ভাবনাওয়ালা



  • Add Comments
  • Print
  • Add to Favorites

 

মোঃ আরিফুর রহমান (ডিজিটাল কবি) 

মনের কিছু ভাবনা নিয়ে ক্লান্ত মনে হেঁটে চলছে এই গল্পের নায়ক।আশপাশ দিয়ে অনেক লোক হেঁটে যাচ্ছে,কিন্তু মনে হচ্ছে মানুষগুলো দুরের কোন দেশে।হেঁটে হেঁটে অনেকটা সময় পার করে এল একাই।হঠাৎ শাখা-প্রশাখা বিস্তৃত একটি বৃক্ষ তার চোখে পরল।তার মনে হল যেন বৃক্ষটি তাকে ডাকছে। বৃক্ষঃ এইযে ভাবনাওয়ালা! অনেকতো হেঁটে বেড়ালে ঐ ভাবনাসড়ক। এবার একটু জিরিয়ে নাওনা ভাই। তোমার ভাবনাগুলো কেউ না বুঝলেও আমি কিন্তু বুঝি।আমার কাছে বস; আমি ছায়া দেব। এবার ভাবনাওয়ালা তার তার ডাকে সাড়া দিয়ে কাছে গিয়ে বসল।একটা শীতল বাতাস তার শরীরে বয়ে গেল।গায়ে ঠাণ্ডা অনুভব হল।কিন্তু মন শীতল হলনা। বৃক্ষঃ বুঝেছি তুমি শীতল হওনি।আচ্ছা আমাকে বল সব কথা।আমি শুনবো।

ভাবনাওয়ালা তার ভাবনা থেকে কিছু কথা দিতে লাগলো ছায়া সেবক ঐ গাছকে। ভাবনাঅয়ালাঃ আমার চারদিকে অনেক মানুষ।তবু নিজেকে একা লাগছে।আমার চারদিকে অনেক বাগান কিন্তু একটি ফুলও পেলাম না ।চারদিকে অনেক গান কিন্তু সুর কথায়!মনে হয় যন্ত্রের বিকট আওয়াজ।আমার চারদিকে অনেক কিছু।কিন্তু কিছুইতো দেখছিনা।ঐ তো সামনেই কোট পাহাড়;কই একটি পাহাড়েতো ঝর্ণা খুঁজে পাচ্ছিনা। এখন আমি জনসমুদ্রের সামনে দাড়িয়ে।কিন্তু কই কোন স্রোততো দেখছিনা।ঐ তো সূর্য অস্ত যাচ্ছে, সূর্য উদয়তো কখনও দেখিনা। ওইতো হাজারো চোখ তাকিয়ে; কি যেন দেখে চলছে।কই এত চোখ থেকে কখনওকি এতটুকু জ্বল পেয়েছি? তবে হাঁ;শোন বন্ধু,আমি একজন নয় দুজন কে আমার অনেকগুলো কথা বলছি।একজন কিন্তু তার চোখ থেকে এতটুকু নয় জলের ঝর্ণাধারা দিয়েছে। আরেকজন সব জ্বল তার বুকে পেতে নিয়েছে। বৃক্ষঃ কারা তারা শুনাবে তাদের নাম?

ভাবনাওয়ালাঃ শুনবে ওদের নাম?শুধুই শুনাবোনা দেখাবোও তোমাকে।(পকেট থেকে একটি কলম বের করল)এই দ্যাখ;এইতো সে।এ আমার কষ্টগুলো শুনে কাঁদে।সে কান্না ঐ পাহাড়ের ঝর্ণার চেয়ে গতিময়।কেনকাঁদবেনা,এরাতো আর পাষাণ নয়। বৃক্ষঃবন্ধু!আরেকজন? ভাবনাওয়ালাঃ(এবার সে পকেট থেকে কাগজ বের করলো।)এই সে বন্ধু যে ঐ কলমের সব কান্নাগুলো বুকে পেতে নেয়।আমি একজন লেখক;আমার কষ্টগুলো ভাগ করি আমি এদের মধ্যে। বৃক্ষঃসত্যিই এরাই তোমার সত্যিকারের বন্ধু।আমাকেও বানাওনা তোমার বন্ধু।আমি তোমাকে ছায়া দেব। ভাবনাওয়ালাঃ আমার বন্ধু হলে তুমি শুধুই কষ্ট পাবে।আমি তোমাকে কিছু দিতে পারবোনা। বৃক্ষঃ কে বলেছে?তুমিইতো পারবে।এখন যা দিচ্ছ তাই না হয় দিবে। ভাবনাওয়ালাঃএখন দিচ্ছি… মানে? বৃক্ষঃবন্ধু!তোমার ভাবনা,তোমার কান্না,তোমার জমানো কষ্ট।এগুলোই না হয় দিবে। (হঠাৎ ডালের আড়াল থেকে একটি পাখী এসে বসলো ভাবনাওয়ালার পাশে।)

পাখীঃআমি তোমাদের কথা আড়াল দিয়ে সব শুনেছি।বৃক্ষ যদি তোমার কষ্টের ভাগীদার হয়,আমি কেন বাদ যাব?বৃক্ষ একা কেন কষ্টের ভাগ নেবে? বৃক্ষ আমাকে অনেক কিছু দেয়। তাই কষ্টের ভাগ আমি বৃক্ষকে একা নিতে দেবনা। তাই বলছি আমাকেও তুমি বন্ধু করে নাও।আমি ডানায় করে তোমার মনকে নিয়ে যাব সেই ভাবনার জগতে যেখান থেকে তোমার কথাগুলো গেঁথে এনে ছায়া সেবক আমার বন্ধু বৃক্ষকে দিতে পারবে।আজ থেকে তোমার ঐ কলম ও কাগজের সাথে আমারও তোমার দুঃখগুলো ভাগ করে নেব ।  ভাবনাওয়ালা পাখীটির দিকে একনজরে তাকিয়ে থাকে।তার মুখ থেকে কথা বেরুয়না।বেরোয় চোখের কোন থেকে কিছু জল।বিষয়টি পাখীটি অবলোকন করলো এবং দ্রুত বৃক্ষ থেকে একটি পাতা ছিঁড়ে ভাবনাওয়ালার চোখের সামনে ধরলো যাতে চক্ষু জল মাটিতে না পরে।এরপরে বৃক্ষ ডাক দিয়ে বললো “বন্ধু দুঃখেরপাখী! এস ঐ জল আমার বুকে বিলিয়ে দেবে।” এবার ভাবনাওয়ালা বিদায় নিল তার নতুন বন্ধুদের থেকে ।আবার হাঁটা শুরু করলো অজানা ভাবনার পথে।কিন্তু সে জানেনা কোথায় তার গন্তব্য,কোথায় শেষ হবে তার ভাবনাগুলো।

 




No Comments to “ভাবনাওয়ালা”

Comments are closed.