বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবসে ফিজিওথেরাপিস্টের লাল গোলাপ শুভেচ্ছা, প্রভাশ আমিন লেখক সাংবাদিক

0
48

ফিজিওথেরাপিস্টদের আমার জাদুকর মনে হয়। ডাক্তারদের হাতে পেইন কিলার ঔষধ বা ইঞ্জেকশন আছে, মুহুর্তেই তীব্র ব্যথার উপশম সম্ভব। সার্জনদের হাতে আছে ছুরি, কেটেকুটে ঠিক করে দেন রোগীর শরীর। কিন্তু ফিজিওথেরাপিস্টদের নিজের হাত আর রোগীর জন্য গভীর মমতা ছাড়া আর কিছু নেই। তাদের হাতে কোনো জাদুর কাঠিও নেই। ডাক্তার আর সার্জনদের কাজ যেখানে শেষ, সেখানেই শুরু হয় তাদের দায়িত্ব। তাদের ম্যাজিকটা হলো ধৈর্য্য। দিনের পর দিন লেগে থেকে অচল মানুষকে তারা সচল করে তোলেন। রোগী ধৈর্য্য হারায়, কিন্তু ফিজিওথেরাপিস্ট লেগে থাকেন। এতকিছুর পরও বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবায় সবচেয়ে অবহেলিত পেশাজীবী এই ফিজিওথেরাপিস্টরা। ডাক্তার-সার্জনদের সবচেয়ে ভালো সাপোর্টিভ বন্ধু হতে পারতেন ফিজিওথেরাপিস্টরা, অথচ তারা তাদের নামই শুনতে পারেন না। অনেক ডাক্তার নিজে গোপনে ফিজিওথেরাপি নেন, কিন্তু রোগীকে বলেন, ফিজিওথেরাপি ভুয়া। ব্যাকপেইনের সুবাদে দীর্ঘদিন ধরেই ফিজিওথেরাপিস্টদের সাথে আমার যোগাযোগ। আমি খুব উপকার পেয়েছি বলবো না, হতে পারে আমার ধৈর্য্য কম। তবে দুইবার অপারেশন করেও এখন আবার ফিজিওথেরাপিস্টদের দ্বারস্থ হয়েছি। একবছরের ইন্টার্নিসহ পাঁচ বছরের অনার্স কোর্স করেও তারা প্রাপ্য সম্মান পান না। তবে দীর্ঘদিনের সাধনায় একজন অচল মানুষকে সচল করার পর তার মুখে যে হাসি ফুটে ওঠে, তার মুল্যও তো কম নয়। আজ ৮ সেপ্টেম্বর বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবসে সকল ফিজিওথেরাপিস্টের জন্য লাল গোলাপ শুভেচ্ছা।
প্রভাশ আমিন,লেখক সাংবাদিক এন্ড হেড,এ টি এন নিউজ