বিনামূল্যে পাঁচ বছর ধরে ফিজিওথেরাপি সেবা



  • Add Comments
  • Print
  • Add to Favorites

চাঁদপুরে পাঁচ বছর ধরে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বিনা মূল্যে নানা ধরনের ফিজিওথেরাপি ও চিকিৎসাসেবা দিচ্ছে প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের প্রতিবন্ধীসেবা ও সাহায্যকেন্দ্র। ইতিমধ্যে প্রায় তিন হাজার প্রতিবন্ধী নারী-পুরুষ ও শিশু এ সেবা পেয়েছে।
এ ছাড়া গরিব-অসহায় রোগীদের হুইলচেয়ার, সাদা ছড়ি, কানে শোনার যন্ত্রসহ অন্যান্য সামগ্রী দেওয়া হয়েছে। চাঁদপুর ও ফরিদগঞ্জে দুটি কেন্দ্রের পাশাপাশি যোগ হয়েছে অত্যাধুনিক ভ্রাম্যমাণ থেরাপিসেবা ভ্যান। এটি সপ্তাহে তিন দিন চাঁদপুরে ও তিন দিন পাশের লক্ষ্মীপুর জেলায় সেবা দেয়।
চাঁদপুর শহরের স্টেডিয়াম সড়কের জাহানারা ম্যানশনের নিচতলায় ২০১২ সালে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে এই প্রতিবন্ধীসেবা ও সাহায্যকেন্দ্র চালু করা হয়। চাঁদপুর কেন্দ্রে একজন প্রতিবন্ধীবিষয়ক কর্মকর্তার অধীনে কনসালট্যান্টসহ দুজন চিকিৎসক ও দুজন থেরাপিস্ট কর্মরত।
সম্প্রতি কেন্দ্রটি ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিবন্ধীদের জন্য পাঁচটি কক্ষে রয়েছে নানা ধরনের থেরাপি ও চিকিৎসাসামগ্রী। এর একটি কক্ষ অটিজম কর্নার হিসেবে ব্যবহার করা হয়। সেখানে প্রতিবন্ধী শিশুদের খেলাধুলা ও বিনোদনের ব্যবস্থা আছে।
চাঁদপুর শহরের বাবুরহাট এলাকার পক্ষাঘাতগ্রস্ত আরিফ হোসেন বলেন, ‘আমি অসুস্থ হওয়ার পর থেকে এখানে এসে প্রতিদিন থেরাপি নিচ্ছি। আমাকে ঢাকা যেতে হয় না। টাকা খরচ করতে হয় না।’
শহরের লঞ্চঘাট মাদ্রাসা সড়কের শারীরিক ও বাক্প্রতিবন্ধী শাহ পরানকে (৬) নিয়ে এসেছেন তার মা শাহিদা আক্তার। তিনি বলেন, ‘এর আগে আমি ঢাকায় নিয়ে গিয়ে টাকার বিনিময়ে ছেলেকে থেরাপি দিতাম। পরে টাকার অভাবে আর ঢাকায় যেতে পারছিলাম না। লোকমুখে শুনে ছেলেকে এখানে ভর্তি করাই। কোনো টাকা-পয়সা লাগছে না। সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে সেবা।’
হাইমচর উপজেলার চরভৈরবী থেকে আসা পক্ষাঘাতগ্রস্ত রফিক মৃধা বলেন, জানতে পেরে তিনি চাঁদপুরে এসে প্রতিদিন থেরাপি নিতে পারছেন।
প্রতিবন্ধীবিষয়ক কর্মকর্তা সুমন চন্দ্র নন্দী বলেন, ‘একটি ভাড়া বাড়িতে আমরা চাঁদপুরের প্রতিবন্ধীদের সেবা দিয়ে আসছি। শুরুতে প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ জন করে রোগী হতো। আস্তে আস্তে এ সংখ্যা বেড়ে গেছে। এখন প্রতিদিন ৪০ থেকে ৫০ জন প্রতিবন্ধী এখানে চিকিৎসা ও থেরাপি নিচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘এ পর্যন্ত তালিকাভুক্ত ২ হাজার ৭৫৫ রোগীকে প্রায় ৪৩ হাজার বার থেরাপি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মধ্যে ২৫৬টি হুইলচেয়ার, ৭৩টি হিয়ারিং অ্যাইড (কানে শোনার যন্ত্র), ৪০টি সাদা ছড়ি, ২০টি ট্রাই সাইকেল, ৩০টি ওয়াকার ও আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এ সেবার জন্য এখন আমাদের নিজস্ব অনেক বড় জায়গা ও নিজস্ব ভবন প্রয়োজন। এখন যোগ হয়েছে নতুন ভ্রাম্যমাণ থেরাপি চিকিৎসা-ভ্যান। ভ্রাম্যমাণ থেরাপি-ভ্যানের মাধ্যমে চিকিৎসাসেবা দিতে হলে আমাদের আরও লোকবল প্রয়োজন।’
চাঁদপুর কেন্দ্রের কনসালট্যান্ট মো. কামরুজ্জামান বলেন, ‘এই কেন্দ্রে আসা প্রায় সব ধরনের প্রতিবন্ধী ও পক্ষাঘাতগ্রস্ত রোগীর পাশাপাশি চোখের ও কানের চিকিৎসাসেবা দিয়ে থাকি। ইতিমধ্যে অনেক রোগী আরোগ্য লাভ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে গেছে। যারা আছে বা আসছে সেসব প্রতিবন্ধী রোগীকে আমরা বিনা পয়সায় সেবা দিই। বিশেষ করে স্ট্রোক, প্যারালাইসিস, অকুপেশনাল থেরাপি, স্পিচ অ্যান্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপি এবং বাতজনিত কোমর, হাঁটু, ঘাড় ও মেরুদণ্ড ব্যথার থেরাপি দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া কাউন্সেলিং করা হয়।’ তিনি আরও বলেন, ভ্রাম্যমাণ থেরাপি-ভ্যানের মাধ্যমে চলতি মাসের শুরুর দিকে হাইমচর উপজেলায় ১৫০ জন ও মতলব দক্ষিণ উপজেলা ১৩০ জন প্রতিবন্ধীকে থেরাপি দেওয়া হয়েছে।

তথ্যসূত্র : প্রথম আলো।

No Comments to “বিনামূল্যে পাঁচ বছর ধরে ফিজিওথেরাপি সেবা”

Comments are closed.