ফিজিওথেরাপিতে আস্থা – গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতাল



  • Add Comments
  • Print
  • Add to Favorites

মো. নাসির উদ্দীন তৈরি পোশাকের ব্যবসায়ী। বয়স পঞ্চাশের বেশি। বাসা রাজধানীর উত্তরায়। গত মার্চে কানাডা গিয়েছিলেন ছেলেকে দেখতে। সেখানে অসুস্থ হয়ে পড়েন। ওই দেশের হাসপাতালেই মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করা হয়। কানাডার চিকিৎসকেরা পরামর্শ দিয়েছিলেন, মানসম্পন্ন ফিজিওথেরাপি নেওয়ার জন্য।
১ জুন সন্ধ্যায় নাসির উদ্দীনের সঙ্গে কথা হয় গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালে। তিনি ওই হাসপাতালে এসেছিলেন ফিজিওথেরাপি নেওয়ার জন্য। রাজধানীর ধানমন্ডির সায়েন্স ল্যাবরেটরি এলাকায় পাশাপাশি বেশ কয়েকটি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে আসা রোগীর চাপে এই এলাকায় যানজটের সৃষ্টি হয় প্রায় প্রতিদিন।
তবে চাকচিক্য কম থাকা গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা তুলনায় কম চোখে পড়ে। ২০০ শয্যার এই হাসপাতালে একমাত্র ব্যতিক্রম ফিজিওথেরাপি বিভাগ। এই বিভাগে প্রতিদিনই রোগীর ভিড় থাকে। মো. নাসির উদ্দীন জানান, ২০০৭ সালে তাঁর ‘স্পন্ডেলাইটিস’ (শিরদাঁড়া শক্ত হওয়া) ধরা পড়ে। ডান হাত ও পা সরু হতে থাকে। চিকিৎসকেরা ফিজিওথেরাপির পরামর্শ দিয়েছিলেন। বেশ কয়েকটি হাসপাতাল ও ক্লিনিক ঘুরে গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালে এসেছিলেন। সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠেন। প্রথম আলোকে বলেন, ‘এদের (গণস্বাস্থ্য) ফিজিওথেরাপির কোনো বিকল্প নেই।’
ফিজিওথেরাপি বিভাগের প্রধান নাসিমা ইয়াসমিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘এখানে আসলে কেউ প্রতারিত হয় না। যার যেটুকু সেবা দরকার আমরা তা দেওয়ার চেষ্টা করি। এটাই রোগী আসার প্রধান কারণ।’ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের পর প্রতিবন্ধিতা এড়াতে ফিজিওথেরাপির দরকার হয়। কোনো কারণে অস্থির সংযোগস্থল বা পেশি শক্ত হয়ে গেলে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে এই থেরাপি দেওয়া হয়। ফিজিওথেরাপির উদ্দেশ্য শরীরের যন্ত্রণা কমানো ও শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের কাজ ঠিক রাখা বা আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিয়ে আসা।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে প্রতিদিন ৮০-৯০ জন রোগী ফিজিওথেরাপি নেওয়ার জন্য আসেন। ১৫টি পৃথক কক্ষে তাঁদের চিকিৎসা দেওয়ার ব্যবস্থা আছে। প্রত্যেক রোগীকে কমপক্ষে আধা ঘণ্টা সেবা দেওয়া হয়। প্রতিবার রোগীর কাছ থেকে ৬০০ টাকা করে নেওয়া হয়। যাঁদের গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের বিমা করা আছে, তাঁরা সেবা পান ২৫০ টাকায়। মুক্তিযোদ্ধা ও ভিক্ষুকেরা এই সেবা বিনা মূল্যে পেয়ে থাকেন। এ ছাড়া দরিদ্রদের জন্য আছে ছাড়।
এখানে তিন ধরনের সেবা আছে। হাসপাতালে ভর্তি থেকেও ফিজিওথেরাপি নেওয়া যায়। হাসপাতালে এসে সেবা নিয়ে বেশির ভাগ চলে যান (আউটডোর সেবা)। এ ছাড়া যাঁরা হাসপাতালে আসতে পারেন না, তাঁদের বাড়ি বা বাসায় গিয়ে সেবা দেওয়া হয়। সে ক্ষেত্রে রোগীকে দুই হাজার টাকা দিতে হয়।
নাসিমা ইয়াসমিন বলেন, রোগী যেন ‘ড্রপ আউট’ না হয় সে বিষয়ে এই বিভাগের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা বিশেষ সচেতন। যে রোগীর ১০ সেশন (অধিবেশন বা বৈঠক) থেরাপি দরকার, তাঁর যেন কোনো অজুহাতে ১২ সেশন না লাগে, অন্যদিকে পাঁচ সেশন পর কেউ যেন তা বন্ধ করে না দেন, তা গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়। বেশ কিছুদিন ধরে এই হাসপাতালে থেরাপি নিচ্ছেন কলাবাগানের ডলফিন গলির গৃহিণী নাসরিন আখতার। স্বামী ব্যবসায়ী। এক আত্মীয়ের পরামর্শে গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালে আসেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘যে সেবা এরা দেওয়ার কথা বলেছিল, সেই সেবাই দিচ্ছে। ধাপে ধাপে আমার অবস্থার উন্নতি হচ্ছে।’




No Comments to “ফিজিওথেরাপিতে আস্থা – গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতাল”

Comments are closed.