ডিজঅ্যাবিলিটি কাউন্সিলের গবেষণা সঠিক চিকিৎসাসেবা পান না প্রতিবন্ধীরা

0
10

ডিজঅ্যাবিলিটি কাউন্সিলের গবেষণা সঠিক চিকিবাংলাদেশের মেডিক্যাল শিক্ষাব্যবস্থায় প্রতিবন্ধীদের চিকিৎসাসেবা দেওয়ার কোনো পাঠ্যক্রম নেই। তাই সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকদের কাছ থেকে সঠিক চিকিৎসাসেবা পান না প্রতিবন্ধীরা। একই সঙ্গে সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে প্রতিবন্ধীদের চিকিৎসাসেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে নানা প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। নেই প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, দক্ষ জনবল ও পর্যাপ্ত অবকাঠামো। যে কারণে দেশের মোট জনগোষ্ঠীর প্রায় ১৫ ভাগ প্রতিবন্ধী মানুষ চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

গতকাল রোববার ঢাকার আগারগাঁওয়ে এলজিইডি অডিটরিয়ামে ‘প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের স্বাস্থ্য অধিকার সুরক্ষা : রাষ্ট্রীয় নীতিমালা ও প্রতিষ্ঠানগত ব্যবস্থায় সীমাবদ্ধতা’ শীর্ষক গবেষণায় এমন তথ্যই উঠে এসেছে।

গবেষণায় বলা হয়, বাংলাদেশে প্রতিবন্ধী সুরক্ষায় ২০১৩ সালে একটি আইন হলেও সেটির বিধি গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়নি। তাই প্রতিবন্ধীদের অধিকার সুরক্ষায় বিষয়টি কার্যত ঝুলে আছে। এ ছাড়া আইনে প্রতিবন্ধীদের চিকিৎসাসেবা দেওয়ার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ধারা না থাকায় চিকিৎসার অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এই জনগোষ্ঠী।

এ প্রসঙ্গে গবেষক জুলিয়ান হেনরি ফ্রান্সিস বলেন, বাংলাদেশে প্রতিবন্ধীদের অন্যান্য অসুস্থ মানুষের কাতারে ফেলা হয়। এর মূল কারণ সচেতনতার অভাব। তিনি বলেন, প্রতিবন্ধীদের নিয়ে সরকারি পর্যায়ে চিন্তা ও ধারণা কম। তাই উন্নয়ন পরিকল্পনা, বাজেটে বা আইন বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকারের উদাসীনতা আর অবহেলার পরিচয় মেলে।

ডিজঅ্যাবিলিটি কাউন্সিল ইন্টারন্যাশনালের নির্বাহী সদস্য মনসুর আহমেদ চৌধুরী বলেন, আইন হয়ে আছে ২০১৩ সালে। তবে সরকার এটি বিধি আকারে এখনো প্রকাশ করেনি। তাই প্রতিবন্ধীরা রাষ্ট্রের কাছে কিছু চাইতে পারছেন না। দেশের এত বড় একটি জনগোষ্ঠী চিকিৎসা, শিক্ষাসহ নানা মৌলিক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এম হাফিজউদ্দিন খান বলেন, যারা আইন-নীতি করছেন, তারা সচেতন নন। অনেক ক্ষেত্রে তারা ভালোভাবে বিষয়টা বোঝেন না, উপলব্ধি করেন না। প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ প্রতিবন্ধী মানুষের জন্য সরকারের উচিত আলাদা একটি বিভাগ করা। একই সঙ্গে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার আদায়ে সামাজিক আন্দোলনে নামতে হবে। মিডিয়া এখানে বড় ভূমিকা পালন করতে পারে।

অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ্ কবির বলেন, বাংলাদেশের মেডিক্যাল শিক্ষাব্যবস্থায় প্রতিবন্ধীদের চিকিৎসা দেওয়ার অধ্যায় যুক্ত করা উচিত। পরিবর্তন আসতে হবে আমাদের মানসিকতায়ও।

গবেষণার ফলাফলের ওপর আলোচনায় অংশ নেন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা প্রতিবন্ধীরা। তাদের একজন নাজমা বেগম পপি বলেন, ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টারগুলোতে প্রতিবন্ধীরা সেবা পান না। সেখানে দক্ষ লোকের অভাব আছে। রিফাত পাশা বলেন, সরকারি-বেসরকারি কোনো হাসপাতালেই প্রতিবন্ধীবান্ধব টয়লেটের ব্যবস্থা নেই।ৎসাসেবা পান না প্রতিবন্ধীরা

 

[sorce/amadershomoy]