নিয়মিত হাঁটুন

0
3

এ এক দারুণ দৃশ্য! সূর্য ওঠার আগেই রমনা উদ্যানের সকাল শুরু হয় কেডস কিংবা ক্যাম্বিসের জুতা চাপিয়ে হাঁটতে আসা প্রান্তজনের পদচারণায়। শত শত মানুষ পিপীলিকার মতো সারিবদ্ধ হয়ে হেঁটে চলেছেন অবিরাম। হাঁটতে হাঁটতে কখনও একটু থামছেন কিংবা পাশের সঙ্গীর সঙ্গে কথা বলছিলেন। এ দৃশ্য রোববার ভোরের, রাজধানীর রমনা উদ্যানের। প্রতিদিনই সেখানে এমন দৃশ্য নজরে আসে। শুধু রমনা উদ্যানই নয়, চন্দ্রিমা উদ্যান, ধানমণ্ডি লেকসংলঘ্ন ওয়াকওয়ে, বলধা উদ্যান কিংবা যে কোনো খোলা উদ্যানে প্রতিদিন সকালেই হাঁটতে ভিড় জমান নানা বয়সী নারী-পুরুষ। ডায়াবেটিস প্রতিরোধে হাঁটার কোনো বিকল্প নেই- এ মন্ত্র মেনেই প্রতিদিনই হেঁটে চলেছেন হাজারো মানুষ।

রাজধানীর প্রাতঃভ্রমণের মূল কেন্দ্র রমনা উদ্যান। এখানে হাঁটতে সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা যেমন আসেন, তেমনি আসেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। আর তাদের হাঁটাহাঁটির এ পথচলায় এ উদ্যানে গড়ে উঠেছে নানা সংগঠন। বাহারি নামের এ সংগঠনগুলো হলো- ক্ষণিকের মিলন, শতায়ু অঙ্গন, মহিলা অঙ্গন, রমনা ঊষা সংঘ, সুপ্রভাত, ব্যতিক্রম, বনলতা, ভোরের বিহঙ্গ, কিছুক্ষণ, অঘ্নিবীণা, রমনা প্রভাতী, জাহাঙ্গীর সার্কেল এবং ক্ষণিকা। সাধারণত সকাল-সন্ধ্যায় হাঁটতে আসা মানুষরাই রমনা পার্ক ঘিরে এসব সংগঠন গড়ে তুলেছেন।

রমনা উদ্যানে নিয়মিত হাঁটতে আসেন সেগুনবাগিচার আজমল হক। তিনি বললেন, উদ্যানটিই হাঁটার জন্য এ শহরে সর্বশ্রেষ্ঠ। ডায়াবেটিস প্রতিরোধে হাঁটাহাঁটি শুরু করলেও, পরে হৃদযন্ত্রের নানা সমস্যার কারণে নিয়মিত এখানে হাঁটেন। যদি উদ্যানের নিরাপত্তাটা আরও জোরদার করা যায়, তাহলে এ উদ্যান প্রাতঃভ্রমণকারীদের জন্য আরও ভালো হবে বলে মনে করেন তিনি।

প্রাতঃভ্রমণকারীদের আরেকটি প্রিয় স্থান চন্দ্রিমা। সংসদ ভবনের বিপরীতে ৭৪ একর জায়গা নিয়ে চন্দ্রিমা উদ্যান অবস্থিত। সেখানেও গড়ে উঠেছে সংগঠন- চন্দ্রিমা উদ্যান ফিটনেস ক্লাব। সে ক্লাবের একজন সদস্য মোহাম্মদ আলী সমকালকে বলেন, মোহাম্মদপুরের বাবর রোডে তার বাসা। সেখান থেকে প্রতিদিনই সকালে হেঁটে চলে আসেন এখানে। ঘণ্টাখানেক হাঁটা আর কিছু ফ্রিহ্যান্ড ব্যায়াম করেন প্রতিদিনই। ফলে তার ডায়াবেটিস এখন নিয়ন্ত্রণে। তবে পার্কের পরিবেশন নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করলেন তিনি। বললেন, সকাল ৯টার পর থেকে এ পার্কের পরিবেশ ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যায়। সন্ধ্যার পরও পরিবেশ খুবই খারাপ থাকে। ফলে পরিবারের অন্য সদস্যদের নিয়ে এখানে হাঁটতে আসাটা কঠিন।

ধানমণ্ডির শংকরের বাসিন্দা আসিফুর রহমান। বছর খানেক আগে তার ডায়াবেটিস ধরা পড়ে। আর তাতেই ভড়কে গিয়ে তিনি প্রতিদিন সকালে হাঁটা শুরু করেন। বললেন, ধানমণ্ডির চার নম্বরে ছেলেকে স্কুলে দিয়ে লেকের চারপাশ ধরে হাঁটেন। ফলে ডায়াবেটিস যেমন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, তেমনি মুটিয়ে যাওয়া থেকেও রেহাই পেয়েছেন তিনি।