সরিষাবাড়ী প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের বেহাল দশা



  • Add Comments
  • Print
  • Add to Favorites

সরিষাবাড়ী প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের এখন বেহাল দশা। নানা সমস্যায় জর্জড়িত হয়ে ও যত্নের অভাবে প্রতিবন্ধী পুনর্বাসন কেন্দ্রটি নিজেই প্রতিবন্ধী হয়ে পড়েছে।

২০০০ সালে ৩৫ শতক জমির ওপর ৩০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে এ প্রতিষ্ঠানটির যাত্রা শুরু হয়। ২০০৩ সালে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীনে নিবন্ধিতও হয়। বর্তমানে এটি জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন ও জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদের আর্থিক সহযোগিতায় পরিচালিত হচ্ছে। এখানেই ২০০৭ সালে বিশেষ অলিম্পিকে স্বর্ণপদক পাওয়া ২ জনের লেখাপড়া হাতেখড়ি। ২০১৫ সালে বিশেষ অলিম্পিকে পদক পাওয়া ১৩ বাংলাদেশির মধ্যে ৭ জনই এ বিদ্যালয়ে পড়েছেন। আর সেই প্রতিষ্ঠানের সবচেয়ে বড় সমস্যা খেলাধুলা নিয়েই। খেলার মাঠ থাকলেও বছরের অর্ধেক সময় সেখানে পানি জমে থাকে। এটি প্রতিবন্ধীদের জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হলেও তাদের উপযোগী শ্রেণিকক্ষ ও শিক্ষা উপকরণের অভাব এখানে অত্যন্ত প্রকট। নেই আবাসন ও যানবাহন ব্যবস্থা। এ বিদ্যালয়টিতে ১২ জন শিক্ষক ও ৬ জন কর্মচারী রয়েছেন। এখানে প্রথম থেকে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত ২ শতাধিক শিক্ষার্থী রয়েছে। এখানে বাক, দৃষ্টি, শ্রবণ ও শারীরিক প্রতিবন্ধী এসব ছেলেমেয়েদের নানা বিষয়ে পাঠদান দেয়া হয়। প্রাথমিক শিক্ষার পাশাপাশি রয়েছে বিশেষ শিক্ষা। এ ছাড়া সেলাই কাজ ও মোমবাতি তৈরির মতো বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের পাশাপাশি রয়েছে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও বিভিন্ন খেলাধুলার ব্যবস্থা। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনিছুর রহমান বলেন, বিদ্যালয়ের খেলার মাঠটি নিচু হওয়ার কারণে পানি জমে থাকে। ফলে বছরের ৬ মাসই শিক্ষার্থীরা মাঠে খেলাধুলা করতে পারে না। অথচ এ বিদ্যালয়েরই বিশেষ অলিম্পিকে ২০০৭ সালে চীনের সাংহাই থেকে আশরাফুল আলম (ক্রিকেট) ও আরিফুল ইসলাম (অ্যাথলেটিকস) স্বর্ণপদক লাভ করেন। ২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত বিশেষ অলিম্পিকে বাংলাদেশের মোট ১৩ জন পদক পান। তাদের মধ্যে ৮ জনই সরিষাবাড়ী প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের। তারা হলেন- আশরাফুল আলম, উলাস মিয়া, মাহফুজুর রহমান, সাইফুল ইসলাম, জহির রায়হান, কানিজ ফাতেমা, রতন মিয়া ও মুন্নী আক্তার। অথচ বিদ্যালয়ের যে মাঠে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে সেটিই ৬ মাস জলাবদ্ধ থাকে। মাঠটি কবে ঠিক হবে কেউই বলতে পারে না। এ ব্যাপারে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মন্টুলাল তেওয়ারী বলেন, উপযুক্ত শিক্ষা পেলে প্রতিবন্ধী ছেলেমেয়েরা আরো দেশের জন্য গর্ব বয়ে আনতে পারবে। কিন্তু পর্যাপ্ত উপকরণ ও সুযোগ-সুবিধা না থাকায় শিক্ষার্থীদের ঠিকমতো শেখানো যাচ্ছে না।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইয়েদ এ জেড মোরশেদ আলী জানান, পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় ওই বিদ্যালয়ের সমস্যাগুলো সমাধান করা যাচ্ছে না। তবে এ বছর বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় বরাদ্দ পাওয়ার চেষ্টা করা হবে।




Tags:

No Comments to “সরিষাবাড়ী প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের বেহাল দশা”

Comments are closed.