বাংলাদেশে ফিজিওথেরাপি



  • Add Comments
  • Print
  • Add to Favorites

মোঃ আনোয়ার হোসেন
__________________________

ফিজিওথেরাপি কি:
ফিজিও (শারিরীক) এবং থেরাপি (চিকিৎসা) শব্দ দুটি মিলে ফিজিওথেরাপি বা শারিরীক চিকিৎসার সৃষ্টি । ফিজিওথেরাপি আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের এক অন্যতম এবং অপরিহার্য শাখা।
একজন ফিজিওথেরাপিস্ট রোগীর বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যা (প্রধানত বাত-ব্যথা, আঘাত জনিত ব্যথা, প্যারালাইসিস ইত্যাদি) নির্ণয় সহকারে  চিকিৎসা সেবা প্রদান করে থাকেন।

ফিজিওথেরাপি’র সূচনা:
ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা নতুন কোন চিকিৎসা পদ্বতি নয়। প্রাচীন গ্রীসে হিপোক্রেটাস ম্যাসেজ ও ম্যানুয়ালথেরাপি দ্বারা ফিজিওথেরাপি চিকিৎসার সূচনা করেছিলেন।খ্রিস্টপূর্ব ৪৬০ সালে হেক্টর ফিজিওথেরাপি চিকিৎসার একটি শাখা ব্যবহার করতেন যাকে বর্তমানে হাইড্রোথেরাপী বলা হয়।তথ্য-উপাত্ত অনুসারে ১৮৯৪ সালে ফিজিওথেরাপি চিকিৎসার বর্তমান ধারা অর্থাৎ ম্যানুয়াল থেরাপি, ম্যানিপুলেটিভ থেরাপি, এক্সারসাইজ থেরাপি, হাইড্রোথেরাপি, ইলেক্ট্রোথেরাপি ইত্যাদি চিকিৎসার প্রবর্তন করা হয়। নিউজিল্যান্ডে ১৯১৩ এবং আমেরিকাতে ১৯১৪ সালে ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা শুরু হয়।

বাংলাদেশে ফিজিওথেরাপি:
যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য ১৯৭২ সালে বিদেশী ফিজিওথেরাপিষ্ট দ্বারা স্বাধীন বাংলাদেশে ফিজিওথেরাপি চিকিৎসার সূচনা হয়। ফিজিওথেরাপী চিকিৎসার গুরুত্ব ও অনুধাবন করে ১৯৭৩ সালে আর আই এইচ ডি (বর্তমানে নিটোর) ফিজিওথেরাপী চিকিৎসার উপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা অনুষদের অধীনে স্মাতক ডিগ্রি চালু করা হয় (এমবিবিএস ও বিডিএস একই অনুষদের অধিভুক্ত) । বর্তমানে নিটোর,আই এইচ টি, পিপলস্‌ ইউনিভার্সিটি, গণবিশ্ববিদ্যালয়, স্টেট্‌ কলেজ অব হেলথ্‌ সায়েন্স সহ ৭টি ইনষ্টিটিউটে ফিজিওথেরাপী গ্রাজুয়েশন কোর্স চালু রয়েছে।যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য ১৯৭২ সালে বিদেশী ফিজিওথেরাপিষ্ট দ্বারা স্বাধীন বাংলাদেশে ফিজিওথেরাপি চিকিৎসার সূচনা হয়।

কেন এই ফিজিওথেরাপিঃ
আমরা যদি আমাদের শরীরের বিভিন্ন রোগের কথা চিন্তা করি তাহলে দেখতে পাব যে, শুধুমাত্র ঔষধ সব রোগের পরিপুর্ণ সুস্থতা দিতে পারে না কিছু কিছু ক্ষেএে ঔষধ এর পাশাপাশি অপারেশনের প্রয়োজন হয় তেমনি কিছু কিছু রোগে ঔষধ এর পাশাপাশি ফিজিওথেরাপি চিকিৎসার প্রয়োজন হয়। বিশেষ করে যে সব রোগের উৎস বিভিন্ন মেকানিক্যাল সমস্যা ও ডিজেনারেটিভ বা বয়সজনিত সমস্যা সেসব ক্ষেত্রে ঔষধের ভূমিকা তুলনামূলকভাবে কম।
যেমন: বাত – ব্যথা, স্পোর্টস ইনজুরি, হাড়ের ক্ষয় জনিত ব্যাথা, সারভাইক্যাল ও লাম্বার স্পন্ডাইলোসিস, ডিস্ক প্রলেপস, অষ্টিও-আরথ্রাইটিস, ফ্রোজেন সোল্ডার বা জয়েন্ট শক্ত হয়ে যাওয়া, প্লাস্টার বা অপারেশন পরবর্তী জয়েন্ট স্টিফনেসস, স্ট্রোক জনিত প্যারালাইসিস, ফেসিয়াল নার্ভ প্যারালাইসিস বা বেলস পালসি, সেরেব্রাল পালসি বা সিপি বাচ্চা ইত্যাদি।
তাহলে এসব রোগ হতে পরিপুর্ণ সুস্থতা লাভের উপায় কি?
এসব রোগ হতে পরিপুর্ণ সুস্থতা লাভের জন্য ঔষধ এর পাশাপাশি ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা প্রয়োজন।
ফিজিওথেরাপি পদ্ধতি–

একজন ফিজিওথেরাপিষ্ট রোগীর রোগ বর্ণনা, ফিজিক্যাল টেষ্ট, ফিজিওথেরাপিউটিক স্পেশাল টেষ্ট, প্রয়োজন সাপেক্ষে বিভিন্ন রেডিওলজিক্যাল টেষ্ট এবং প্যাথলজিক্যাল টেষ্ট এর মাধ্যমে রোগ নির্ণয় বা ডায়াগ্‌নোসিস করে থাকেন।
অত:পর রোগীর সমস্যানুযায়ী চিকিৎসার পরিকল্পনা অথবা ট্রিটমেন্ট প্লান করেনএবং সেই অনুযায়ী নিন্মোক্ত পদ্ধতিতে ফিজিওথেরাপি সেবা প্রদান করে থাকেন।

-ম্যানুয়াল থেরাপি
-ম্যানিপুলেটিভ থেরাপি
-মোবিলাইজেশন
-মুভমেন্ট উইথ মোবিলাইজেশন
-থেরাপিউটিক এঙ্ারসাইজ
-ইনফিলট্রেশন বা জয়েণ্ট ইনজেকশন
-পশ্চারাল এডুকেশন
-আরগোনমিক্যাল কনসালটেন্সী
-হাইড্রোথেরাপি
-ইলেকট্রোথেরাপি বা অত্যাধুনিক মেশিনের সাহায্যে চিকিৎসা।
-কিছু কিছু ক্ষেত্রে ড্রাগ্স বা ঔষধ।
.
কাদেরকে ফিজিওথেরাপি  দেওয়া হয়—
যারা নিম্নোক্ত স্বাস্থ্যগত সমস্যায় ভুগছেন, তাদের ফিজিওথেরাপি  দেওয়া হয়।
১।বাত-ব্যথা
২। কোমড় ব্যথা
৩। ঘাড় ব্যথা
৪। হাঁটু অথবা গোড়ালীর ব্যথা
৫। আঘাত জনিত ব্যথা
৬। হাড় ক্ষয় জনিত রোগ।
৭। জয়েন্ট শক্ত হয়ে যাওয়া
৮। স্ট্রোক
৯।প্যারালাইসিস জনিত সমস্যায়
১০।মুখ বেঁকে যাওয়া বা ফেসিয়াল পালসি
১১। বিভিন্ন ধরনের অপারেশন পরবর্তী সমস্যায়
১২। আইসিইউ (ওঈট) তে অবস্থানকারী রোগীর জন্য
১৩। পা বাঁকা (ক্লাবফিট)
১৪। গাইনোকলজিক্যাল সমস্যায়
১৫। সেরিব্রাল পলসি (প্রতিবন্ধী শিশু)
১৬। বার্ধক্যজনিত সমস্যাসহ বিভিন্ন রোগ

____________________________________

মোঃ আনোয়ার হোসেন
বি,পি,টি( চতুর্থ পেশাগত পরীক্ষা,আই এইচ টি-ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়)
ডিপ্লোমা ইন ফিজিওথেরাপি (রাষ্ট্রীয় চিকিতসা অনুষদ)




No Comments to “বাংলাদেশে ফিজিওথেরাপি”

Comments are closed.