সার্জিক্যাল যন্ত্রপাতি খাতে দেশীয় উদ্যোক্তা সংকট



  • Add Comments
  • Print
  • Add to Favorites

ডেস্ক রিপোর্ট :
বছরজুড়ে চাঙ্গা থাকে চিকিৎসায় ব্যবহৃত সার্জিক্যাল যন্ত্রপাতির বাজার। দেশীয় বাজারে এসব যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জামাদির ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। কিন্তু খাতটি আমদানিনির্ভর। কারণ এ খাতে দেশীয় উদ্যোক্তা তৈরি হয়নি বললেই চলে। ফলে আমদানিকারকসহ খুচরা বিক্রেতারা হতাশায় ভুগছেন বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

মেডিক্যাল ইকুইপমেন্ট, ডিভাইসেস, ডিসপোজেবল, ইলেক্ট্রো-মেডিক্যাল ইকুইপমেন্ট ও টেকনোলজি, ল্যাবরেটরি ইকুইপমেন্ট, সার্জিক্যাল ইকুইপমেন্ট ও এক্সেসরিস, ডেন্টাল ও ডায়াগনস্টিক ইকুইপমেন্ট এবং অ্যাকসিডেন্ট ও ইমারজেন্সি ইকুইপমেন্ট রোগীর চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয়। এগুলোর বেশির ভাগ যন্ত্রই আমদানি করতে হয় । দেশে এ সব যন্ত্র তৈরির প্রতিষ্ঠান রয়েছে মাত্র তিন থেকে চারটি। আর এ তিন চারটি প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন, চাহিদার তুলনায় খুবই কম।

এ খাতের সমস্যা ও সম্ভানা নিয়ে কথা হয় দেশের সবচেয়ে বড় সার্জিক্যাল বা মেডিক্যাল যন্ত্রপাতির মার্কেট বিএমএ সার্জিক্যাল মার্কেটের মালিক সমিতির আহ্বায়ক মো. আকরাম হোসাইনের সঙ্গে। তিনি জানান, সার্জিক্যাল বা মেডিক্যাল যন্ত্রপাতির অধিকাংশই চীন, জার্মানি ও ইংল্যান্ড থেকে আমদানি করা হয়। এর মধ্যে শুধু চীন থেকেই ৭৫ শতাংশ আসে। তবে সব ধরনের কাঁচি (সিজার)পাকিস্তান থেকে আমদানি করা হয় বলে জানান এ খুচরা ব্যবসায়ী।

আকরাম হোসাইন বলেন, ‘রাজধানীর তোপখানা রোডের বিএমএ মার্কেটে প্রায় ১২০টি দোকান আছে। সব ব্যবসায়ীরাই এসব যন্ত্রপাতি আমদানি করছেন। দেশীয় উদ্যোক্তারা এ খাতে না আসার কারণে আমরা হতাশ।’

কেন এই হতাশা- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমদানিকৃত যন্ত্রের দাম বেশি। আবার প্রত্যেকটি যন্ত্রের ওপর ১৫ শতাংশ করের বোঝা তো আছেই। অন্যদিকে এলসির মাধ্যমে যন্ত্রের অর্ডার দেওয়া হলে অনেক সময় নিম্মমানের সার্জিক্যাল যন্ত্রপাতি বাংলাদেশে আসে। এগুলো ব্যবসায়ীসহ ক্রেতাদের জন্যও ক্ষতিকর।’

এ খাতের আরেক ব্যবসায়ী মেডি প্লাস সার্জিক্যালের সত্ত্বাধিকারী হোসাইন শহিদ বলেন, ‘আমদানিকৃত যন্ত্রাংশ অনেক সময় নিম্মমানের হয়ে থাকে। এর ফলে হাসপাতাল বা বাসায় ব্যবহারকারীরা দুর্ভোগের শিকার হন। এমনকি প্রাণও হারাতে হয় অনেক রোগীকে।’

এই সমস্যা থেকে উত্তরণের উপায় সর্ম্পকে তিনি বলেন, ‘দেশীয় শিল্প উদ্যোক্তারা যদি এ খাতে বিনিয়োগ করেন, তাহলে দেশেই এসব যন্ত্রপাতি উৎপাদন সম্ভব। তখন পরীক্ষিত মানের যন্ত্র ব্যবহার করতে পারবেন রোগীরা।’

মেডিক্যাল ইকুইপমেন্টের চাহিদা প্রসঙ্গে রাজধানীর তানিয়া সাইন্টিফিক অ্যান্ড সার্জিক্যালসের মালিক এস এম আলম বলেন, ‘শুধু বিএমএ মার্কেটেই প্রতিবছর প্রায় সাড়ে ৩০০ কোটি টাকার যন্ত্রাংশ বিক্রি হয়। ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। কিন্তু পুরোটাই বিদেশনির্ভর।’

সেমস্ বাংলাদেশের ম্যানেজিং ডিরেক্টর মেহেরুন ইসলাম বলেন, ‘ভালো স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার লক্ষ্যে প্রতিবছর বাংলাদেশ থেকে বহু লোক দেশের বাইরে যায়। এতে প্রতিবছর প্রায় ৩০০ কোটি টাকা বিদেশে চলে যায়। কিন্তু দেশে উন্নত চিকিৎসাসেবা এবং উন্নতমানের যন্ত্রপাতির সরবরাহ থাকলে দেশের টাকা দেশেই থাকবে।’

জানা যায়, দেশের বিভন্ন প্রান্তে অনুমোদনবিহীনভাবে সার্জিক্যাল সামগ্রী উৎপাদন ও বাজারজাত করা হয়। এসব পণ্য ব্যবহার করে ইতমধ্যেই অনেক রোগী ইনফেকশনের শিকার হয়েছেন।

মেডিক্যাল যন্ত্রপাতি ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের ব্যান্ডেজের কাপড়ও আমদানি করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে, এলডি এক্সক্লুসিভ বেল্ড (অপারেশনের পর কাটা জায়গায় ব্যবহারের জন্য), এলডি ও আরডি প্যাড, এলডি কটন (যেকোনো রকমের অপারেশন কিংবা কাটা বা ক্ষতস্থান ড্রেসিংয়ে ব্যবহারের জন্য) এবং এলডি ব্যান্ডেজ বা পাতলা মসৃন কাপড় (যে কোনো ধরনের ব্যান্ডেজের কাজে ব্যবহারের জন্য)।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী সার্জিক্যাল এসব পণ্য উৎপাদনের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ম্যানুফ্যাকচারিং লাইসেন্স, উৎপাদন ও বাজারজাতের জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সনদ, প্রতিটি পণ্যের রেজিস্ট্রেশন ট্রেডমার্ক সনদ ও ডিজাইন ট্রেড মার্ক, মান নিয়ন্ত্রণের জন্য বিএসটিআই ছাড়পত্র, টিআইএন বা আয়কর সনদ, ফায়ার সার্ভিসের অনুমতি ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র প্রয়োজন।

সূত্র: রাইজিংবিডি




No Comments to “সার্জিক্যাল যন্ত্রপাতি খাতে দেশীয় উদ্যোক্তা সংকট”

Comments are closed.