ঝুঁকিপূর্ণ ফিজিওথেরাপি, ক্রিকেটারদের টেস্ট বাধ্যতামূলক

রোগব্যাধি

করোনা ভাইরাসের কারণে বাংলাদেশে স্থগিত রয়েছে সবধরনের ক্রিকেট। অচল ক্রিকেট সংশ্লিষ্ট সবকিছুই। একেবারেই বন্ধ রয়েছে ক্রিকেটারদের ফিজিওথেরাপি। কারণ এটা করতে গেলে ক্রিকেটার ও থেরাপিস্টদের দূরত্ব বজায় রাখা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। থেরাপি নিতে হলে ৯০ ভাগ হাতের সংস্পর্শ লাগেই। আর করোনা ভাইরাসের কারণে ফিজিওথেরাপি ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) চিকিৎসক দেবাশিষ চৌধুরী। পরিস্থিতি উন্নতি হলে, মাঠে ক্রিকেট গড়ালেও কভিড-১৯ ঝুঁকি থেকে যেতে পারে। তাই করণীয় নিয়ে বিসিবির চিকিৎসক বলেন, ‘অবশ্যই ফিজিওথেরাপি বিপজ্জনক ও ঝুঁকিপূর্ণ।

যে কারণে আমাদের কোনো থেরাপিস্ট এ কাজ করছেন না। শুধু মোবাইলে বা ভিডিও কলে পরামর্শ দিচ্ছেন। এই চিকিৎসায় ক্রিকেটার ও থেরাপিস্টদের ৬ ফিট দূরত্ব রাখা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সম্ভব নয়। কারণ থেরাপি শুধু পরামর্শ দিয়েই হয় না, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে হাতের স্পর্শ লাগে। এ জন্য আমরা ঠিক করেছি ক্রিকেটার ও আমাদের প্রাথমিকভাবে টেস্ট করাতে হবে। এর মধ্যে সবাইকে করা হবে এন্টিবডি টেস্ট। আরেকটা হতে পারে কভিড-১৯ টেস্ট। এই দুটি অবশ্যই করাতে হবে নয়তো ঝুঁকিমুক্ত ফিজিওথেরাপি করা যাবে না।’ দেবাশিষ চৌধুরীর এই মতকে সমর্থন দিয়েছেন বিসিবির ফিজিওথেরাপিষ্ট বায়জিদুল ইসলাম খান, খাদেমুল ইসলাম ও সুরাইয়া আক্তার। সঙ্গে কিছু পরামর্শও দিয়েছেন তারা।

তবে ক্রিকেটার. চিকিৎসক, থেরাপিস্ট ও বিসিবি স্টাফদের কভিড-১৯ বা এন্টিবডি টেস্ট করানোর জন্য যেতে হবে বেসরকারি হাসপাতালে। সরকার পরীক্ষার ফি ৩ হাজার টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছে। এ নিয়ে দেবাশিষ চৌধুরী বলেন, ‘আমরা তো আর নিজস্ব ল্যাব বসাতে পারবো না। তাই ভালোমানের বেসরকারি হাসপাতালেই করতে হবে। হ্যাঁ, এটি খুবই ব্যয়হুল। যে কারণে একবারেই সবার টেস্ট করানো সম্ভব হবে না। প্রয়োজন মত করতে হবে। যেমন বিসিবির চুক্তিবদ্ধ যারা তাদের টেস্টগুলো করানো হবে। কিন্তু যারা ঢাকা প্রিমিয়ার লীগ খেলে ও বিসিবির চুক্তিবদ্ধ নয় তাদের টেস্টের দায়িত্ব নিতে হবে ক্লাবগুলোকেই। খেলা মাঠে শুরু হলে তার ওপর ভিত্তি করেই পর্যায়ক্রমে টেস্টগুলো করানো হবে। তবে কিছু টেস্ট শুরুতেই করাতে হবে।’
বিসিবির চিকিৎসক ও থেরাপিস্টদের অবশ্য পিপিই লাগবে না বলে জানালেন দেবাশিষ চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘পিপিই তাদেরই লাগে যারা নিশ্চিত কভিড-১৯ আক্রান্ত রোগির চিকিৎসা করেন। আমাদের মাস্ক ও গ্লাভস হলেই হবে। আর স্বাস্থ্যবিধিগুলো মানতে হবে।

টিকা এলে ঝুঁকি থাকবে না: বায়জিদুল ইসলাম খান
বিসিবির ফিজিও থেরাপিস্ট বায়জিদুল ইসলাম খান বলেন, ‘ঝুঁকি নিয়েই কাজ করতে হবে আমাদের। অবশ্যই বিসিবি সেই ঝুঁকি কাটাতে ব্যবস্থা নেবে। আমি মনে করি, সব ক্রিকেটারের সঙ্গে আমাদেরও টেস্ট করাতে হবে। এতেও যে পুরোপুরি ঝুঁকি চলে যাবে তা নয়। অনেক সময় টেস্ট করানোর পরও ক্রিকেটার বা আমাদের যে কেউ আক্রান্ত হতে পারে। তাই আমি মনে করি, পুরোপুরিভাবে বিপদমুক্ত হওয়া যাবে টিকা আবিষ্কারের পরই। সেই আশায় আছি।’

সব সময় সচেতন থাকতে হবে: খাদেমুল ইসলাম
বিসিবির হাইপারফরম্যান্স ইউনিটের (এইচপি) ফিজিও হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন খাদেমুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘সরকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক ঘোষণার পরই মাঠে খেলা গড়াবে। কিন্তু একেবারেই যে ঝুঁকি থাকবে না, তা বলা মুশকিল। অবশ্যই আমাদের মেডিকেল বিভাগ এ নিয়ে কর্মপরিকল্পনা করছে। আমরা নিজেরাও সতর্ক। নিরাপদ থাকতে হলে টেস্ট করাতেই হবে। সঙ্গে সতর্কতা বজায় রাখা ও নিয়মগুলো মানতে হবে।’

মেয়েদের ঝুঁকিও কম নয়: সুরাইয়া আক্তার
বিসিবির নারী বিভাগের ফিজিও সুরাইয়া আক্তার মনে করেন, নারী ক্রিকেটারদের ঝুঁকি বেশি। তিনি বলেন, ‘ভয় কাজ করে। করোনা ভাইরাস ছোঁয়াচে। এজন্য নারী ক্রিকেটারদের বাসায় থাকতে বলা হয়েছে। কিছু নিয়ম দিয়েছি মেনে চলার জন্য। এরপরও তাদের ঝুঁকি কম নয়। বাসার কাজ, কিংবা পরিবারের কারো দ্বারা আক্রান্ত হতে পারে। আমাদের মেডিকেল বিভাগ অবশ্যই দিক নিদের্শনা দেবে তাদের জন্য। আর টেস্ট করালেই অনেকটা ঝুঁকি কমবে বলে আমি মনে করি আমি।’

Please follow and like us:

Leave a Reply

Your email address will not be published.