তারুণ্যের ভাবনা ও পেশার প্রগতির নানা দিক



  • Add Comments
  • Print
  • Add to Favorites

বাংলার তরুণদের ইতিহাস সমৃদ্ধ ইতিহাস । তরুণরা তার প্রমাণ রেখেছে বারবার। ৪৭,৫২, ৭১ -কোনটাতেই তারুণ্যের শক্তিকে খাটো করে দেখার অবকাশ নেই।
বাংলার ফিজিওর তরুণ পেশাজীবীদের মধ্যে থাকবে উচ্ছ্বাস, সত্যকে জানার ও শেখার আগ্রহ এবং ক্রমেই তা বাড়বে; সৃষ্টি ও কৃষ্টিতে হবে বলীয়ান ও সাহসী—এমনটাই স্বাভাবিক। এর মাধ্যমেই তারা পেশার মৌলিক প্রশ্নে বিভ্রান্তি, বিভক্তি এবং এর দ্বারা প্রভাবিত হওয়ার সুযোগ রোধ করবে। নিজেরা যেমন বিভ্রান্তিতে থাকবে না,তেমনি অন্যকে মতামত দেয়ার স্বাধীনতার মাধ্যমে সব কিছু জেনে বুঝে চিন্তা করে সত্যকে সত্য মনে করে বিশ্বাসকে পাকাপোক্ত করবে, তেমনি অন্যকেও সত্য জানতে ও মানতে উৎসাহিত করবে। এভাবে এদের মধ্যে পেশার প্রতি ভালবাসা ও শ্রদ্ধা জাগ্রত হবে, বাড়বে জবাবদিহি এবং এর ফলে দায়বদ্ধতা তৈরি হবে। সব শেষে সচেতনতা তৈরির পথ হবে সহজ। এমন চারণভূমি তৈরিতে বয়স্কদের ভূমিকা অগ্রগণ্য। ফিজিওথেরাপি পেশায় বহুমাত্রিকতা প্রবলভাবে বিদ্যমান থাকায় বিভ্রান্তির সুযোগ তুলনামূলক-ভাবে বেশি। বিভ্রান্তি আপনাআপনি তৈরি হয় না। পেশায় নেতৃত্ব দানকারী ব্যক্তিরা, তারা যে ধরনেরই হোক না কেন, এর পেছনে তাদের প্রত্যক্ষ ভূমিকা রয়েছে। তরুণদের বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস আমরা লক্ষ করি বিভিন্ন সেমিনার এবং কোর্সে। এই সকল ক্ষেত্রে নিজেদের প্রকাশ করে তারা জানিয়ে দেয় তাদের আশার কথা এবং প্রত্যাশার সীমা। এরা পেশা নিয়ে আশায় বুক বাঁধে। যখনই তরুণরা বোধযুক্ত ও ন্যায়ের পক্ষে আর মৌলিক প্রশ্নে ছিল এক তখনই এসেছে সফলতা, যা আমাদের মুক্তিযুদ্ধ। এ রকম অসংখ্য তরুণ রয়েছে আমাদের এই পেশায়, তবে তারা এক জায়গায় হয়তো পেশার ইস্যুতে দাঁড়াতে পারে না; মেনে নিতে পারে না মতামত প্রকাশের স্বাধীনতা, সকলের কথা জেনে ও শুনে খুঁজে নিতে চায় না সত্যকে ।
তরুণদের মধ্যে আরেকটি ভাগ রয়েছে, যাদের উচ্ছ্বাসের বালাই নেই। অনেক কিছু থ্রিল হিসেবে দেখে ও ভাবে। নিজেদের নিয়ে একটু বেশি ভাবে,পেশার থেকেও। ব্যক্তিগত চিন্তা-চেতনা ও লাভ-ক্ষতির বাইরে পেশা নিয়ে তেমন চিন্তা করতে পারে না বা করে না। নিজস্ব চাওয়া-পাওয়া তাদের কাছে বড় বিষয়। এদের মধ্যে কেউ বিভ্রান্তিতে থাকে, কেউ বা কারো দ্বারা প্রভাবিত হয়ে মন্দকে ভালো বলে জানে আবার অনেকে কোনো প্রতিক্রিয়া দেখানোর প্রয়োজন মনে করে না। শিক্ষার্থীদের মধ্যে এমন সংখ্যা কম নয়।

তরুণরা পেশার উন্নয়নের হাতিয়ার হিসেবে নিজেদের মনে করলে বিপথগামী তরুণ শুধু নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত থাকা তরুণে রূপান্তরিত হতে পারে। এটি তেমন ক্ষতিকর নয়। মন্দের ভালো আর কি। আবার বিপথগামী ও নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত থাকা তরুণ হতে পারে প্রথম ধরনের উচ্ছ্বাস ও সব ধরনের সচেতনতায় পরিপূর্ণ তরুণ। সংখ্যায় শেষ ক্যাটাগরির তরুণরা কম হলেও বিবিধ কারণে এদের সংখ্যা বাড়ছে বৈ কোনোভাবে কমছে না। তরুণরা নিজেদের বুঝবে, জানবে, শিখবে, উচ্ছ্বাস নিয়ে বেঁচে থাকবে, স্বপ্ন দেখবে এবং ছোটদের দেখতে উৎসাহী করবে। এমন পরিবেশ তৈরিতে বড়রা কাজ করতে পারে সর্বতোভাবে ও সর্বান্তঃকরণে। আমাদের ভাবতে হবে, আমরা এমনটি কতটুকু করি কিংবা করতে চাই। আমরা বড়রা উপরোক্ত তরুণদের কোনো না কোনোভাবে উৎসাহিত করছি। আমাদের ভিন্নতা উৎসাহিত করছে তরুণদের ভিন্নতাকে। পরিবর্তনের জন্য শুরুটা করা যেতে পারে বড়দের দিয়ে। সম্ভাবনার প্রশ্নটি সবার কাছে রইল।
সৈয়দ শামীম আহসান মারুফ
প্রকাশক ও সম্পাদক
Physionews24.com

No Comments to “তারুণ্যের ভাবনা ও পেশার প্রগতির নানা দিক”

Comments are closed.