারালাইসিস ও ফিজিওথেরাপি বিশেষজ্ঞ
চেয়ারম্যান ও চীফ কনসালটেন্ট
ঢাকা সিটি ফিজিওথেরাপি হাসপাতাল
বাড়ী-১২/১, রোড-৪/এ, ধানমন্ডি, ঢাকা
মোবাঃ ০১৭৮৭১০৬৭০২