মৃত গালিবা হায়াত ল্যাজারাস সিনড্রোম এর জন্য কি দিব্বি জেগে উঠেছিল…!



  • Add Comments
  • Print
  • Add to Favorites

গালিবা হায়াত…
মাত্র ২ দিন আগে …ম্যাচিউর হওয়ার আগেই জন্ম নিল…শ্বাস নাই নাই ভাব…ডাক্তার দেখলেন… মৃত ঘোষনা করলেন…দাফনের আগে জেগে উঠল…সাংবাদিকদের খোরাক তৈরী হল…শুরু হল হৈচৈ …হেলিকপ্টার এলো…গালিবার চিকিৎসা ঢাকাতেই শুরু হল…ফলাফল আবার মৃত্যু…
গালিবা হায়াত নামের অর্থ–মৃত্যুঞ্জয়ী…কিন্তু গালিবাও প্রমান করে গেল…নাম যাই হোক…মৃত্যুকে কেউ জয় করতে পারেনা!
কি হয়েছিল গালিবার?
…আমি জানিনা…তবে, সম্ভবত এটাও একটা ল্যাজারাস সিন্ড্রোমের উদাহরণ! গালিবা হায়াত গত বুধবার রাতেই মারা গিয়েছিল । কিন্তু কয়েক ঘন্টা পরে তার হৃদপিন্ড আবার চালু হয়ে যায় !!
হুম…ল্যাজারাস সিনড্রোম…যে ঘটনায় মৃত মানুষও দিব্বি জেগে উঠে…!
ধরেণ আপনার সামনেই লোকটি মারা গেল… আপনি শত চেস্টা করেও বাঁচাতে পারলেন না…ডেথ ঘোষণা করে দিলেন…বডি মর্গে নেয়া হল…হটাৎ কেউ একজন খেয়াল করল… লোকটির নাক ডাকার শব্দ পাওয়া যাচ্ছে…বিষয়টা একবার চিন্তা করেন তো…!
অবাক হওয়ার কিছু নাই…১৯৮২ সালের পর থেকে আজ পর্যন্ত সারা বিশ্বে এমন ঘটনা ৩৮টি ঘটেছে…!!! এবং প্রায় সব গুলো ঘটনাই উন্নত বিশ্বে।
কে এই ল্যাজারাস?
কথিত আছে মৃত্যুর ৪ দিন পর বেথেলহামের সাধু ল্যাজারাসকে… যীশু জীবিত করে তুলেছিলেন… তাই যারা মৃত ঘোষনা দেবার পরও হটাৎ করে জেগে উঠেন… তাঁকে ল্যাজারাস সিনড্রোম বলে।
কেন এমন হয়?
একজন রোগীর হটাৎ হৃদযন্ত্র বন্ধ হয়ে গেলে…চিকিৎসকরা বুক চেপে চেপে কার্ডিয়াক ম্যাসাজ দেন…এতো কিছুর পরেও রোগী আআর ফেরত নাও আসতে পারে…তখন মৃত ভেবে চিকিৎসক শেষ চেষ্টা বন্ধ করে দেন…
কিছুক্ষণ পরেই বুকের চাপ কমতে থাকায় হার্ট প্রসারিত হতে থাকে… এমতাবস্থায় হার্টের ইলেকট্রিক্যাল এক্টিভিটি শুরু হতে পারে…অতিরিক্ত এড্রিন ইঞ্জেকশন ব্যবহারের কারণেও এমন হতে পারে… এভাবেই আবার হার্টটি সচল হয়ে যায়… রোগী সুস্থ হয়ে ওঠে… ১৯৮২ সালের পর ৩৮ জন রোগীর ক্ষেত্রে এমন ঘটনা ঘটেছে…তবে, এভাবে সুস্থ হওয়া রোগীর অনেকেই কয়েক ঘন্টা বা কয়েক দিন পরে মারা যায়!
তবে, ল্যাজারাস সিন্ড্রোমের সঠিক কারণ এখনো জানা যায়নি। উপরের কারণ অনুমান নির্ভর!
একবিংশ শতাব্দীত শুরুতেই Lazarus Syndrome-এর তিনটি ঘটনা বিজ্ঞানীদের আরও কোতূহলী করে তুলেছে। আর ২০১১ সালে পরপর এমন দুটি ঘটনায় তো রীতিমতো হইচই পড়ে গিয়েছে। এ ব্যাপারেও বিজ্ঞানীরা একমত, যে কাগজে-কলমে হিসাব ছাড়াও প্রতি বছরে পৃথিবীতে অন্তত একবার Lazarus Syndrome-এর ফলে মানুষ পুনর্জীবন ফিরে পাচ্ছে। বেশিরভাগ সময়ই সেসব চাপা পড়ে যায় ভীতি, কুসংস্কার, হিংসা, লোভ ইত্যাদি ঘটনায়। যেমন- মৃত বাবা পুনর্জীবন লাভ করার পর সম্পত্তির লোভে তাঁকে জোর করে মেরে ফেলার ঘটনা অন্তত চারবার ঘটেছে।
কিছু ল্যাজারাস সিন্ড্রোমের ঘটনাঃ
১/ বাড়ির লনে দাঁড়িয়ে ৬৫ বছর বয়স্ক মি. এনজি সুই হোক তাঁর ৭০ বছর বয়স্ক বড়ভাইয়ের সাথে ঝগড়া করছিলেন। দেখতে দেখতে তা হাতাহাতির পর্যায়ে চলে গেল। তাঁর বৃদ্ধ হৃৎপিণ্ড বেশি উত্তেজনা সহ্য করতে পারলনা। তিনি স্ট্রোক করলেন।
পেনাং হাসপাতাল কাছেই, সেখানে নিয়ে যাওয়া হল মি. হোক কে। কিন্তু ডাক্তারদের সব চেষ্টা ব্যর্থ। তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হল। তখন দুপুর বারোটা।
দুপুর দুইটার দিকে মি. হোক-এর ছেলে ও স্ত্রী পুলিশের কাছে গেল ডেথ সার্টিফিকেট তৈরী করতে। সার্টিফিকেট তৈরী করা মাত্র শেষ হয়েছে, এই সময় পেনাং হাসপাতাল থেকে ফোন এল। মি. হোক বেঁচে উঠেছেন। এখনও জ্ঞান ফেরেনি, তবে শ্বাস প্রশ্বাস স্বাভাবিক। পড়ি কি মরি করে মা-ছেলে ছুটে গেল হাসপাতালে। যাঁকে ঘণ্টা দুয়েক আগে সাদা কাপড়ে মুড়িয়ে মর্গে নেয়ার ট্রলিতে নেয়া হয়েছিল, তাঁকে পুনরায় আইসিইউতে নেয়া হয়েছে, বুক শ্বাস-প্রশ্বাসে উঠানামা করছে।
২/ ২০১৫ সালের ১৮ই মে ঢাকার মীরপুরের রাইনখোলায় মারা যান রাশিদা বেগম । কবর দেওয়ার আগে প্রথা অনুযায়ী তাকে গোসল দেওয়া হয় । কিন্তু গোসল দেওয়ার সময় তার হৃদপিন্ড চালু হয়ে যায় , তিনি উঠে বসেন , আশেপাশের লোকদের কাছে পানি চান , পানি পান করেন এবং আবার মারা যান ।
৩/ একই রকম ঘটনা ঘটে ২০১৫ শালের ৩০ জানুয়ারি । ঢাকা মেডিকেলে সুলতানা আক্তার এর এক ছেলে জন্ম নেয় । জন্মের পরপরই প্রথমবারের মত মারা যায় বাচ্চাটি । আজিমপুর কবরখানায় নেওয়া হয় তাকে । গোসল করানোর আগে বাচ্চাটি বেচে ওঠে । দ্রুত তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় । ২ দিন পরে বাচ্চাটির দ্বিতীয় এবং চূড়ান্ত মৃত্যু হয়
এরকম আরো অনেক উদাহরণ আছে…
ল্যাজারাস সিনড্রোমে আক্রান্ত রোগীরা দ্বিতীয়বার জীবন ফিরে পেলেও সেই জীবন দীর্ঘদিন ধরে উপভোগ করেন –এমন উদাহরন খুবই কম ।
——
ফিরে এসো গালিবা…তোমার মা বাবার কোলে…না হয় নতুন কোন নাম নিয়ে…পূর্ণ হোক তোমার মা বাবার শূন্য কোল। আমিন

cc.Dr.Saklayen Russel




No Comments to “মৃত গালিবা হায়াত ল্যাজারাস সিনড্রোম এর জন্য কি দিব্বি জেগে উঠেছিল…!”

Comments are closed.