পিল কি খারাপ না ভালো ?

0
190

বনশ্রী সাহা রায়
গনস্বাস্থ্য সমাজ ভিত্তিক মেডিকেল কলেজ।
হরহামেশাই টিভিতে বিজ্ঞাপন দেখেন নরডেট টুয়েন্টি এইট,ওভাকন,ফেমিকন,রোজেন টুয়েন্টি এইট ইত্যাদি নানা নামের জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল।যদিও বিজ্ঞাপনে বলা হয় এটা একটা নিরাপদ জন্ম নিয়ন্ত্রন পদ্ধতি তবু এই পিল নিয়ে অনেকের মধ্যে রয়ে গেছে অনেক দ্বিধা ।বিশেষত মহিলারা এই বিষয়টা নিয়ে এখনো বেশ লজ্জায় ভোগেন।নতুন বিয়ে হয়ে আসা মেয়েটার সমস্যা মনে হয় সবচেয়ে বেশি।এই ব্যাপারে কথা বলার জন্য স্বাস্থ্য কেন্দ্র বা হসপিটালে যেতেও নতুন দম্পতির দ্বিধার শেষ থাকেনা।আবার কোন কোন ভাবি,দাদি,নানী প্রভৃতি আত্মীয়-স্বজনের মুখে শুনেছে নতুন বৌ যে,পিল দীর্ঘদিন খেলে বাচ্চা নিতে অসুবিধা হয়।আসলে সত্যিটা কি??পিল কি সত্যি খুব খারাপ জিনিস না ভালো??দীর্ঘদিন খেলে কি আসলেই বাচ্চা নিতে অসুবিধা হয়???এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর নিয়েই আমার আজকের লেখা।
প্রথমে আসি,মুখে খাবার জন্মনিয়ন্ত্রণকারী পিল জিনিসটাতে কি থাকে যা গর্ভে বাচ্চা আসা রোধ করে তার ব্যাপারে।আমি আজ মূলত আলোচনা করব কমবাইন্ড ওরাল কন্ট্রাসেপটিভ পিল নিয়ে।এই ধরনের পিল আমাদের দেশের মহিলারা বেশি ব্যবহার করে থাকেন।এই ধরনের পিলের হাজারও উদাহরনের মধ্যে যেমন -সুখী ফেমিকন,ওভাকন,মায়া,রোজেন টুয়েন্টি এইট প্রভৃতি।এ পিলে দুইটা হরমোন একত্রে দেয়া থাকে।হরমোন দুইটা হলো-ইস্ট্রজেন এবং প্রজেস্টিন।
কিভাবে কাজ করে এই পিল এবার সেটা জানব আমরা,
একজন সুস্থ প্রজনন সক্ষম নারীর প্রতি মাসে মাসিক হয় ২৮-৩০ দিন সাইকেল হিসেবে।তখন এই সাইকেলের মাঝামাঝি সময় প্রতিটি নারীর ডিম্বপাত ঘটে অর্থাৎ ডিম্বাশয় থেকে একটি ডিম্বানু বের হয়।সাধারনত ১৪ তম দিনে এই ঘটনা ঘটে।যখন একজন নারী এই জন্মনিয়ন্ত্রনকারী পিল খাবে তখন পিলের ভিতরে থাকা ইস্ট্রোজেন হরমোন ডিম্বানু তৈরীর জন্য দায়ী ফলিকল স্টিমুলেটিং হরমোনের বৃদ্ধিকে বাঁধা প্রদান করে এবং প্রজেস্টিন বাঁধা দেয় লুইটিনাইজিং হরমোনকে।যার ফলে ডিম্বানু পরিনত হতে পারেনা এবং তা বেরও হতে পারেনা।আর ডিম্বানু যদি তৈরী না হয় তবে যৌন মিলনের ফলে পুরুষের শুক্রানু বা স্পার্ম মিলিত হতে পারেনা ডিম্বানু বা ওভামের সাথে।আর ওভাম এবং স্পার্ম মিলিত না হলে প্রেগনেন্ট হওয়া অসম্ভব।এভাবেই জন্মনিরোধোক পিল প্রেগনেন্সি রোধ করে।
*কারা জন্মনিরোধক পিল হিসেবে কম্বাইন্ড ওরাল কন্ট্রাসেপটিভ পিল ব্যবহার করতে পারবেন না ??
হাই ব্লাড প্রেশার বা হাইপারটেনশন,মাই গ্রেইন,হার্টের কোন রোগ থাকলে,লিভারের সমস্যা,গর্ভাবস্থায়,ডায়াবেটিস,বাচ্চা যদি বুকের দুধ খায় বিশেষ করে বাচ্চা জন্মের ৬সপ্তাহের মধ্যে এই পিল খাওয়া যাবেনা।এছাড়াও নারীর বয়স ৪০বছরের বেশি হলে এই পিল খাওয়া উচিৎ নয়।
কমবাইন্ড ওরাল কন্ট্রাসেপটিভ পিল গ্রহনের সুবিধা:প্রথমত অনাকাঙ্খিত গর্ভ রোধ করে।
এই পিল ব্যবহারে অনিয়মিত মাসিক নিয়মিত হয় মাসিকের সময় ব্যাথা হয় অনেকের তলপেটে বা শরীরের নিম্নাংশে।এই সমস্যার সমাধানেও পিল খুব উপকারী।
যাদের রক্তস্রাব বেশি হয় তাদেরও ভালো ফল দিবে এই পিল।
এছাড়াও আপনাকে রক্ষা করবে ডিম্বাশয়ের ক্যানসার,এন্ডোমেট্রিয়াল ক্যানসার থেকে।
এবারে আসা যাক এই পিলের ক্ষতিকর দিক কি কি আছে।
মাথা ব্যাথা,বমি,পায়ের মাংসপেশী গুলোতে ক্রাম্পিং বা সোজা বাংলায় পা কামড়ানোর মত সমস্যা দেখা দিতে পারে।সাধারনত দুই বা তিন মাস পর এই সমস্যা থাকে না কিন্তু তারপরও যদি এগুলো দেখা দেয় তাহলে ডাক্তারের শরনাপন্ন হওয়া ভালো।
এছাড়াও স্তনে ব্যথা হতে পারে।
বেড়ে যেতে পারে ওজন।
অনেক সময় একনি বা ব্রন জাতীয় চামড়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে।
গর্ভপাত হওয়ার সম্ভবনা থাকে।
অতিরক্ত সাদা স্রাব হওয়া।
এছাড়াও ডিপ্রেশন,হাইপার
টেনশন,রক্তনালীর বিভিন্ন অসুখ তৈরী করতে পারে এই পিল।
এই হলো জন্মনিরোধোক পিলের নানান কথা।