দীর্ঘদিন ব্যথানাশক ওষুধ সেবন ঠিক নয়

0
73
Print

আমরা কোনো না কোনো ব্যথায় আক্রান্ত হয়ে ব্যথানাশক ওষুধ সেবন করে থাকি। এতে সাময়িকভাবে ব্যথা দূর হয় বটে, কিন্তু তা দীর্ঘদিন সেবন করলে উপকারের চেয়ে অপকার হয় বেশি। অনেকেই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দিনের পর দিন, মাসের পর মাস, বছরের পর বছর ব্যথানাশক ওষুধ খাচ্ছে তো খাচ্ছেই। আর্থ্রাইটিস বা বাত কিংবা বয়সজনিত হাড়ের ক্ষয়রোগ, যেমনÑ রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস, এনকাইলোজিং স্পন্ডাইলাইটিস, অস্টিওআর্থ্রাইটিস, স্পন্ডাইলোসিস ইত্যাদি রোগে আক্রান্ত রোগীদের নিয়মিত কোনো না কোনো ব্যথানাশক ওষুধ খেতে হয়-ই। নইলে ব্যথার তীব্রতা অসহনীয় পর্যায়ে চলে যায়।দীর্ঘদিন ব্যথানাশক ওষুধ খেলে আমাদের শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলো, যেমনÑ কিডনি, লিভার, পাকস্থলীর মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। এমনকি বিকলও হয়ে যেতে পারে। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে রোগীর দেখা দেয় বিভিন্ন উপসর্গ। যেমনÑ তীব্র পেটব্যথা, পায়খানার সঙ্গে রক্ত যাওয়া, রক্তবমি, পা ও মুখ ফুলে যাওয়া, চোখের নিচে পানি জমা, প্রস্রাব কম হওয়া বা বন্ধ হয়ে যাওয়া ইত্যাদি। একাধিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, বর্তমানে বাংলাদেশে ব্যথানাশক ওষুধজনিত আলসার ও কিডনি রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে চলেছে, যা প্রতিরোধ না করলে মহামারী আকার ধারণ করতে পারে। তাই যারা ব্যথা, আর্থ্রাইটিস বা বাত রোগে ভুগছেন (হাঁটু, ঘাড়, কোমর ও কাঁধে ব্যথা), তারা ব্যথানাশক ওষুধের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন আধুনিক ফিজিওথেরাপি চিকিৎসার মাধ্যমে ব্যথামুক্ত জীবনযাপন করতে পারেন। একজন ফিজিওথেরাপি বিশেষজ্ঞ রোগীর শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ ও রোগ নির্ণয় করে সে অনুযায়ী ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা নির্ধারণ করে থাকেন। এ চিকিৎসার মাধ্যমে রোগীর ব্যথা কমে আসে, জয়েন্ট বা অস্থিসন্ধির নড়াচড়া সহজ হয় এবং মাংশপেশির কার্যক্ষমতা বাড়ে ও রোগী স্বাভাবিক চলাচল করতে পারেন।

লেখক : বাতব্যথা, প্যারালাইসিস রোগে ফিজিওথেরাপি বিশেষজ্ঞচেয়ারম্যান ও চিফ কনসালট্যান্টঢাকা সিটি ফিজিওথেরাপি হাসপাতাল, ধানম-ি, ঢাকা। ০১৭৮৭১০৬৭০২