প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্রের ফিজিওথেরাপি সেবা – অসহায়ের সহায়



  • Add Comments
  • Print
  • Add to Favorites

গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর উপজেলার হামিন্দপুর গ্রামের দিনমজুর রেজাউল মিয়া। অভাবের সংসারে জন্ম নেয় ফুয়াদ মিয়া। জন্মের পর যথাসময়ে সে হাঁটতে ও কথা বলতে পারেনি। ছেলেকে নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়ে যান রেজাউল। টাকা খরচ করে ছেলের চিকিৎসা করার সামর্থ্য তাঁর নেই। পরে লোকজনের কাছ থেকে খবর পেয়ে গাইবান্ধা প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্রে ছেলেকে নিয়ে যান তিনি। সেখানে বিনা মূল্যে ৪৪ দিন সেবা নিয়ে সুস্থ হয়ে ওঠে ফুয়াদ (৭)।
রেজাউল মিয়া বলেন, ‘ধারদেনা করে একটা বেসরকারি ফিজিওথেরাপি সেন্টারে তিন মাস ছেলের চিকিৎসা করাই। একবার থেরাপি নিতে ৩০০ টাকা করে লাগত। তিন মাসে ২৭ হাজার টাকা খরচ হয়ে যায়। পরে টাকার অভাবে আর ওখানে ছেলের চিকিৎসা করাতে পারিনি। পরে গাইবান্ধা প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্রের খোঁজ পেয়ে ছেলেকে এখানে নিয়ে আসি। এখন ছেলে হাঁটতে ও কথা বলতে পারছে।’
ফুয়াদের মতো প্রায় ২০০ প্রতিবন্ধী ওই কেন্দ্রে বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা নিয়ে সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন করছে। অভাব-অনটন আছে—এমন পরিবারের শিশু ও বয়স্ক প্রতিবন্ধীদের দিকে সহায়তা করার জন্যই ২০১৩ সালে শহরের বন বিভাগ রোডে সরকার কেন্দ্রটি প্রতিষ্ঠা করে। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের আওতায় এটি পরিচালিত হচ্ছে।
এ কেন্দ্রে একজন করে কনসালট্যান্ট (ফিজিওথেরাপি) ও (ক্লিনিক্যাল-ফিজিওথেরাপি), দুজন থেরাপি সহকারী এবং দুজন টেকনিশিয়ান আছেন। এখানে শ্রবণ ও বাক্প্রতিবন্ধী, দুর্ঘটনায় আহত, পক্ষাঘাতগ্রস্ত রোগীদের সেবা দেওয়া হয়। বিনা মূল্যে চোখ ও কানের পরীক্ষাও করা হয়। অথচ গাইবান্ধায় বেসরকারি ফিজিওথেরাপি সেন্টারগুলোতে প্রত্যেক রোগীকে একবার থেরাপি নিতে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা ফি দিতে হয়।
সূত্রটি আরও জানায়, গত দেড় বছরে এ কেন্দ্রে ১ হাজার ১৫৩ জনকে ফিজিওথেরাপি সেবা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২০০ জন সম্পূর্ণ সুস্থ হয়েছেন। অবশিষ্ট ৯৫৩ জন বর্তমানে থেরাপি সেবা নিচ্ছেন। এখানকার ফিজিওথেরাপি চিকিৎসক মোস্তাফিজুর রহমান এবং বারীউল ইসলাম বলেন, প্রতিবন্ধীরা এখান থেকে চিকিৎসা নিয়ে উপকৃত হওয়ায় প্রতিদিনই রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।
ফুলছড়ি উপজেলার চরকাবিলপুর গ্রামের দিনমজুর ওমর আলী বলেন, ‘আমি সংসারে একমাত্র কর্মক্ষম মানুষ। বছর খানেক আগে মাটি কাটতে গিয়ে কোমরে আঘাত পাই। তার পর থেকে হুইলচেয়ারে চলাফেরা করতাম। কাজ করতে না পারায় অর্ধাহারে-অনাহারে দিন কাটছিল। পরে এখান থেকে থেরাপি নিয়ে আবার দিনমজুরি শুরু করেছি।’
গাইবান্ধার প্রতিবন্ধীবিষয়ক কর্মকর্তা মেহেদী হাসান বলেন, সেবাকেন্দ্রটি ভাড়া বাসায় পরিচালিত হচ্ছে। প্রতিবন্ধীদের পরিপূর্ণ সেবা দেওয়ার উপযোগী নিজেদের অবকাঠামো নির্মিত হলে সেবার মান আরও বাড়ানো সম্ভব হতো।
জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তর সূত্র জানায়, চিকিৎসকদের মাধ্যমে প্রায় ২৫ লাখ লোক-অধ্যুষিত গাইবান্ধা জেলায় ২৬ হাজার ৮৯৩ জন প্রতিবন্ধী শনাক্ত করা হয়েছে। এটি মোট জনসংখ্যার প্রায় শতকরা ১ দশমিক ১৩ ভাগ। এদের বড় একটি অংশকেই যথাযথ চিকিৎসাসেবা দিয়ে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।

সূএ- Prothom-Alo_fsccms

Tags: , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , ,

No Comments to “প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্রের ফিজিওথেরাপি সেবা – অসহায়ের সহায়”

Comments are closed.