ভালোবাসার নতুন ইশতেহার

0
45

মৃত প্রেমিকের শরীর থেকে শুক্রাণু সংগ্রহ করে মা হওয়ার পথে প্রেমিকা

ইচ্ছা ছিল বাবা হওয়ার। কিন্তু তার আগেই সড়ক দুর্ঘটনা কেড়ে নিল প্রাণ। আর এখান থেকেই শুরু ভালোবাসার এক নতুন অধ্যায়ের। মৃত প্রেমিকের শেষ ইচ্ছা পূরণ করতে তার শরীর থেকে শুক্রাণু সংগ্রহে উদ্যোগী হলো প্রেমিকা। স্বপ্নের পথে বাধা হয়ে এলো অর্থ। নিরুপায় প্রেমিকা তাঁদের স্বপ্নের বার্তা নিয়ে অনলাইনে সাহায্যের আবেদন জানালেন। তাঁদের ‘ভালোবাসার ইশতেহার’-কে সম্পূর্ণতা দিতে এগিয়ে এলেন অজানা বন্ধুরা। জোগার হলো টাকা। প্রেমিকের শরীর থেকে শুক্রাণু সংগ্রহ করে স্থাপন করা হয় প্রেমিকার গর্ভে। তার তাতেই স্বপ্ন পূরণ হতে চলেছে। মৃত প্রেমিকের ঔরস জাত সন্তানের মা হতে চলেছেন প্রেমিকা।
এই ঘটনার শুরু জানতে পিছিয়ে যেতে হবে এক সপ্তাহ। মার্কিন যুবক ক্যামেরুন রবিনেট। বছর ২৫-এর এই যুবকের বড় সাধ ছিল বাবা হওয়ার। নিজের সেই ইচ্ছার কথা প্রেমিকা স্টেফেনি লুকাসকে জানিয়েছিলেন তিনি। স্টেফানিও ক্যামেরুনের প্রস্তাবে রাজি হয়েছিলেন। একদিকে বিয়ের প্রস্তুতি সারার সঙ্গে সঙ্গেই দুজনে চেষ্টা করছিলেন বাবা-মা হওয়ার।
গত সপ্তাহের শুক্রবার হঠাৎ করেই ছিড়ে গেল তারটা। ভবিষ্যতের সুখের বাসা তৈরির আশা বুকে করে বাড়ি খুঁজতে গিয়ে বেরিয়েছিলেন ক্যামেরুন। ক্যালিফোরনিয়ায় বাড়ি খোঁজার সময় ভয়াবহ মোটরবাইক দুর্ঘটনার সম্মুখীন হন তিনি।
হাসপাতালে তিন দিন মৃত্যুর সঙ্গে তীব্র পাঞ্জা লড়ে শেষ পর্যন্ত হার হয় তাঁর। মারা যান ক্যামেরুন। কিন্তু তাঁর মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গেই ক্যামেরুনের স্বপ্নের মৃত্যু ঘটতে দিতে চাননি প্রেমিকা স্টেফেনি। ভগ্নহৃদয় স্টেফানি ডাক্তারদের জানান ক্যামেরুনের বাবা হওয়ার ইচ্ছার কথা। ডাক্তাররা জানান মৃত্যুর একদিনের মধ্যে ক্যামেরুনের শরীর থেকে স্পার্ম সংগ্রহ করে স্টেফানির গর্ভে স্থাপন করলে তাঁর মা হতে পারেন তিনি। কিন্তু তার জন্য প্রয়োজন ১১ হাজার মার্কিন ডলার।
সময় কম। নেই প্রয়োজনীয় অর্থও। কিন্তু হাল ছাড়েননি ২২ বছরের স্টেফানি। সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটগুলিতে তাঁদের ভালোবাসার স্বপ্নের কথা বিস্তারিত জানিয়ে সাহায্যের আবেদন করেন তিনি। তাঁদের কথা শোনার পর এগিয়ে আসেন বহু অজানা ‘হঠাৎ’ বন্ধুরা। একদিনের মধ্যেই তাঁদের সাহায্যে উঠে আসে প্রয়োজনীয় অর্থ।
মৃত ক্যামেরুনের শরীর থেকে শুক্রাণু সংগ্রহ করে স্টেফানির গর্ভে স্থাপন করেন ডাক্তাররা। স্টেফানি এখন গর্ভবতী।
নিজের মা হতে চলার খবরের কথা শুনে আনন্দে কাঁদতে কাঁদতে স্টেফানি জানিয়েছেন, ”ক্যামেরুন বাবা হতে চেয়েছিল। আমি ওর স্বপ্নকেই সফল করার চেষ্টা করে যাচ্ছি।”