প্রতিবন্ধী ও প্রতিবন্ধীতা ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠির একমাত্র আশ্রয়স্থল-প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্র



  • Add Comments
  • Print
  • Add to Favorites

০২ রা এপ্রিল ২০১৭ বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস, এ দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয় হলো-“ স্বকীয়তা ও আতœপ্রত্যয়ের পথে” এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সর্বপ্রথম শ্রদ্ধা ভরে স্মরণ করছি সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী, বাঙ্গালী জাতীর গর্ব ও অহংকার, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় চারনেতা, ১৯৫২ সালে ভাষার জন্য যারা শহীদ হয়েছেন, ১৯৭১ সালে যারা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর ডাকে যুদ্ধ করে ছিনিয়ে এনেছেন বিশ্বের বুকে লাল সবুজের পতাকার দেশ বাংলাদেশ এবং ১৯৭৫ সালে ১৫ই আগস্টে যারা অকালে প্রাণ হারালেন তাদের সকলকে।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বপ্ন দেখেছিলেন একটি স্বাধীন সার্বোভৌম রাষ্ট্রের যেখানে অন্ন, বস্ত্র, শিক্ষা, বাসস্থান ও চিকিৎসায় থাকবেনা কোন ঘাটতি। যুগোপযোগী নতুন নতুন আধুনিক বিজ্ঞানের ছোঁয়ায় বাংলাদেশ হবে উন্নত থেকে উন্নতর। থাকবেনা ধনি গরীবের ব্যবধান, দেশের মানুষ আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত হবে, জাতি উন্নত হবে। সমাজের অনগ্রসর, অবহেলিত, সুবিধা বঞ্চিত প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীকে মূল ¯্রােতে সম্পৃক্ত করতে হবে, তারা সমাজের বোঝা থেকে সম্পদে রূপান্তরিত হবে। সকলের সক্রিয় অংশগ্রহণে তৈরী হবে সবুজ শ্যামল সোনার দেশ বাংলাদেশ।
জাতির জনকের সেই স্বপ্ন পূরণের ভার নিয়েছেন তারই সুযোগ্য কন্যা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার প্রধান মাননীয় প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সুযোগ্য কন্যা ড. সায়মা ওয়াজেদ হোসেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশক্রমে, সমাজের অনগ্রসর, অবহেলিত, সুবিধা বঞ্চিত প্রতিবন্ধী ও প্রতিবন্ধিতা ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠিকে পূনর্বাসন চিকিৎসা, শিক্ষা, কারীগরী প্রশিক্ষণ, কর্মমূখী শিক্ষা, সহায়ক উপকরণ বিতরণ, প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার প্রতিষ্ঠা সহ সকল সুযোগ- সুবিধা সৃষ্টি ও নিশ্চিত করার লক্ষে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন কাজ কওে যাচ্ছে ।
সরকারী পৃষ্ঠপোষকতায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কল্যাণ ও উন্নয়নে গৃহীত কার্যক্রম বাস্তবায়নের নিমিত্তে মন্ত্রিসভা বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ভেটিং গ্রহণ পূর্বক সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন নং সকম/প্রতিবন্ধী/৪৮/৯৮-৪৩৩,তারিখ ১৬-১১-১৯৯৯ মূলে এই জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন গঠিত হয়। বিগত ১৬-০২-২০০০ তারিখে গেজেট এর মাধ্যমে জতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন সংঘস্মারক ও গঠনতন্ত্র প্রকাশ করা হয়। জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন সরকারের সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সরকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।
প্রতিবন্ধী ও প্রতিবন্ধিতা ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠির সকল সুযোগ-সুবিধা জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন, গ্রামের সাধারণ মানুষের দ্বারে দ্বারে পৌঁছে দেয়ার জন্য প্রতিষ্ঠা করা হয় ‘প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্র’ ও “মোবাইল থেরাপি ভ্যান ক্যাম্পেইন”।
আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রধান পৃষ্ঠপোষকতায় সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এর অধীনে পরিচালিত জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন কর্তৃক বাস্তবায়নে ২০০৯-১০ অর্থবছরে ০৫ টি “প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্র” পরিক্ষামূলক ভাবে চালু করা হয়। সময়ের অগ্রগতির সাথে সাথে এসব সেবা কেন্দ্রের চাহিদা বৃদ্ধি পেতে থাকে এবং ২০১৪-১৫ অর্থ বছর পর্যন্ত প্রতিটি জেলায় (৬৪ টি) ও উপজেলায় (৩৯টি) সর্বমোট ১০৩ টি সেবা কেন্দ্র স্থাপন করা হয়।
এসব “প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্র” এর মাধ্যমে শনিবার হতে বুধবার, সকাল ০৯.০০ টা থেকে বিকাল ০৫.০০টা পর্যন্ত সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ফিজিওথেরাপি, অকুপেশনাল থেরাপি, স্পীচ এন্ড ল্যাংগুয়েজ থেরাপি, আকুপাংচার থেরাপি, কাউন্সিলিং সেবা প্রদান, সহায়ক উপকরণ বিতরণ করা হয়ে থাকে । এসব প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্রে “স্পেশাল স্কুল ফর চিলড্রেন উইথ অটিজম”, অটিজম কর্ণার ও এন. ডি.ডি কর্নার স্থাপন করা হয়েছে। একদিকে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের হচ্ছে পূনর্বাসন চিকিৎসা সেবা , অন্যদিকে পাচ্ছে শিক্ষার সুযোগ। এসব সেবা কেন্দ্রে এ পর্যন্ত সর্বমোট প্রায় পাঁচ লক্ষ দশ হাজার (৫,১০,০০০) প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠিকে সর্বমোট পঁচিশ লক্ষ আঠারো হাজার (২৫,১৮,০০০) ধরনের সেবা প্রদান করা হয়েছে।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সুযোগ্য কন্যা ড. সায়মা ওয়াজেদ হোসেন এর আন্তরিক প্রচেষ্ঠায় প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠি তাদের অধিকার ফিরে পেয়েছে, কর্মসংস্থান, প্রশিক্ষণ, চিকিৎসা সেবা, পূনর্বাসন, শিক্ষা, সহায়ক উপকরণ প্রভৃতি বিষয়ে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। আর এসব সম্ভব হয়েছে জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন পরিচালিত ১০৩ টি প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্র এর মাধ্যামে।
প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্রের কার্যক্রম সারা বাংলাদেশে ছড়িয়ে দিতে ৩২ টি মোবাইল থেরাপি ভ্যান সংযুক্ত করা হয়েছে। এসব থেরাপি ভ্যান এর মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলে এসব সুযোগ-সুবিধা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। এভাবেই প্রতিবন্ধী ও প্রতিবন্ধিতা ঝুকিতে থাকা মানুষগুলো সম্পদে রুপান্তরিত হয়ে দেশ ও জাতির কল্যাণে এগিয়ে আসতে সক্ষম হচ্ছে। এতে করে একদিকে এই চিকিৎসা সেবা ও সহায়ক উপকরণ পেয়ে মানুষ স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে সক্ষম হচ্ছে অন্যদিকে বর্তমান সরকারের প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকারের বিষয়টি প্রতিষ্ঠিতি হচ্ছে। এই সেবা বৃদ্ধি করার পাশা-পাশি গণসচেতনতা বৃদ্ধি পেলে আমাদের দেশ আরো বেশি সমৃদ্ধশালী হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সুযোগ্য কন্যা ড. সায়মা ওয়াজেদ হোসেন এর আন্তরিকতায় অটিজম, নিউরোডেভেলপমেন্টালডিজঅর্ডার (ঘউউ) বিষয়ক বিভিন্ন কর্মসূচি এরইমধ্যে বিশ্বমহলে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে।

প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠির সেবার পরিধি বৃদ্ধি করার জন্য আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার প্রধান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ০২ রা এপ্রিল ২০১৪ সালে বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবসে জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনকে “প্রতিবন্ধী উন্নয়ন অধিদপ্তর” করার ঘোষণা প্রদান করেন। ওই বছরে ০২ নভেম্বর তারিখে সমাজকল্যাণ মন্ত্রনালয় পরিদর্শন কালে পুনরায় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন অধিদপ্তর বাস্তবায়ন করার নির্দেশনা প্রদান করেন।

তিনি ০৩ ডিসেম্বর ২০১৫ সালে বিশ্ব আর্ন্তজাতিক ও জাতীয় প্রতিবন্ধী দিবসে মোবাইল থেরাপি ভ্যান উদ্বোধন করেন। 

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ০২ রা এপ্রিল ২০১৬ সালে বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবসে প্রতিটি উপজেলায় একটি করে প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্র স্থাপন করার ঘোষণা দেন ।
২০১৭ সালের ১৮ জানুয়ারী জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মহোদয় জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন এর অর্গানোগ্রাম পরিবর্তন পূর্বক প্রতিষ্ঠানটিকে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রতিবন্ধী উন্নয়ন অধিদপ্তর করার প্রস্তাব প্রেরণ করেন [স্মারক নং-৪১.০২.০০০০.০০৬.০০.০১৭.২০১৭-৮৯]।

 

কিন্তুু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হল এই যে, সারাদেশের যে সব প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্র (১০৩টি) সমাজের অনগ্রসর, অবহেলিত, সুবিধা বঞ্চিত প্রতিবন্ধী ও প্রতিবন্ধিতা ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীকে সরাসরি সেবা প্রদান করে আসছে, সে সকল সেবা কেন্দ্রের জনবলকে প্রস্তাবিত প্রতিবন্ধী উন্নয়ন অধিদপ্তরে সম্পৃক্ত করা হয় নাই। তাই দীর্ঘ ০৮ বছর ধরে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সেবা প্রদানকারী সংশ্লিষ্ট সকলেই মানষিকভাবে অত্যন্ত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, সমাজকল্যাণ মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও সচিব মহোদয়ের নিকট আকুল আবেদন এই যে, প্রস্তাবিত প্রতিবন্ধী উন্নয়ন অধিদপ্তরে প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্র (১০৩টি) এর জনবল সম্পৃক্তকরণ সহ যুগোপযোগী পদ সৃষ্টি করে রাজস্বখাতে স্থানান্তরের প্রযোজনীয় পদক্ষেপ গ্রহন করার জন্য বিনীত অনুরোধ করছি।

বিনীত নিবেদক
এম.কে. পারভেজ
সভাপতি, স্বাধীনতা ফিজিওথেরাপিস্ট পরিষদ (ডিপ্লোমা ইউনিট)
মোবাইল- ০১৯১২৯৭৫৪৩৪

No Comments to “প্রতিবন্ধী ও প্রতিবন্ধীতা ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠির একমাত্র আশ্রয়স্থল-প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্র”

Comments are closed.