বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবস এবং বাংলাদেশ প্রেক্ষাপট



  • Add Comments
  • Print
  • Add to Favorites

ডা: মো. কামরুজ্জামান

ফিজিওথেরাপি চিকিৎসাবিজ্ঞানের স্বাধীন এবং স্বতন্ত্র পেশা। সারা বিশ্বে ফিজিওথেরাপিস্টগণ ফার্স্ট কনটেক্ট প্রাকটিশনার হিসেবে কাজ করেন।

বাংলাদেশে ফিজিওথেরাপি: ১৯৬০ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রফেসর ডা. আবুল হোসেন অস্ট্রেলিয়া থেকে ফিজিওথেরাপিতে গ্রাজুয়েশন ডিগ্রি নিয়ে সরকারিভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ফিজিওথেরাপি বিভাগের কার্যক্রম শুরু করেন। তার এই অসামান্য কৃতিত্বের জন্য তিনিই বর্তমান ও আধুনিক বাংলাদেশের ফিজিওথেরাপির জনক।

মহান মুক্তিযুদ্ধের অবসানের পর যুদ্ধাহত পঙ্গু মুক্তিযোদ্ধা ও আহত সাধারণ মানুষের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে সাড়া দিয়ে প্রফেসর ডা. আর জে গার্স্ট ঢাকার তৎকালীন সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে অর্থোপেডিক ও ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু করেন।

তিনি লক্ষ লক্ষ পঙ্গু মুক্তিযোদ্ধা এবং অসহায় সাধারণ মানুষের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের কথা চিন্তা করে তৎকালীন রিহ্যাবিলিটেশন ইনস্টিটিউট এন্ড হসপিটাল ফর ডিস্যাবল্ড–পঙ্গু হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (আরআইএইচডি) স্থাপন করেন। আরআইএইচডিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা অনুষদের অধীনে এমএস অর্থোপেডিকস এবং ব্যাচেলর অভ ফিজিওথেরাপি(বিপিটি) কোর্স চালু করেন তিনি। ১৯৭২–৭৩ সেশন থেকে পর পর দু’টি ব্যাচ ফিজিওথেরাপিতে স্নাতক ডিগ্রি লাভের পর অধিকাংশ ফিজিওথেরাপিস্ট ১৯৭৮ সালে স্নাতকোত্তর উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে চলে যান।

ফলশ্রুতিতে অনেকেই বিদেশ থেকে আজ পর্যন্ত দেশে ফিরে আসেননি। পাশাপাশি ১৯৭৯–৮০ সালের দিকে আমেরিকান ফিজিওথেরাপি এবং অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞ টিম বাংলাদেশ ত্যাগ করায় ফিজিওথেরাপি কোর্স চালনায় শিক্ষক স্বল্পতা দেখা দেয়। এভাবে ১৯৭৮–৭৯ সালে ফিজিওথেরাপি কোর্সটি বন্ধ হয়ে যায়। ১৯৮০ সালের পূর্বে বাংলাদেশে প্রায় ২৫ জন ফিজিওথেরাপিস্ট তৈরি হয়। তাদের মধ্যে বাংলাদেশে ২–৩ জন থাকা ছাড়া সকলেই বিদেশে চলে যান।

১৯৮০ সাল থেকে ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত ১৪ বছর ফিজিওথেরাপি স্নাতক কোর্স বাংলাদেশে বন্ধ ছিল।

বিভিন্ন ধরনের বাত–ব্যথা, আঘাতজনিত ব্যথা, বার্ধক্যজনিত ব্যথা, খেলাধুলায় আঘাতজনিত ব্যথা, স্ট্রোকজনিত হাত–পা অবশ,প্যারালাইসিস, জিবিএস, প্রতিবন্ধীদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য ফিজিওথেরাপি অতীব গুরুত্বপূর্ণ এবং অনেক ক্ষেত্রে ফিজিওথেরাপি একমাত্র চিকিৎসা বলে বিবেচিত। বিশাল জনগোষ্ঠীর কাছে ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা সেবা পৌঁছানোর জন্য পুনরায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা অনুষদের অধীনে ব্যাচেলর অভ ফিজিওথেরাপি (বিপিটি) কোর্স চালু হয় সরকারিভাবে আরআইএইচডি (বর্তমান এনআইটিওআর), জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে। বর্তমানে বাংলাদেশে স্নাতকোত্তর চিকিৎসা বিজ্ঞানের অধীনে মাস্টার্স অভ ফিজিওথেরাপি (এমপিটি) এবং মাস্টার্স অভ সায়েন্স ইন ফিজিওথেরাপি কোর্স চালু আছে।

২০০৩ সাল থেকে বাংলাদেশে ৮ সেপ্টেম্বর বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবস পালিত হয়ে আসছে। এ দিবস উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন স্থানে ফিজিওথেরাপি ক্যাম্প, আলোচনা সভা, র‌্যালি ও সচেতনতামূলক বিভিন্ন অনুষ্ঠান হয়ে থাকে।

লেখক : স্পেশালিস্ট ফিজিওথেরাপিস্ট; বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি (বিএমএ) ও সহ–সভাপতি বাংলাদেশ ফিজিক্যাল থেরাপি এসোসিয়েশন

Tags:

No Comments to “বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবস এবং বাংলাদেশ প্রেক্ষাপট”

Comments are closed.