মাসনাভির কথা



  • Add Comments
  • Print
  • Add to Favorites

 

 হযরত সোলায়মান ( আ ) ছিলেন ইহুদি গোত্রে আগত নবী। তাঁর আভিজাত্য,তাঁর ধন-মান-শক্তি-সামর্থ আর মোজেযার কথা সবার মুখে মুখে প্রবাদের মতো ছিল। তিনি পাখিদের ভাষা বুঝতেন। পাখিরা তাই তাঁর কাছে তাদের বিভিন্ন বিষয়-আশয় নিয়ে কথা বলতো। একবার হুদহুদ নামক এক পাখি এসে সোলায়মান ( আ ) কে সাবা নামক একটি ভূখণ্ডের অস্তিত্বের কথা জানালো। ঐ ভূখণ্ডের রাণী ছিল বিলকিস নামের এক মহিয়সী নারী। সোলায়মান ( আ ) হুদহুদের কথা শুনে রাণী বিলকিসকে একটি চিঠি লিখলেন। ঐ চিঠিতে একক আল্লাহর ইবাদাত বা আনুগত্য করার জন্যে বিলকিসের প্রতি আহ্বান জানানো হয়,সেইসাথে রাণীকে তাঁর দরবারে আমন্ত্রণ জানানো হয়।

বিলকিস এই আমন্ত্রণ পেয়ে ৪০ টি উট খাঁটি সোনাসহ তাঁর বিচক্ষণ পরিষদবর্গকে সোলায়মান ( আ ) এর কাছে পাঠালো। নিজে এলো না। সাবার কাফেলা যখন সোলায়মান ( আ ) এর এলাকায় এসে পৌঁছলো,তখন দেখতে পেলো যে ঐ এলাকার মাটি খাঁটি সোনার কার্পেটে মোড়ানো এবং ঐ সোনার কার্পেট সোলায়মান ( আ ) এর প্রাসাদে পৌঁছানো পর্যন্ত ৪০ টি ঘরে বিছানো রয়েছে। সাবার রাণীর প্রতিনিধিরা এই অবস্থা দেখে বিস্মিত হয়ে গেল এবং এরকম সম্পদশালী এক বাদশাহর জন্যে তাদের আনা উপহার সামগ্রীকে নগণ্য মনে হলো। তারা এরকম লজ্জাবোধ করছিল সেগুলো নিয়ে বাদশাহর দরবারে যেতে। তাই তাদের কেউ কেউ বললো-আমরা বরং ফিরে যাই,যা দেখেছি তা গিয়ে রাণীর কাছে বর্ণনা করে বলি যে এই উপহার বাদশাহ সোলায়মানের জন্যে খুবই নগণ্য এবং লজ্জাজনক।

আবার কেউ কেউ বললো, আমরা হলাম দূত। আমাদের দায়িত্ব হলো রাণীর বার্তা বাদশা সোলায়মানের কাছে পৌঁছানো এবং রাণীর পাঠানো উপহার সামগ্রী বাদশাহর সামনে হাজির করা। সেগুলো বাদশা গ্রহণ করুক বা না করুক-তা তো আমাদের সাথে সংশ্লিষ্ট নয়। এইরকম বিচিত্র চিন্তাভাবনার পর অবশেষে উপহারগুলো সোলায়মান ( আ ) এর দরবারে পৌঁছানো হলে তিনি বললেন-সাবার রাণীকে বলো,আমি তোমাদের উপহার গ্রহণ করবো না। বরং আমি চাই তোমরা আমার উপহার গ্রহণকারী হও অর্থাৎ আমার দয়া-দাক্ষিণ্যে তোমরা উপকৃত হও।

پيش بلقيس آنچه ديديد از عجب
باز گوئيد از بيابان ذهب
تا بداند كه به زر طامع نه ايم
ما زر از زرآفرين آورده ايم

অর্থাৎ বিস্ময়কর যা দেখেছো তা বিলকিসকে বলো,যাতে সে বুঝতে পারে, ধনসম্পদের প্রতি আমাদের লোভ নেই। আমরা স্বর্ণের স্রষ্টার কাছ থেকে স্বর্ণ এনেছি। সোলায়মান বিলকিসের প্রতিনিধিদেরকে আবারো বললো, তাদের রাণীকে দরবারে আসার আমন্ত্রণ জানাতে। কিন্তু সাবার রাণীর মন তাঁর নিজস্ব প্রাসাদ আর সিংহাসনের প্রতি ব্যাপকভাবে আকৃষ্ট ছিল। সেজন্যে রাণীর মন চাচ্ছিলো না সোলায়মানের দরবারে যেতে। বিশেষ করে রাণীর সিংহাসনটি ছিল মহামূল্যবান রতœসামগ্রীতে সাজানো। ব্যতিক্রমধর্মী এই সিংহাসন ছেড়ে কোত্থাও যেতে ইচ্ছে করছিলো না তাঁর।

সোলায়মান ( আ ) এ বিষয়টি জানতেন। তাই তিনি সাবার পাখপাখালিকে আদেশ দিলেন সাবার রাণীকে সোলায়মানের দরবারে আসতে অনুপ্রাণিত করতে। শেষ পর্যন্ত বিলকিস সোলায়মানের দরবারের উদ্দেশ্যে যাত্রা করলেন। সোলায়মানের ( আ ) খেদমতে নিবেদিত একজনকে বাদশাহ আদশে দিলেন সাবার অতি পছন্দের সেই সিংহাসনটিকে তাঁর দরবারে এনে হাজির করতে। আদিষ্ট হয়ে আসেফ নামের ঐ কর্মচারী বললো ‘আমি এসমে আযমের সাহায্যে অর্থাৎ আল্লাহর বৃহৎ নামের ওসিলায় ঐ বহন অযোগ্য সিংহাসনটি সুদূর সেই প্রান্তর থেকে এখানে নিয়ে আসবো এবং তাই করলো। সোলায়মান ( আ ) আল্লাহর এই অনুগ্রহকে যাদু বা দৈত্য-দানবীয় কাজ বলে অবমূল্যায়ন করতে চান নি। সাবার রাণী বিলকিসও এইসব শক্তিমত্তা,মহত্ব এবং মোজেযা দেখে সোলায়মান ( আ ) এর দরবারে এলেন এবং ঈমান আনলেন।

পাঠক ! সাবার রাণী বিলকিসের ঈমান আনার কাহিনীটি শুনলেন এতোক্ষণ। আশা করি আপনাদের ভালোই লেগেছে। বিলকিস বাদশাহ সোলায়মানের যে পত্রটি পেয়েছিল,তার শুরু লেখা ছিল বিসমিল্লাহ। সাধারণত নবীরাই এভাবে চিঠি লিখে থাকেন। বিলকিস তাই সোলায়মান ( আ ) কে পরীক্ষা করার জন্যেই মূল্যবান উপহার সামগ্রী পাঠিয়েছিলেন। যেহেতু তিনি সেগুলো গ্রহণ করেন নি,সেহেতু বিলকিস বুঝতে পেরেছিলেন,সোলায়মান সাধারণ কোনো মানুষ নন। পরক্ষণে তিনি সোলায়মান ( আ ) এর দরবারে আরো অনেক অলৌকিক কাণ্ড দেখে বুঝতে পেরেছিলেন তিনি আল্লাহর নবী ছাড়া আর কেউ নন। কেননা এইসব ঘটনা কোনোভাবেই মানুষ ভোলানো যাদু নয়।

 




No Comments to “মাসনাভির কথা”

Comments are closed.