মাওলানা রুমির গল্প -১



  • Add Comments
  • Print
  • Add to Favorites

 

“বুদ্ধিমান এক লোক ঘোড়ায় চড়ে রওনা হলো তার পথে। দূর থেকে দেখতে পেলো এক লোক গাছের নীচে মুখ হা করে ঘুমাচ্ছে আর একটা সাপ তার মুখের ভেতর ঢুকে পড়েছে। ঘোড়সওয়ারী দ্রুত তার গতিবেগ বাড়িয়ে দিল এই আশায় যে হয়তো সাপটাকে তাড়িয়ে দিতে সক্ষম হবে এবং ঘুমন্ত লোকটাকে বিপদ থেকে রক্ষা করতে পারবে। কিন্তু লোকটির কাছে গিয়ে পৌঁছতে পৌঁছতে দেরি হয়ে গেল। ততোক্ষণে সাপটি ঘুমন্ত লোকটার গলার ভেতর ঢুকে পড়ে। বুদ্ধিমান লোকটি তার ঘোড়ার পিঠ থেকে নেমে ঘুমন্ত লোকটার দুই পাশে ,রানে এবং শরীরে লাঠি দিয়ে পেটাতে লাগলো। আঘাত পাবার ফলে লোকটার ঘুম ভেঙ্গে গেল এবং ভয়ে দিক-বিদিকশূন্য হয়ে লোকটা দৌড়াতে শুরু করলো।
লোকটা দৌড়াতে দৌড়াতে ক্লান্ত হয়ে গেল। ক্লান্ত হবার ফলে আর দৌড়াতে পারছিলো না। ধপাস করে তাই সে পড়ে গেল একটা আপেল গাছের নীচে। গাছটির নীচে পঁচা এবং দুর্গন্ধময় বহু আপেল পড়ে ছিল। অশ্বারোহী লোকটিও ঐ গাছের নীচে এসে পৌঁছলো। সে এবার ক্লান্ত লোকটিকে আদেশের সুরে ঐ পঁচা আপেল খেতে বললো। লোকটির সারা গায় ব্যথা অনুভব হচ্ছিলো। পঁচা আপেল খাওয়াতে তার অবস্থার আরো অবনতি হলো। সে তাই অশ্বারোহীকে বিক্ষুব্ধ কণ্ঠে বললো কেন আমার সাথে এমন করছো ? অশ্বারোহী লোকটি বিক্ষুব্ধ লোকের প্রশ্নের জবাব না দিয়ে বরং চিৎকার করে ঐ আপেল খেতে এবং দৌড়তে বললো।
আপেল খেয়ে এমনিতেই লোকটার বুকজ্বালা করতে লাগলো। তদুপরি মারের আঘাতে ক্ষতবিক্ষত দেহে সাংঘাতিক ব্যথা করতে লাগলো। তারপরও তাকে দৌড়তে হলো। কিছুকক্ষণ পরপরই সে পড়ে যেতে লাগলো,আবার মার খাবার ভয়ে উঠে দৌড়তে লাগলো। এভাবে বপড়তে পড়তে উঠতে উঠতে দৌড়তে দৌড়তে বমির ভাব হলো এবং বমি করে দিলো। পেটে তার যা কিছু ছিলো সব বমির সাথে বেরিয়ে এলো। সেইসাথে সাপটাও বেরিয়ে এলো বমির সাথে।

লোকটি যখন দেখতে পেল যে তার পেট থেকে সাপ বেরিয়ে এসেছে, ভীষণভাবে তখন অশ্বারোহীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে লাগলো। বলতে লাগলোঃ


گفت تو خود جبرائيل رحمتي
يا خدايي كه ولي نعمتي
اي مبارك ساعتي كه ديدي ام
مرده بودم جان نو بخشيده ام

তুমি যেন স্বয়ং জিব্রাঈল এক রহমতের
কিংবা খোদা ! আধার যিনি নিয়ামতের
হে পবিত্র! তুমি তো আমাকে ঘণ্টা ধরে দেখছো
মরে গিয়েছিলাম,তুমি নবজীবন দান করেছো।

লোকটি আরো বললোঃ তুমি তো সেই মায়ের মতো যিনি তাঁর সন্তানকে বিপদ থেকে উদ্ধার করার জন্যে ব্যতিব্যস্ত। আর আমি ছিলাম সেই বোকা সন্তানের মতো যে তোমার কাছ থেকে পালিয়ে আত্মরক্ষা করতে চেয়েছিলো। প্রান্তরে গাধা তার মালিকের কাছ থেকে পালিয়ে বেড়ায় আর গাধার মালিক তার পেচনে পেছনে দৌড়তে দৌড়তে ক্লান্ত। গাধা আবারো পালায়,মালিক পুনরায় তাকে ঘরে ফিরিয়ে নেবার তাড়নায় তার পিছু নেয়। গাধার মালিক কিন্তু তার নিজস্ব স্বার্থে তার পিছু নিচ্ছে না বরং তাকে নেকড়ে কিংবা বুনো হিংস্র জন্তুর হাত থেকে রক্ষা করার জন্যেই পিছু নিচ্ছে। কিন্তু গাধা তা বোঝে না।

লোকটি এবার অশ্বারোহী বিচকক্ষণ লোকটিকে বললো, এতো কিছু বলার পরও হে খোদার দয়ার ফেরেশতা ! কেন তুমি আমাকে তোমার এই সদুদ্দেশ্য আর সাহসী পুন্যকাজের রহস্যপূর্ণ পদক্ষেপের কথাটা বলো নি? কেন তুমি আমাকে মারার আগে বা পঁচা দুর্গন্ধযুক্ত আপেল খাওয়ানোর আগে এই ঘটনাটা বলো নি? কেন বলো নি যে কেন কুমি এ ধরনের আচরণ করছো। তুমি যদি বলতে তাহলে আমি ভয় পেতাম না এবং কোনোরকম প্রশ্ন ছাড়াই তোমার সকল আদেশ পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে পালন করতাম। অশ্বারোহী লোকটি বললো-


گفت اگر من كفتمي رمزي از آن
زهره تو آب گشتي آن زمان
گر تو را من گفتمي اوصاف مار
ترس از جانت بر آوربردي دمار

অর্থাৎ তোমাকে যদি এই রহস্যের কথা তখন বলে দিতাম তাহলে তোমার পিলে চমকে যেত। সাপের ঘটনা শোনার সাথে সাথে তোমার প্রাণপাখি পিঞ্জিরা থেকে উড়াল দিতো।

 




No Comments to “মাওলানা রুমির গল্প -১”

Comments are closed.