মানসিক স্বাস্থ্যেও কার্যকর ভূমিকায় ফিজিওথেরাপি

0
82

মাস ২ আগে একদিন আমার হসপিটালের চেম্বারে রোগী দেখছি। ৩৮ বছরের একজন মহিলা রোগী এলেন। ধরেন, তার নাম রিমি

(ছদ্মনাম)।আমি তার হিষ্ট্রি নেয়া শুরু করলাম।মারাত্মক কোমরে ব্যাথায় সে বাঁকা হয়ে হাটে।অনেক ডাক্তার, কবিরাজ, পানি পড়া, তাবিজ সবই ট্রাই করা শেষ। এক্সরের পর এক্সরেতে তার ব্যাগ ভর্তি। রিমি গার্মেন্টস ওয়ার্কার। দীর্ঘক্ষণ দাড়ায়ে থাকতে হয়। এই ব্যথায় তার স্বামীর সাথে স্বাভাবিক দাম্পত্য জীবনেও প্রভাব পড়েছে। তার স্বামী বলেছে তালাক দিয়ে দিবে। সে মানসিকভাবে হতাসাগ্রস্থ। শেষ চেষ্টা হিসেবে সে ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা নিতে এসেছে। রিমির ক্ষেত্রে এই কোমর ব্যথার কারণ ছিলো তার অতিরিক্ত ওজন এবং দীর্ঘক্ষণ একনাগারে দাড়িয়ে থাকা গার্মেন্টসে। আমি তার এক্সরে তে কিছুই খুঁজে পেলাম না। তাকে আমি ট্রিটমেন্ট প্লান করে দিলাম। তার ওজন কমাতে বললাম, আমাদের শিখানো এক্সারসাইজগুলা করতে বললাম এবং দাড়িয়ে থাকা কাজ কোনভাবে চেইঞ্জ করে সে যেনো বসে থাকার কোন কাজ নেয়।একমাস চিকিৎসা নেয়ার পর রিমির মুখে হাসি ফোটে। সে কোমর ব্যথা থেকে ৮০ ভাগ মুক্তি পেয়েছে। আরো কিছুদিন পর সে সম্পূর্ণভাবে সুস্থ হয়। আমার দেয়া এডভাইসগুলো অবশ্যই তাকে মানতে হবে। ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং এক্সারসাইজের যে বিকল্প নাই সেটা তাকে আমি ভালোভাবে বুঝিয়ে দিয়েছি। রিমি এই চিকিৎসা নেয়ার ফলে হতাশা থেকে বের হতে পেরেছে। জীবন নিয়ে তার এখন অনেক আশা। এভাবেই আমরা ফিজিওথেরাপি চিকিৎসকেরা বিশ্বব্যাপি মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর কাজে ব্যস্ত থাকি। ফিজিওথেরাপি চিকিৎসার এমন একটি শাখা যেখানে অনর্থক ব্যথানাশক ওষুধ খাওয়ার দরকার নেই। ফিজিওথেরাপি ব্যাথাকে নিরাময় করে, দমিয়ে রাখে না।

গত ৮ই সেপ্টেম্বর বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবস অনুষ্ঠিত হলো। এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় ছিলো, “মানসিক স্বাস্থ্য উন্নয়নে ফিজিথেরাপি”। আশা করছি ফিজিথেরাপি চিকিৎসার এই অঙ্গিকার রক্ষায় আমরা সকলে সুন্দরভাবে কাজ করে যাবো। জনগণকে এই সেবা পৌঁছে দেয়ার ক্ষেত্রে সর্বদা প্রস্তুত আমরা। ফিজিওথেরাপি চিকিৎসকের নির্দেশনায় রোগীর ওপর প্রয়োগকৃত থেরাপিউটিক এক্সেরসাইজ বিষন্নতা, উদ্বেগ ও মানসিক স্বাস্থ্য উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। থেরাপিউটিক এক্সেরসাইজ মানসিক চাপ তৈরিকারী হরমোনের নিঃসরণ কমায়। এবং শরীরের সুখি হরমোন হিসেবে পরিচিত এনডোরফিনের মাত্রা বাড়ায়। শারীরিক অক্ষমতা এবং মুভমেন্ট জনিত সমস্যায় তাত্ত্বিক জ্ঞান প্রয়োগ করে পর্যালোচনামূলক বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে সমস্যা ও সমস্যার কারণ নির্ধারণপূবর্ক বিজ্ঞানসম্মত ফিজিওথেরাপি নির্ধারিত হয়। শারিরীক ও মানসিক স্বাস্থ্য উন্নয়ন, দুটি ফিল্ডেই ফিজিওথেরাপি কাজ করে চলছে সমান তালে, বিশ্বব্যাপী লক্ষ করা যায় বিভিন্ন রকম বাতের ব্যথা, হাড়, জোড় ও মাংসপেশির ব্যথা, ব্যাক পেইন, প্যারালাইসিস কিংবা মুভমেন্টজনিত সমস্যায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দিনে দিনে গাণিতিক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই ধরনের রোগসমূহের চিকিৎসা, পুনর্বাসন এবং প্রতিরোধের জন্য বিজ্ঞানভিত্তিক ফিজিওথেরাপিই উচ্চ শ্রেণির গবেষণা সমৃদ্ধ অন্যতম চিকিৎসা পদ্ধতি। সময়মতো এভিডেন্স বেইজড ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা নিন, সুস্থ থাকুন, সচল ও কর্মক্ষম জীবনযাপন করুন।

 

-ডা. রূপক চন্দ্র রায় (পিটি) ফ্যাকাল্টি গণবিশ্ববিদ্যালয় পাবলিক হেলথ এক্সপার্ট। এমডিএম (ঢাবি)।