জেনে নিন , শীতে বাতের ব্যথা থেকে মুক্তির সহজ উপায় ?

0
1

শীতে মানুষ সবচেয়ে কম নড়াচড়া করে। কাঁথা কাপড়ের মধ্যে চুপটি করে বসে থাকতেই বেশি সাচ্ছন্দ্য বোধ হয়। কিন্তু হাত পায়ের গিটে ব্যথা, কোমরে ব্যথা, ঘাড়ে ব্যথা সে শান্তিকে ধুলিস্যাৎ করে দেয়। শীত যতো বেশি পড়ে এর প্রকোপ তত বেশি হয়। এধরণের সমস্যাকে সাধারণত বাত ব্যথা বলে। এ ব্যথা সারাবছর থাকলেও শীতে হাত-পা মেলে বেশি। তাই কষ্টটাও বেশি। সাবধানতা অবলম্বন করলে এই শীতে আপনিও মুক্তি পেতে পারেন বাতের অসহ্য ব্যথা থেকে।

বাত একটি সিস্টেমিক ডিজিজ। যা কিনা পুরো শরীরে প্রভাব ফেলে। হাড়ের সংযোগ স্থলে ইউরিক অ্যাসিড জমা হয়ে এ রোগের উৎপত্তি হয়। আমাদের শরীরে যে পরিমাণ ইউরিক অ্যাসিড থাকা দরকার তার চেয়ে বেশি উৎপন্ন হলে রক্তে এর পরিমাণ বেড়ে যায়। অতিরিক্ত খাবার গ্রহণ যেমন, লাল মাংস, ক্রিম, রেড ওয়াইন ইত্যাদি আমাদের শরীরে এই অ্যাসিডের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়। এসব খাবার যখন কিডনি যথেষ্ট ফিল্টার করতে না পারে তখনি বাতের উপসর্গ দেখা দেয়।

দীর্ঘদিন ধরে হাড়ের সংযোগ স্থলে ইউরিক অ্যাসিড ক্রিস্টাল রূপে জমা হতে থাকে। এতে হাড়ের গিরা ফুলে যায়, জালা-ব্যথা হয়। এরই সঙ্গে গিরা শক্ত হতে থাকে। বাত সাধারণত পায়ের আঙুলের গিরাকে আক্রমণ করে। পরে হাড়সহ শরীরের বিভিন্ন জয়েন্টে এ রোগ ছড়িয়ে পড়ে।

বাত সাধারণত ৪০ থেকে ৫০ বছর বয়সী পুরুষদের ক্ষেত্রে বেশি হয়ে থাকে। মহিলাদের ক্ষেত্রে সাধারণত ৪৫ বছরের পর দেখা দেয়। শিশু এবং তরুণদের সাধারণত এ রোগে আক্রান্ত হতে দেখা যায় না। বিশ্বে প্রতিদিনই এই সংখ্যা বেড়ে চলেছে আশংকাজনক হারে। বিশেষ করে ধনীদের ক্ষেত্রে এ রোগ বেশি দেখা দেয়। কারণ প্রতিদিন তাদের উন্নতমানের খাবার বেশি খাওয়া হয়। এছাড়া দৈনন্দিন জীবনে যারা অলস তাদের ক্ষেত্রেও এ সমস্যা সৃষ্টি হয়।

বাতের ব্যথা মূলত দুই ধরণের কারণে হয়ে থাকে।

প্রথমত, বয়স জনিত হাড়ের দুর্বলতা থেকে।

দ্বিতীয়ত, হাড়ের জয়েন্ট দুর্বল ও হাড়ে ক্যালসিয়ামের অভাব জনিত কারনে।

বাতের ব্যথায় করণীয়

– লিফট বা এস্কেলেটরের পরিবর্তে সিঁড়ি ব্যবহার করুন।

– প্রতিদিন সকালে উঠে ২০ মিনিট জোরে হাঁটুন।

– গাড়িতে ওঠার আগে কিংবা লম্বা জার্নির শুরুতে অন্তত ৫০০ মিটার পায়ে হেঁটে নিন।

– ওজন কমাতে চেষ্টা করুন।

– প্রতিদিন ৬-৮ গ্লাস পানি খান।

– ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন সমৃদ্ধ খাবার প্রতিদিন পরিমিত পরিমাণে খান।

– একটানা অনেকক্ষণ বসে থাকবেন না। ১৫-২০ মিনিট পর পর খানিকটা হেঁটে নিন।

– ধূমপান ও মদ্যপান হাড়ের ক্যালসিয়াম শুকিয়ে দেয়ার জন্য দায়ী। ধূমপান ও মদ্যপান বন্ধ করুন।

– প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় দুধ রাখুন। যদি ‘লাক্টোস ইনটলারেন্ট’ হয়ে থাকেন তবে ব্রকলি খান ক্যালসিয়ামের ঘাটতি পুরনের জন্য।

– প্রতিদিন কমপক্ষে ১০ মিনিট ব্যায়াম করুন।

– সপ্তাহে অন্তত ২ বার খানিকটা তেল গরম করে নিয়ে হাড়ের জয়েন্টে ম্যাসাজ করুন।

– যারা ব্যথা ভুগছেন তারা আক্রান্ত স্থানে প্রতিদিন গরম কাপড় বা পানির সেঁক নিন।

– বেশি সমস্যা হলে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।