বিদেশী পণ্য কিনে হই ধন্য!!!



  • Add Comments
  • Print
  • Add to Favorites

বাংলােদশের মানুষ সব সময় বিদেশী জিনিস পছন্দ করে। তা যাই হোক না কেন। জামা কাপড় থেকে শুরু করে মানুষ পর্যন্ত। বিদেশী শুনলেই তার প্রতি আকৃষট হয়ে পড়ে।বিদেশের পন্যর চেয়ে বাংলােদশের অনেক পণ্যও যে অনেক ভাল এটা বাংঙালীদের কাছে বিশ্বাস করা কঠিন হয়ে পড়ে। তাইতো ক্রাউন সিমেন্ট বিজ্ঞাপনে বলল,যখন ক্রাউন সিমেন্ট বিদেশে রপ্তানি হয় তখন ক্রাউনকে তো বিদেশি সিমেন্ট ই বলা হয়। এভাবেই আমাদের শিক্ষা দিল।

আমরা সব কিছুতেই বিদেশী খুজি এটা আমাদের স্বভাব। বলা যায় বাংঙালী স্বভাব। আমরা আমাদেরকেই মুল্যায়ন করি না। যাই হোক মুল কথায় আসি, সদ্য নিয়োগ পাওয়া বাংলােদশ ক্রিকেট বোর্ডের বর্তমান ফিজিও, যিনি বাংলােদশ টিমের সাথে নিউজিল্যানড সফরে গিয়েছিলেন তিনি একজন বিদেশী। তার নাম ডেন কনওয়ে। ইংল্যানডের অধিবাসী। সাদা চামড়ার মানুষ। তিনি নিয়োগ পাবার কারনে বাংলােদশ ক্রিকেট বোর্ডের আগের ফিজিও বায়েজিদুল ইসলাম বায়েজিদকে নিউজিল্যানডে নিবার দরকার মনে করেনি বাংলােদশ ক্রিকেট বোর্ড। দুই ফিজিও এক সংগে গেলে খরচ বেশি হবে বিধায় বাংলােদশী ফিজিওকে রেখে যায় বিসিবি। অথচ ২০১৫ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে বায়েজিদ ইসলাম বায়জিদ নামক বাংলােদশী ফিজিওর পারর্ফমেনস ছিল চোখে পড়ার মত। এই বিশ্বকাপ এ এনামুল হক বিজয় ছাড়া তেমন কোন খেলোয়ার ইনজুরিতে পড়ে নি। তখন থেকে সুনামের সাথেই দায়িত্ব পালন করছিলেন। হঠাৎ বিসিবির কি হল তাদের নাকি আরো ভাল ফিজিও দরকার। তাই ইংল্যানডের নাগরিক ডেন কনওয়েকে নিয়োগ দেন।ডেন কনওয়ের অধীনে নিউজিল্যানড সফরে বাংলােদশের ক্রিকেটারদের যেমন ফিটনেস দেখলাম, তাতে তো মনে হল সদ্য ফাসট ডিভিশন খেলতে আসা ক্রিকেটারদের মতো ফিটনেস।

বাংলােদশের ক্রিকেটের ইতিহাসে এক টুরে এতো ইনজুরিতে ক্রিকেটাররা কখনও পড়ে নি। এর দায় কি একটু হলেও ফিজিওর উপড় পড়ে না। তাছাড়া বাংলােদশের বেশিভাগ ক্রিকেটার ইংলিশে ভাল মত কথা বলতে পারে না।কোথায় ব্যথা পেল, কেমন ব্যথা হচেছ এটাতো ইংলিশে ফিজিওকে ভালমত সংঙেগ সংঙেগ বলতে হবে।মনের ভাব কি তারা ওই বিদেশি ফিজিওর কাছে প্রকাশ করতে পারে? পারে না।তাহলে বিদেশি ফিজিও ট্রিটমেন্ট করবে কি ভাবে।আর যদি ফিজিও বাংলােদশী হয়,তাহলে কিনতু ক্রিকেটাররা নিজেদের সমস্যা নিজের ভাষায় ফিজিওকে ভালমত বুঝাতে পারে। তাছাড়া বিদেশি অনেক ভাল ফিজিওর চেয়ে বাংলােদশের ফিজিও বায়েজিদুল ইসলাম বায়েজিদ অনেক ভাল।

অনেক আগে কোন এক বিদেশি কোচ নাকি বলেছিল, বাংলােদশের ক্রিকেটাররা বুঝে কম।এদের টেকনিক বুঝতে অনেক সময় লাগে।লাগেরই কথা,আপনি বোঝাবেন ইংলিশে, বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা আপনার কথা বুঝতেই তো একটু বেশি সময় নিবে।কথা হল,বিসিবি নিউজিল্যানড সফরে প্রায় ২৫ জন খেলোয়ারের ব্যয় ভার বহন করতে পারল,আর একজন চিকিৎসকের (ফিজিও) ব্যয় ভার বহন করতে পারল না?বাংলােদশী ফিজিও ক্রিকেটারদের সাথে গেলে মনে হয়,এত খেলোয়াররা ইনজুরিতে ভুগতো না।যদিও ইনজুরি বলে কয়ে আসে না।তারপরও একটা কথা থাকে। এত সুনদর সার্ভিস দিবার পরও যদি আমরা বিদেশি দের প্রয়োজন মনে করি,তাহলে আমরা দেশের যোগ্য সুন্তানদের সঠিক মুল্যায়ন করলাম কই।নাকি চামড়া সাদা ছাড়া অন্য চামড়ায় আমরা ভাল কিছু দেখতে পাই না?
মোঃ মিজানুর রহমান
বি,পি,টি (কোর্স -আই,এইচ,টি-ঢা বি )
ডি,পি,টি (রাষ্ট্রীয় চিকিৎসা অনুষদ)

No Comments to “বিদেশী পণ্য কিনে হই ধন্য!!!”

Comments are closed.