স্ট্রোকপরবর্তী পুনর্বাসন চিকিৎসা

0
13

  ডা. এম ইয়াছিন আলী

বিশ্বজুড়ে স্ট্রোক এক আতঙ্কের নাম। এক পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, প্রতি ৩ সেকেন্ডে একজন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়। এদের বেশিরভাগই আবার মৃত্যুবরণ করে। এ ছাড়া নন কমিউনিকেশন ডিজিজ হিসেবে স্ট্রোক মৃত্যুর তৃতীয় কারণ বলে ধরা হয়। স্ট্রোক দুভাবে হয়ে থাকেÑ ইসকেমিক স্ট্রোকের ক্ষেত্রে ব্রেইনের অভ্যন্তরীণ রক্ষানালিগুলোর মধ্যকার রক্ত সঞ্চালন কমে গেলে এ স্ট্রোক হয়। হেমোরিজিক স্ট্রোকের ক্ষেত্রে ব্রেইনের অভ্যন্তরীণ রক্তনালি ছিঁড়ে গিয়ে ব্রেইনের অভ্যন্তরে রক্তক্ষরণের কারণে হয়। এতে আক্রান্ত স্থানের টিস্যুগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে রোগীর বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়। যেমনÑ শরীরের একপাশ ঝিম ঝিম বা অবশ অবশ মনে হওয়া অথবা শক্তি কমে যাওয়া, মুখ বেঁকে যাওয়া বা আক্রান্ত পাশের হাত-পা নাড়াতে না পারা ইত্যাদি। তবে ইস্কেমিক স্ট্রোক ও হেমোরেজিক স্ট্রোকের উপসর্গ একই। ফলে রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে ব্রেইনের সিটিস্ক্যান বা এমআরআই করে নিতে হয়।যে কোনো রোগের ক্ষেত্রে প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ উত্তম। তাই স্ট্রোকও প্রতিরোধ করতে হবে। এ জন্য উচিত ধূমপান বন্ধ করা, ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করা, চর্বি জাতীয় খাবার না খাওয়া, নিয়মিত ব্যায়াম করা, স্ট্রেস বা দুশ্চিন্তা না করা ইত্যাদি। তবে কেউ স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে পড়লে আক্রান্ত হওয়ার ৪ ঘণ্টার মধ্যে রোগীর রোগ নির্ণয় করার ব্যবস্থা করতে হবে। ইস্কেমিক স্ট্রোকের কারণে প্যারালাইসিস হলে থ্রোম্বো এম্বোলিক এজেন্ট ইনজেকশন আকারে দিলে রোগী দ্রুত সুুস্থ হয়ে উঠতে পারে।

স্ট্রোকপরবর্তী পুনর্বাসন চিকিৎসা : স্ট্রোকে আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। রোগ নির্ণয়ের পর পরবর্তী চিকিৎসা শুরু করতে হবে। এ ক্ষেত্রে চিকিৎসা দুধরনেরÑ ইস্কেমিক স্ট্রোকের ক্ষেত্রে মেডিসিন বা সার্জারি, যা আক্রান্ত ব্যক্তির ব্রেইনের রক্ত চলাচল বৃদ্ধিতে সাহায্য করবে। হোমোরেজিক স্ট্রোকের ক্ষেত্রে রক্ত সরানোর জন্য অপারেশনের প্রয়োজন হতে পারে। পুনর্বাসন চিকিৎসা হলো একটি সমন্বিত চিকিৎসা পদ্ধতি। এ ক্ষেত্রে যেমন ফিজিক্যাল রিহ্যাবিলিটেশন প্রয়োজন, তেমনি প্রয়োজন অকুপেশনাল রিহ্যাবিলিটেশন। কিছু কিছু রোগীর ক্ষেত্রে কথা বলতে অসুবিধা দেখা দেয়। সে ক্ষেত্রে প্রয়োজন স্পিচ অ্যান্ড ল্যাঙ্গুয়েজ পুনর্বাসন। অবশ্য এ চিকিৎসা হওয়া উচিত সমন্বিত চিকিৎসার মাধ্যমে, যাতে রোগী তার সব ধরনের অসুবিধা থেকে মুক্তি পেতে পারে।

লেখক : চেয়ারম্যান ও চিফ কনসালট্যান্টঢাকা সিটি ফিজিওথেরাপি হাসপাতালধানম-ি, ঢাকা।

কনসালট্যান্ট ও বিভাগীয় প্রধান ফিজিওথেরাপি বিভাগপ্র্রো-অ্যাকটিভ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল লিমিটেড। ০১৭৮৭১০৬৭০২