আমার প্রিয় কুটিবাসী আমরা করোনায় মরবো, নাকি না খেয়ে মরবো?

মত-দ্বিমত

দয়া করে একটু মনোযোগ দিয়ে আমার লেখাগুলো পড়বেন।
আপনারা কি বাহিরে যাবেন?
আপনাদের কি বেচেঁ থাকার তাগিদে জীবিকা নির্বাহের জন্য বের হওয়া খুবই জরুরী? বাসা থেকে বের না হলে কি কর্মস্থলে যেতে পারবো না? কর্মস্থলে না গেলে কি আমাদের রোজগার হবেনা? আমরা সবাই এখন এসব প্রশ্নের সম্মুখে দাঁড়িয়ে আছি । যেহেতু বেঁচে থাকতে হলে, খেতে হবে, আর খেতে হলে কাজ করতে হবে। সেহেতু রিজিক আপনার আর আহরণের দায়িত্বটা ও আপনারই।

আসুন আমরা সবাই বাঁচি। আমরা সবাই খেয়ে বাঁচি। ঘর থেকে বের হয়ে বাঁচি। তাই আমাদের রিজিক আহরনের আগে, জীবনের সুরক্ষা করা আমাদের এখন খুবই প্রয়োজন। এখন আমরা এমন একটা অবস্থায় বিরাজমান আছি, যেখানে সুরক্ষা না নিলে শেষ রক্ষাটাও যে আমাদের হবে না।

সুরক্ষা বলতে একদম ঘর থেকে বাহিরে না যাওয়া নয়, বাহিরে যাওয়ার আগে আমাদের কিছু নিয়ম চলতে হবে। যেমন মাস্ক পরে, হ্যান্ড গ্লাভস লাগিয়ে, হাঁচি কাশি দেয়ার সময় মুখে রুমাল বা টিস্যু ব্যবহার করতে হবে। চোখে, নাকে, মুখে হাত লাগানো যাবে না। হাত ভালো করে ধুয়ে মুখে হাত দিতে হবে। সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে চলতে হবে। কিছুক্ষণ পরপর হাত ভালো করে সাবান দিয়ে ধুতে হবে। এভাবেই নিয়মগুলো মেনে চলতে হবে। এসব কিন্তু আসলে খুব বেশী একটা কঠিন কাজ নয়। এ কাজগুলো কিন্তু আমরা অন্যের জন্য করবোনা আমরা আমাদের নিজের জন্যই করবো।

নিজেকে বাচাঁতে, পরিবারকে বাচাঁতে, সমাজকে বাচাঁতে, দেশের মানুষকে বাচাঁতে। জীবন তো একটাই, সামান্য একটু সুরক্ষার একটু নিয়ম কানুন সরকারের দেয়া নির্দেশ মতে চললেই কিন্তু আমরা ভালো থাকতে পারি।

আমরা দেখছি বিশ্ব স্বাস্থ্যসংস্থা (WHO) পর্যবেক্ষনে জানা যায়, শুধুমাত্র মাস্ক ব্যবহার করেই ৯৫% পর্যন্ত কোভিড১৯ করোনা ভাইরাস এর জীবাণু প্রতিরোধ করা সম্ভব।

আবার বর্তমান সময়ে আমাদের দেশে আবহাওয়ার পরিবর্তন হলে অনেকের দেখা যায় জ্বর, ঠান্ডা, কাশি, গলা ব্যাথা ইত্যাদি রোগ হয়।
এসব নিয়ে আমরা যেন ভয় না পাই। প্রাথমিকভাবে ঘরোয়া চিকিৎসা চালাতে হবে অথবা ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। তাহলেই দেখবেন অল্পতেই সমাধান পেয়ে যাবেন। আসুন আমরা আতংকিত না হয়ে, সবাই সচেতন হই।

আমাদের যাদের মধ্যে জ্বর, ঠান্ডা, কাশি, গলা ব্যাথা, ডায়রিয়া, বমি এসব উপসর্গ রয়েছে। তারা আতংকিত হবেন না। করোনা টেস্ট করুন এবং সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত শুধু আপনারা বাসায় একটি আলাদা ঘরে থাকুন। নিয়মিত ডাক্তারের পরামর্শ মতে ঔষধ খান নিয়মকানুন মেনে চলুন, মাত্র ১২-১৪ দিন বাসার মধ্যে একটি ঘরে থাকুন। দেখবেন খুব তাড়াতাড়ি আল্লাহ চাইলে সুস্থ হয়ে যাবেন।
আপনার ঘরে খাবার না থাকলে, একদমই সামর্থ্য না থাকলে, দায়িত্ব নিচ্ছি কেবল আপনাদের পরিবারের।
আমাদেরকে জানান। আমরা জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতা নিয়ে, আমাদের কুটির সকল সংগঠন মিলে আপনাদের ঘরে খাবার পৌছে দিবো আমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী।
সবাই যেন আমরা মনে রাখিঃ-
প্রয়োজন হলে নিয়মকানুন মেনে বাহিরে যাবো, আর ঘরে থাকলে সবাই ভালো থাকবো। ধন্যবাদ।

ইখলাস উদ্দিন জয়
পরিচালনা সদস্য
আলোকিত মানুষ সামাজিক সংগঠন

Please follow and like us:

Leave a Reply

Your email address will not be published.